সর্বশেষ সংবাদ: |
  • ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আজ রোববার সকাল থেকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুরু হয়েছে
  • গাজীপুরের টঙ্গীর আরিচপুরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজন হাসপাতালে
  • নির্বাচনের মাঠ এখনও লেভেল প্লেয়িং হয়নি: ড. কামাল
  • প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না নির্বাচন কমিশন, প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিতে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে ছাড় নয় : কমিশনার শাহাদাত
  • বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে ১৮ নভেম্বর, প্রথম দিন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ

শিশুদের সাথে যৌনতায় আগ্রহী ব্যক্তিদের ফাঁদে পেলেন যে নারী

১১ জুলাই,২০১৮

শিশুদের সাথে যৌনতায় আগ্রহী ব্যক্তিদের ফাঁদে পেলেন যে নারী

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: প্রতি সন্ধ্যায় চেলসি হান্টার (কাল্পনিক নাম) তার সন্তানদের স্কুল থেকে বাসায় এনে রাতের খাবার খাওয়ানোর পর ঘুম পাড়িয়ে তার আরেক জীবন শুরু করেন। পরিচয় গোপন করে স্কুলের বালিকা সেজে বয়স্ক পুরুষদের সাথে ইন্টারনেটে চ্যাট করেন তিনি।

অনলাইনে শিশুদের ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে যৌন ব্যবসা করছেন, অন্ধকার জগতের সে গল্প তিনি বিবিসিকে বলেন।

যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে ১৪ বছর বয়সী একটি বালিকার সাথে দেখা করার কথা ছিল আব্দের রফ কুতেইনেহ’র।

৭৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দু’সপ্তাহ আগে অনলাইনে বন্ধুত্ব করেন ঐ বালিকার সাথে। এ সময়ের মধ্যে শতাধিক অশালীন মেসেজ পাঠান ঐ বালিকাকে।

একটি রেল স্টেশনে বালিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু তার বদলে সেখানে ৩৫ বছর বয়সী হান্টারকে পান তিনি।

হান্টারের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যেসবের ভিত্তিতে উইন্ডসরের কুতেইনেহ’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কেন্টের বাসিন্দা চেলসি হান্টার প্রায় এক বছর ধরে দ্বৈত জীবনযাপন করছেন। সন্তানদের লালন পালন আর ঘরের কাজে পার হয় তার দিন। রাতে তার পরিচয়, ১৪ বছর বয়সী ক্লো।

হান্টার ও তার স্বামী ‘শ্যাডো হান্টার’ নামের একটি সংঘের সদস্য।

এই সংঘের সদস্যরা অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সাথে যৌনসম্পর্ক করতে চাওয়া পুরুষদের সাথে কমবয়সী মেয়ে সেজে কথা বলে এবং তাদের সাথে দেখা করতে বিভিন্ন জায়গায় যায়।

সংগ্রহ করা প্রমাণ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনেকক্ষেত্রে পুলিশ হাতেনাতেও ধরতে সক্ষম হয় খদ্দেরকে।

যৌন কাজে শিশু ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে এই ধরনের সংঘের কার্যক্রম সাধারণত পুলিশ সমর্থন করে না।

শ্যাডো হান্টারের সংগ্রহ করা তথ্য-প্রমাণে মূলত অভিযুক্ত ব্যক্তির অনলাইন চ্যাট হিস্ট্রি বা ভিডিও লগ হয়ে থাকে।

হান্টার বলেন, অনলাইনে আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত ছদ্মবেশ নিচ্ছেন ততক্ষণ আপনি জানতেও পারবেন না।

২০’এর কোঠা থেকে ৭০’এর কোঠায় হয়ে থাকে খদ্দেরদের বয়স।

হান্টার বলেন, যারা পুলিশের কাছে ধরা পড়েন তাদের পরিবারের জন্য খুবই লজ্জাজনক এক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ শুরুতেই পুলিশ তাদের বাসা থেকে ঐ ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের মত সব যোগাযোগের যন্ত্র জব্দ করে, যা ব্যক্তির পরিবারকেও অসম্মানজনক অবস্থায় ফেলে।

আগস্ট থেকে শ্যাডো হান্টারে যাোগ দেয়ার পর ৫০ জনেরও বেশী পুরুষের সাথে, যারা শিশুদের সাথে যৌনসম্পর্ক করতে চায়, অনলাইনে চ্যাট করেছেন হান্টার।

হান্টার জানান তার সংগ্রহ করা প্রমাণ যেন আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য বেশকিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় তাকে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা কাউকে অনুরোধ পাঠাই না; তারা আমাদের সাথে বন্ধু হতে চায়।

হান্টার আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বন্ধু হওয়ার পরও আমরা শুরুতে তাদের কোনো মেসেজ পাঠাই না। প্রথমেই আমরা তাদেরকে আমাদের (ছদ্ম)বয়স জানাই এবং তাদের কাছে জানতে চাই তারা এতে খুশী কিনা। নিয়ম অনুযায়ী আমরা স্বাভাবিকভাবেই চ্যাট করি তাদের সাথে। তারাই আলোচনা যৌন সংক্রান্ত বিষয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকে এবং অধিকাংশ সময় দেখা করতে চায়। এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমরা কখনো উস্কানি দেই না।

বিবিসিকে সেসব চ্যাটের বেশকিছু স্ক্রিনশট দেখান হান্টার যার অধিকাংশই প্রকাশের যোগ্য নয়।

বিভিন্ন সময় শ্যাডো হান্টারের কাজের এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো।

তবে শ্যাডো হান্টার মনে করে, যারা এবাবে শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক করতে চায়, তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সাহায্য প্রয়োজন।

শ্যাডো হান্টার বলেন, অবশ্যই এটি পুলিশের কাজ, কিন্তু তাদেরও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এমনকি তারাও আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে আমরা যে পদ্ধতিতে কাজ করি সেটি তাদের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এসব লোকেরা একটি শিশুকে যে ধরণের মেসেজ পাঠায় সেটি তার শৈশব ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।

হান্টার বলেন, আমার মতে এই ধরণের মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশের যথেষ্ট কার্যক্রম নেই। আমরা যেসব মাধ্যম ব্যবহার করি তারা তা ব্যবহার করে না। এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমি যদি কোনো ভূমিকা রাখতে পারি তাহলে আমি তাই করবো, সেটি পুলিশের ভালো লাগুক আর না লাগুক।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

ন্যাটোকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনমস্কো: রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সেনা সমাবেশ ঘটানোর ব্যাপারে আমেরিকা ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্ . . . বিস্তারিত

‘চীন-রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাবে আমেরিকা’

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিঙটন: গোটা বিশ্বের উপর মার্কিন সামরিক আধিপত্যের জমানা কি এ বার শেষ হতে চলেছে? শক্তিধর হিসা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com