সর্বশেষ সংবাদ: |
  • বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রার্থিতা বৈধ করবে বলে জানিয়েছেন আদালত, অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পর আদেশ
  • তিন আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি চলছে
  • সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধান, ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দায়বদ্ধ নির্বাচন কমিশন : সিইসি

ব্রেক্সিট সঙ্কটের নতুন মাত্রা: বরিস জনসনের পদত্যাগ

১০ জুলাই,২০১৮

সঙ্কট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
লন্ডন: ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেছেন। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সঙ্কট এখন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

না-আঁচড়ানো এলোমেলো সোনালি চুলের বরিস জনসন লন্ডনের সাবেক মেয়র, ব্রিটিশ রাজনীতির এক জনপ্রিয় এবং বর্ণাঢ্য চরিত্র - যার চটকদার কথা এবং বিচিত্র কর্মকান্ড প্রায় সবসময়ই সংবাদপত্রে খবর হয়।

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নে যখন গণভোট হয়েছিল - তখন এই বরিস জনসনই ছিলেন ইইউ ত্যাগের সমর্থক শিবিরের প্রধান নেতা।

২০১৬ সালের ওই গণভোটে ইইউ ত্যাগের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়ে।

এর পর সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন, এবং থেরেসা মে নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়ে বরিস জনসনকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তার নতুন ব্রেক্সিট বিষয়ক পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর থেকেই তার কনসারভেটিভ পার্টির এমপিদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

বলা হয়, বরিস জনসন এবং তার অনুগামীরা ইইউ থেকে ব্রিটেনের প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছেদের পক্ষে, যাতে ইউরোপ থেকে অবাধ অভিবাসন এবং ব্রিটেনের ওপর ব্রাসেলসের কর্তৃত্ব বন্ধ হয়। এদের বলা হয় 'হার্ড বেক্সিট' গ্রুপ ।

আর অন্য পক্ষকে বলা হয় 'সফট ব্রেক্সিট' পক্ষ - এরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার বিরোধী, তারা চান ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে ব্রিটেন যে সুবিধাগুলো পায় সেগুলো অব্যাহত রাখতে - যাতে তাদের ভাষায় ব্রিটেনে কর্মসংস্থান এবং ইইউ-ব্রিটেন ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তাই গণভোটের পর থেকেই ব্রিটেনে এ বিতর্ক চলছে যে ব্রিটেন ইউরোপ থেকে কতটুকু আলাদা হবে এবং কিভাবে তার বাস্তবায়ন হবে। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যা্গ করবে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ।

এখন থেরেসা মে ব্রেক্সিটের যে পরিকল্পনা দিয়েছেন তার সমালোচনা করে কড়া ব্রেক্সিটপন্থীরা বলছেন, এতে ইউরোপকে খুব সহজে অনেক বেশি ছাড় দেয়া হয়েছে। এর পর প্রথম পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডেভিড ডেভিস।

তার কথা, এ পরিকল্পনায় তিনি বিশ্বাস করেন না, তাই এর পক্ষ নিয়ে ব্রাসেলসের সাথে ব্রেক্সিটের আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এর কয়েক ঘন্টা পরই পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিটের পক্ষের মূল নেতা বরিস জনসন - যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও থেরেসা মে'র ব্রেক্সিট পরিকল্পনার সমালোচনা করে চলেছিলেন, কিন্তু সরকার ছেড়ে যান নি।

বিবিসির বিশ্লেষক লরা কুয়েন্সবার্গ বলছেন, বরিস জনসনের বিদায়ের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেনা মে এক অপ্রস্তুত এবং কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছেন, এবং এটা এখন পূর্ণাঙ্গ সংকটে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলছেন, এর ফলে হয়তো কড়া ব্রেক্সিটপন্থী শিবির থেকে মে'র নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তাকে এই বার্তা দেয়া হয়েছে যে তিনি তার পরিকল্পনা ত্যাগ না করলে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন।

বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, জনসন এবং ডেভিস সরকারের ডুবন্ত জাহাজ থেকে নেমে গেছেন এবং মে তার দলে ঐক্য আছে বলে যে বিভ্রম তৈরি করে রেখেছিলেন - তা ভেঙে পড়েছে।

এরকম সংকটের মধ্যে মে কিভাবে তার সরকারকে টিকিয়ে রাখেন এটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

ইহুদিবাদী ইসরাইলকে বায়তুল মোকাদ্দাসের মর্যাদাহানি করতে দেয়া হবে না: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইস্তাম্বুল: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, ‘গোটা বিশ্বের মুসলমানরা . . . বিস্তারিত

গৃহযুদ্ধের পর বসনিয়ায় এমপি নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন হিজাবী নারী বেগিজা স্মাজিক 

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনসারায়েভো: বসনিয়ার জাতিগত গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম দেশটির হিজাব পরিহিত কোনো নারী আইনপ্রণ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com