একাধিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজ শপথ নিচ্ছেন এরদোগান

০৯ জুলাই,২০১৮

একাধিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজ শপথ নিচ্ছেন এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
আঙ্কারা: তুরস্কের নতুন নির্বাহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ শপথ নিচ্ছেন রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সোমবারের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিতে কয়েক ডজন বিদেশি নেতারা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের সম্মানিত ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলো- রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

নতুন ব্যবস্থায় ৬৪ বছর বযসী এরদোগান রাষ্ট্রীয় নির্বাহী শাখাকে নেতৃত্ব দিবেন এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন বিচারপতিদের নিয়োগ কিংবা বরখাস্ত করার অধিকারী হবেন।

এছাড়াও, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা সহ কার্যনির্বাহী আদেশ জারি করা এবং জরুরি অবস্থা আরোপ করার ক্ষমতা পাবেন প্রেসিডেন্ট। নতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী পদের বিলুপ্তি ঘটবে।

সোমবার সন্ধ্যার কিছু পরে তিনি তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন।

এরদোগান পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছেন যে নতুন মন্ত্রিসভায় তার জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) কোনও সদস্য বা সংসদ সদস্য থাকবে না। প্রাক্তন রাজনীতিবিদ ও আমলাদের নিয়ে নতুন এই মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে বলে তার কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

২৪ জুনের নির্বাচনে ৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদে জয়ী হন এরদোগান। সংসদীয় নির্বাচনে একে পার্টি ৪২.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, তার মিত্র ডানপন্থী ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) পেয়েছে ১১.১ শতাংশ ভোট, যা পার্লামেন্টে দুই দলের এই জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছে।

চেক এবং ব্যালেন্স
প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোগান বার বার জোর দিয়ে বলেছেন, একটি শক্তিশালী নির্বাহী প্রেসিডেন্সি একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে; যা দেশটিকে দৃঢ়ভাবে ভবিষ্যতের জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুমতি দেবে।

যাইহোক, বিরোধী দলগুলো, তুরস্কের পশ্চিমা মিত্ররা এবং অন্যান্য সমালোচকরা বলছেন, প্রয়োজনীয় চেক এবং ব্যালেন্স ছাড়া এই সিস্টেম ‘এক ব্যক্তির শাসনে’ পরিণত হবে।

এরদোগানের নতুন মেয়াদ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরমধ্যে রয়েছে সুদের উচ্চ হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন ডলার বিপরীতে তুর্কি মুদ্রা লিরার ক্রমবর্ধমান অবমূল্যায়ন।

অর্থনীতির অধ্যাপক এবং কলামিস্ট টেনের বারকোস মনে করেন, সুদের হার কমিয়ে দেয়া নতুন সরকারের জন্য একটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার হবে।

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুল থেকে আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি দূর করার জন্য বর্তমানে প্রকৃত সুদের হার যথেষ্ট নয় এবং আমাদের দেখতে হবে নতুন অর্থমন্ত্রী এব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয়।’

বারকোশি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে নতুন সরকারের হস্তক্ষেপের ওপর সুদের হার কমার বিষয়টি নির্ভর করবে।

জরুরি অবস্থা
নির্বাচনে এরদোগানের আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিল- নির্বাচনের পর জরুরি অবস্থা তুলে দিবেন। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

রবিবার ১৮ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে ১০ লাখেরও বেশি লোককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি বার বার আটক এবং বরখাস্তের নিন্দা করেছে। তারা অভিযোগ করেন, বিরোধীদের শাস্তি দিতে আঙ্কারা জরুরি অবস্থাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

আল জাজিরা অবলম্বনে

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

ভারতের ‘দাম্ভিক’ প্রতিক্রিয়ায় আমি হতাশ: ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইসলামাবাদ:পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্তে ভারতের কঠোর সম . . . বিস্তারিত

আঙ্কারায় মার্কিন ব্যবসায়িকদের সাথে এরদোগানের বৈঠক সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনআঙ্কারা: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে বুধবার তুরস্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com