ব্রেকিং সংবাদ: |
  • আমি নিজ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারি না: মাহাথির
  • বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে বলে গণতন্ত্র বন্ধ থাকেনি: কাদের
  • মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আসুন ঐক্যবদ্ধ হই: ফখরুল

রক্ত পিপাসু মার্কিন-ইসরাইলের হিংস্রতায় রক্তাক্ত গাজায় আরও সহিংসতার আশঙ্কা

১৫ মে,২০১৮

রক্ত পিপাসু মার্কিন-ইসরাইলের হিংস্রতায় রক্তাক্ত গাজায় আরও সহিংসতার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
গাজা: গাজা সীমান্তে যখন ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে সোমবার নিহত ৫৮ জন ফিলিস্তিনির জানাজা ও তাদের দাফনের কাজ চলছে তখন সেখানে আজও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর এই দিনটিই ফিলিস্তিনে সবচেয়ে বেশি রক্তপাতের দিন-গত চার বছরে মাত্র একদিনে এতো সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

তাদের দাফন এমন একটি দিনে হচ্ছে যেদিন ইসরাইলিরা তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম দিবস পালন করছে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই দিনটি নাকবা দিবস যার অর্থ ‘বিপর্যয়ের দিন।’ আজ থেকে ৭০ বছর আগে ১৯৪৮ সালের এই দিনটিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কারণে বহু ফিলিস্তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গেলে তারা উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে।

ধারণা করা হয় ১৯৪৮ সালের ওই যুদ্ধের সময় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনিকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল কিম্বা তারা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।

সেসময় ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত শত শত শহর ও গ্রাম ধ্বংস করে ফেলা হয়।

গাজায় ফিলিস্তিনিরা তাদের ফেলে আসা সেই পিতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে গত ছয় সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করে আসছে।

সাধারণত প্রতি বছরের ১৫ই মে ফিলিস্তিনিরা এই নাকবা দিবস পালন করে থাকে।

ধারণা করা হচ্ছে, গতকালের মতো এমন একটি সহিংস দিনের পর আজ নাকবা দিবসে আবারও সহিংসতা হতে পারে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলছে, সংঘাত মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তুত।

ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলোও বলছে, তারা আজ মঙ্গলবারেও বড় ধরনের প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করবে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে নিয়ে গেছে এবং সেদিনই এতো ব্যাপক সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গত কয়েক দশক ধরে জেরুসালেমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান ছিলো তাতে পরিবর্তন ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সমাজ ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

ফিলিস্তিনিরা মনে করে পূর্ব জেরুসালেম হচ্ছে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তারা ইসরাইলকে সমর্থন করছে। কারণ ইসরাইলও জেরুসালেমকে তাদের অবিভাজ্য রাজধানী বলেই মনে করে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে রেখেছে।

পূর্ব জেরুসালেমে তারা গড়ে তুলেছে দু'লাখ ইহুদির জন্যে বহু বসতি।

আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ।

একসময় জেরুসালেমে বহু দেশের দূতাবাস ছিলো। কিন্তু ১৯৮০ সালে ইসরাইল জেরুসালেমকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করার পর বহু দেশ সেখান থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নেয়।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, ৫৮ জন নিহত হওয়া ছাড়াও, আরো ২,৭০০ জন

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা একে উল্লেখ করছে গণহত্যা হিসেবে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়া-মিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইল তার আত্মরক্ষায় গাজার ইসলামপন্থী শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তিনি বলেন, হামাস চেষ্টা করছে ইসরাইলকে ধ্বংস করে দিতে।

ইসরায়েলি বাহিনীর ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল বলেছেন, ‘প্রাচীরের দিকে লোকজন এলে প্রাণঘাতী কিছু হয় না। এর ফলে সেখানে গুলি চালানোর কোন প্রয়োজন হতে পারে না।’

‘অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি প্রাচীরের ওপাশ থেকে যার দুটো পা-ই নেই, সেরকম একজন বিক্ষোভকারী কতোটা হুমকি হতে পারেন?’ তার প্রশ্ন।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

তুর্কি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন, প্রবাসীদের এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনসারায়েভো: তুর্কি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে ইউরোপের প্রবাসী তুর্কি নাগরিকদ . . . বিস্তারিত

মশার ভয়ে গৃহবন্দি মানুষ, মরছে গৃহপালিত প্রাণী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনমস্কো: মশার ভয়ে বাইরে বের হতে পারছে না রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলের বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে গৃহপালিত প্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com