গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ: আব্বাস-বাদশা আবদুল্লাহকে ম্যাক্রোঁনের ফোন

১৫ মে,২০১৮

গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ: আব্বাস-বাদশা আবদুল্লাহকে ম্যাক্রোঁনের ফোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
প্যারিস: গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সহিসংতা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনা নিয়ে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস ও জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গে সোমবার টেলিফোনে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলা এবং জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের স্থানান্তর সম্পর্কে তিন নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে এলিসি প্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

টেলিফোনে ম্যাক্রোঁ মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরে তার বিরোধিতার কথা পুর্নব্যক্ত করেন এবং ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও সংঘর্ষের নিন্দা জানান। তিনি একই সঙ্গে এই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সকল দলকে সংযমের আহ্বান জানান।

ম্যাক্রোঁ আজ মঙ্গলবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে সোমবার সীমান্ত এলাকার ওই বিক্ষোভে অংশ নেন লাখো মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি সৈন্যরা।

১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকে তারা জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার বৈধতা দেয়নি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি নেতারা দাবি করে আসছেন পূর্ব জেরুজালেম তাদের রাজধানী হবে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপর জেরুজালেম বিষয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত অকার্যকর ঘোষণা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও প্রস্তাব পাস হয়।

এদিকে, গাজা সীমান্তে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আঙ্কারা। এছাড়াও, ৫৮ ফিলিস্তিনি হত্যার নিন্দা জানিয়ে দেশটি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

সোমবার তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদাগ এসব তথ্য জানান।

এদিকে, মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরেরকে প্রতিবাদে আঙ্কারায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে। এই বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় তুরস্ক।

তুর্কি বিক্ষোভকারীরা এসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে এবং ইসরাইল-গাজা সীমান্তে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেন।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এসব ব্যানারে লেখা ছিল: ‘আল কুদুস মুসলমানদের’। তারা পবিত্র যুদ্ধ এবং শহীদ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেয়।

একজন প্রতিবাদকারী আমেরিকানদের ‘কুকুর’ বলে সম্বোধন করে বলেন, ‘জেরুজালেম আমাদের, এটা আমাদের হবে।’ সূত্র: আনাদুলো এজেন্সি

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

সিরিয়ার মানবিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত তুরস্ক: ট্রাম্পকে এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআঙ্কারা: সিরিয়ার মানবিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তুরস্ক প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড . . . বিস্তারিত

১৬ বছর ধরে তুরস্কের সবক্ষেত্রে যে উচ্চপ্রবণতা চলছে, তা বজায় রাখতে হবে: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনআঙ্কারা: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, গত ১৬ বছরে সবক্ষেত্রে তুরস্কের উচ্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com