সুচি’র নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে অ্যাওয়ার্ড ফেরত

১৩ নভেম্বর,২০১৭

আয়ারল্যান্ডের প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব বব গেলডফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ডাবলিন: আয়ারল্যান্ডের প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব বব গেলডফ তার সম্মানসূচক ফ্রিডম অফ দ্য সিটি অফ ডাবলিন অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বব গেলডফ বলছেন তিনি মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অং সান সু চিও ওই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। খবর বিবিসির।

বব গেলডফ মনে করেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধনের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন মিজ সুচি। তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরের সাথে তার (সু চি’র) সম্পৃক্ততা আমার সবার জন্য লজ্জার।’

মায়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন থেকে অন্তত ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে বলে বলছে জাতিসংঘ। সঙ্গীতজ্ঞ ও লাইভ এইড- এর প্রতিষ্ঠাতা বব গেলডফ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা তাকে (সু চি) সম্মানিত করেছিলাম, এখন তিনি আমাদের লজ্জিত করেছেন।’

এরই প্রতিবাদে তিনি সোমবার ডাবলিনে সিটি হল কর্তৃপক্ষের কাছে তার অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি। আরেকটি আইরিশ ব্যান্ডদল ইউ টু’ ও এক বিবৃতিতে অং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সহিংসতা বন্ধ করতে শক্ত অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে গতমাসে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল ১৯৯৭ সালে দেয়া সু চির ফ্রিডম অফ দা সিটি অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাহার করে নেয়।

এবার গ্লাসগোর ‘ফ্রিডম অব সিটি’ খেতাব হারাচ্ছেন সুচি
এর আগে ব্রিটেনের গ্লাসগো নগর কাউন্সিল মায়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সুচিকে দেয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নেবার পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছে।

মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এ ঘটনায় সুচির প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদ স্বরূপ ‘ফ্রিডম অব সিটি’ খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২০০৯ সালে সুচি যখন মায়ানমারে তার বাসভবনে অন্তরীন ছিলেন, তখন তাকে এই খেতাব দিয়েছিলো গ্লাসগো নগর কাউন্সিল। গ্লাসগোর লর্ড প্রভোস্ট ইভা বোল্যান্ডার বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার ব্যপারে উদ্বেগ জানিয়ে, এবং সে ব্যপারে ব্যবস্থা নেবার আহ্বান জানিয়ে তিনি এবং নগরীর কাউন্সিলর সুচিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

‘আমরা তার যে প্রতিক্রিয়া দেখেছি, তা হতাশাজনক এবং দুঃখের।’ খেতাব ফিরিয়ে নেবার ঘটনাকে তিনি নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন।

আগষ্টে মায়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতন শুরুর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

এদিকে, গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে সুচিকে দেয়া সম্মানজনক ডিগ্রী ফেরত নেবারো একটি দাবী উঠেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেটি হবার সম্ভাবনা খুবই কম। মাত্র কয়েকদিন আগেই, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে উদাসীনতা’ দেখানোর অভিযোগে ব্রিটেনের আরেক শহর শেফিল্ডও অং সান সুচিকে দেয়া ‘ফ্রিডম অব সিটি’ খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেফিল্ডের কাউন্সিলর সোরাইয়া সিদ্দিকী বলেছেন, সুচিকে দেয়া সম্মানটি যদি আমরা চালিয়ে যাই, তাহলে আমাদের শহরের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। এর আগে গত মাসের শুরুতে অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল অং সান সুচিকে দেয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নেবার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কলেজে ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত অং সান সুচি পড়েছেন, সেই সেন্ট হিউজ কলেজের কর্তৃপক্ষ তার একটি পোট্রেট নামিয়ে ফেলেছে। তার নোবেল পদক প্রত্যাহারের দাবিতে অনলাইনে এক পিটিশনে কয়েক লাখ মানুষ সই করেছে।

যদিও নোবেল কর্তৃপক্ষ সে সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। আগস্টে নতুন করে রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর বৃহস্পতিবার মায়ানমারের রাখাইনে প্রথমবারের মত সফরে গিয়ে সুচি রোহিঙ্গাদের ‘ঝগড়াবিবাদ’ না করে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে এজন্য তিনি ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

হঠাৎ জার্মান থেকে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: শনিবার দুপুরে সৌদি সরকার জার্মানি থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সৌদি আরবের . . . বিস্তারিত

সাদ হারিরি প্যারিসে, তবে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনপ্যারিস: লেবাননে সাদ হারিরি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এক সফরে প্যার . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com