রাকায় শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আইএস

১২ অক্টোবর,২০১৭

শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আইএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
দামেস্ক: ‘এক দল বিদেশি যোদ্ধাকে মাঝখানে রেখে’ রাকায় শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী। অপরদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এই জঙ্গিদের নিরাপদ পশ্চাদপসারণের সুযোগ দিতে নারাজ।

ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে সিরিয়ার রাকা শহরকে মুক্ত করার যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট আইএস যোদ্ধারা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, বলে ধরে নিচ্ছেন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডিলন।

তিনি জানান, ৪০০ অবধি জঙ্গি এখনো রাকায় অবস্থান করছে, বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। দৃশ্যত তাদের অধিকাংশ রয়েছে রাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রে, যেখানে আইএস তাদের শত্রুদের প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ ও ক্রশবিদ্ধ করত।

‘বিদেশি যোদ্ধারা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালাবে, বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। আইএস যোদ্ধাদের মধ্যে বিদেশি যোদ্ধাদের একটি কট্টর গোষ্ঠী রয়েছে,' বলেন ডিলন।

‘কিন্তু গতমাসে আমরা প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচজন আইসিস যোদ্ধাকে আত্মসমর্পণ করতে দেখেছি, যাদের মধ্যে আমিররাও আছে,' বলে ডিলন মন্তব্য করেন। এই আমিররা হলো রাকায় আইএসের স্থানীয় নেতৃবর্গ।

গত জুন মাসে মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) রাকা অবরোধ করে একটি বহুমুখী অভিযান শুরু করে। এসডিএফ প্রধানত কুর্দি ও আরব যোদ্ধাদের একটি জোট। রাকা অভিযানে এসডিএফ-কে আকাশ থেকে সাহায্য করছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জেট।

রাকা অবরোধে বেসামরিক ব্যক্তিরা আটক
জাতিসংঘের বিবৃতি অনুযায়ী প্রায় ৮,০০০ বেসামরিক ব্যক্তি রাকায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাদের ‘মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় রাকা সিভিক কাউন্সিল বা রাকা পৌর পরিষদ আইএসের সঙ্গে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেছে। আইএসের পতনের পর রাকার অস্থায়ী প্রশাসন হিসেবে এসডিএফ এই পৌর পরিষদ সৃষ্টি করে।

আইএসের হাতে আটক বেসামরিক বাসিন্দাদের (রাকা) শহর পরিত্যাগের শ্রেষ্ঠ উপায় সম্পর্কে রাকা পৌর পরিষদ কথাবার্তা চালাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদীরা বেসামরিক বাসিন্দাদের একাংশকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে,' বলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের তরফ থেকে বলা হয়।

এখনো ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহ ও স্থানীয় গোষ্ঠীবর্গের আক্রমণে গত এক বছরে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ক্রমেই আরো ছোট হয়ে এসেছে। ইরাকের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী এ বছরের গোড়ায় মোসুলকে মুক্ত করে, যা আইএস-এর বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবে উদযাপিত হয়।

২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়া জুড়ে অভিযান চালিয়ে শেষমেষ মোসুল দখল করে, যেখানে আইএস নেতা আবু-বকর আল-বাগদাদি ঐতিহাসিক আল-নুরি মসজিদ থেকে ইসলামিক স্টেটের খেলাফত ঘোষণা করেন।

আইএস তার দখলীকৃত এলাকার একটি লক্ষণীয় অংশ হারালেও, আইএসের বিদেশি যোদ্ধাদের একাংশ ইউরোপে প্রত্যাবর্তন করার পর তারা যে ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হতে পারে, সে ব্যাপারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

ব্রিটেনে শিশুদের পাসপোর্টে পরিবর্তন চান টিউলিপ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএলন্ডন: ব্রিটেনে বিরোধী লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক শিশুদের ব্রিটিশ পাসপোর্টে কিছু পরিবর্তন . . . বিস্তারিত

যৌথ সামরিক মহড়ায় যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনসিউল: দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে উত্তর কোরিয়া সাগর সীমান্তের দক্ষিণ জলসীমায় সামরিক মহ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com