কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পরিকল্পনা প্রকাশ, চরম রাজনৈতিক সঙ্কটে স্পেন

১০ অক্টোবর,২০১৭

মুখ্যমন্ত্রী কারলেস পুজেমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
বার্সেলোনা: স্পেনের ঐক্যের পক্ষে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সত্ত্বেও কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী কারলেস পুজেমন। তার এই ঘোষণায় গত চার দশক ধরে চলা স্পেনের সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক সঙ্কটকে সামনে নিয়ে এসেছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যে ৬টায় আঞ্চলিক সংসদে দেয়া ভাষণে তিনি এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। গণভোটের পর প্রথমবারের মতো সংসদে ভাষণ দিলেন পুজেমন।

যদিও বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারাভিযান চলাকালীন সময়ে পুজেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, গণভোটে জয়লাভের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একতরফা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হবে। যাইহোক, বেশ কিছু দিন সময় নেয়ার পর মাদ্রিদ সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতার আলোচনার পরিবর্তে তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।

এর আগে, স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যারিয়ানো রাজয় কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন জারি করার হুমকি দেন এবং এই অঞ্চল থেকে কয়েকটি ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করার ঘোষণা করেন।

ক্রমবর্ধমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও এটা স্পষ্ট নয় যে পুজেমন স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পথে এগিয়ে যাবেন নাকি মাদ্রিদের সঙ্গে বাড়তি উত্তেজনা কমাতে অপেক্ষাকৃত সহনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

স্প্যানিশ সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, কাতালোনিয়ার গণভোট এবং তাদের ঘোষিত আইন অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। কাতালোনিয়ার বিচ্ছিন্নতা ঠেকাতে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব ধরনের বৈধ উপায় প্রয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে স্প্যানিশ সরকার।

পুলিশ বার্সেলোনায় সরকারি ভবনগুলোর বাইরে অবস্থান নিয়েছে এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা আঞ্চলিক সংসদের পার্শ্ববর্তী ‘সিটাদেলা’ পার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পার্লামেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনকে সামনে রেখে হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী শহরটিতে জড়ো হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, গত রবিবার বার্সেলোনা শহরে কাতালান নাগরিক সমাজের ডাকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ স্পেনে থেকে যাবার পক্ষে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তাদের হাতে ছিল বেশ কিছু স্লোগানবাহী পতাকা। ‘স্পেনেই কাতালোনিয়া' বা ‘একসঙ্গে আমরা আমরা আরো শক্তিশালী' – এমন সব বার্তা নিয়ে তারা পথে নেমেছিল।

কাতালোনিয়া রাজ্যের সবাই যে স্বাধীনতার পক্ষে নয়, সে বিষয়টি শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। গণভোটের সময় নীরব থাকার পর স্বাধীনতা-বিরোধীরা  এই বিক্ষোভ দেখান।

এর আগে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদেও দুই পক্ষের উদ্দেশ্যে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সঙ্কট মিটিয়ে ফেলার ডাক দিয়ে অনেক মানুষ পথে নেমেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় বলেছেন, বর্তমানে কাতালোনিয়া রাজ্য স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে যে বাড়তি কিছু অধিকার ভোগ করে, সেগুলি প্রত্যাহারের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তিনি রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করার হুমকিও দিয়েছেন।

বর্তমান সঙ্কটের কারণে কাতালোনিয়া রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এই অঞ্চলের বিপুল সমৃদ্ধির পেছনে যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান অবদান রাখছে, তাদের অনেকেই কর্মকাণ্ড অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাবার কথা ভাবনাচিন্তা করছেন। এমনটা হলে কাতালোনিয়ার কর ও রাজস্ব অনেক কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাছাড়া স্বাধীনতার মূল্য হিসেবে কাতালনিয়া ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো এবং শেঙেন চুক্তি থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বর্তমান সঙ্কটের ফলে সামগ্রিকভাবে স্পেনের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও ইউরোপে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

ব্রিটেনে শিশুদের পাসপোর্টে পরিবর্তন চান টিউলিপ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএলন্ডন: ব্রিটেনে বিরোধী লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক শিশুদের ব্রিটিশ পাসপোর্টে কিছু পরিবর্তন . . . বিস্তারিত

যৌথ সামরিক মহড়ায় যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনসিউল: দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে উত্তর কোরিয়া সাগর সীমান্তের দক্ষিণ জলসীমায় সামরিক মহ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com