মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের কড়া সমালোচনার মুখে ভারত-মায়ানমার-শ্রীলংকা

১৩ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
জেনেভা: মানবাধিকার পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি সত্ত্বেও উদাসীন থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ ভারত, মায়ানমার ও শ্রীলংকার কড়া সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশিনার প্রিন্স জেইদ রাদ বিন হুসেইন।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ৩৬তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এই সমালোচনা করেন।

অবৈধ অভিবাসী অজুহাতে ৪০,০০০ রোহিঙ্গাকে বহিষ্কারের ব্যাপারে ভারতীয় সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান প্রিন্স জেইদ।

জেইদ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিজ দেশে যখন সহিংসতা চালানো হচ্ছে তখন ভারত থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করতে দিল্লি যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তার তীব্র নিন্দা করছি। ভারতে ৪০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ হাজারের কাছে শরণার্থী সংক্রান্ত কাগজ রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন যে তার দেশ শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেনি। তাই এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন তাদের ওপর প্রযোজ্য নয়।’

কিন্তু দেশটি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ অনুমোদন করেছে। তাই তারা সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া জোর করে শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারে না।

অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

ভারতের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে জেইদ বলেন, ‘ভারতে ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধিতে আমি হতাশ। সম্প্রতি গো-রক্ষার নামে মানুষের ওপর যেভাবে সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালানো হচ্ছে, এমন কি হত্যা করা হচ্ছে তা উদ্বেগজনক। ভারতে যারা মৌলিক মানবাধিকারের পক্ষে সরব হচ্ছেন তারাও হুমকির সম্মুখিন।’

মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার আরো বলেন, ‘সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশকে গত সপ্তাহে খুন করা হয়েছে। তিনি সাম্প্রদায়িকতা ও ঘৃণা ছাড়ানোর বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কথা বলেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর বাক স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে মিছিল হয়েছে, বিনা বিচারে পিটিয়ে হত্যার বিরুদ্ধে ১২টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে – এসব খবরে আমি মর্মাহত।’

জেইদের মতে, ভারতের সবচেয়ে অসহায় গ্রুপগুলোর একটি হলো যারা মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করছে। আরেকটি গ্রুপ হলো নর্মাদা নদীরও ওপর সরদার সরোবর বাধ নির্মাণের ফলে বাস্তচ্যুতরা। বাধ নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকারের বদলে এদের অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেয়া হয়েছে বা রাষ্ট্র তাদেরকে সুরক্ষা দিতে রাজি হয়নি।

আতংকজনক পরিস্থিতি মায়ানমারে

মায়ানমার প্রসঙ্গে তিনি বলেন: বাংলাদেশ সীমান্তে মায়ানমার কর্তৃপক্ষের ল্যান্ডমাইন বসানোর খবরে আমি আতংকিত। আরো শংকা বোধ করছি এ কথা শুনে যে সহিংসতা থেকে যারা পালিয়ে গেছে তারা যদি জাতীয়তার প্রমাণ দিতে পারে তখনই শুধু তাদেরকে দেশে ফিরতে দেয়া হবে।

১৯৬২ সাল থেকে মায়ানমারে একের পর এক সরকার রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার খর্ব করেছে। তাদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে। রাখাইন কমিশনের কাছে অং সাং সুচি এ কথা স্বীকার করেছেন। মায়ানমারের এই বক্তব্য হলো ফেরত আসার সুযোগ না রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জোরপূর্বক বহিষ্কারের একটি ঘৃণ্য চক্রান্ত।

রাখাইন রাজ্যে আরেকটি নৃশংস নিরাপত্তা অভিযান চলছে। এবারেরটি আগের চেয়ে অনেক বড় আকারে। তিন সপ্তাহের কম সময়ে ২৭০,০০০ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এর আগের অভিযানে পালিয়েছিলো ৮৭,০০০।

মায়ানমার ও বাংলাদেশের মাঝে আরো অনেকে আটকা পড়ে আছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার জের ধরে যে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে মাত্রাতিরিক্ত এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো সেখানে মানা হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্রের খবর ও স্যাটেলাইট ছবি থেকে আমরা নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের রাখাইন গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ করতে দেখেছি। এছাড়া নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালানোর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। পলায়নরত গ্রামবাসীদের ওপর গুলি বর্ষণ করা হচ্ছে।

মায়ানমারে যা ঘটছে তা জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি আদর্শ উদাহরণ বলে প্রিন্স জেইদ উল্লেখ করেন।

বিশ্ব জনিন বিচারব্যবস্থার আওতায় শ্রীলংকাকে নিয়ে আসা

শ্রীলংকাকে বিশ্ব জনিন বিচারব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে আবারো দাবি তোলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার। এর ফলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিশ্বের যে কোনো অংশের আদালতে বিচার করা যাবে।

জেইদ বলেন, মনবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ব্যাপারে শ্রীলংকা বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই দেশটিকে বিশ্ব জনিন বিচারব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তামিল টাইটগারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে শ্রীলংকা সেনবাহিনী ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ করে বলে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

সিরিয়ার সঙ্কট সমাধানে আসাদ-পুতিন বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনমস্কো: সিরিয়া সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বা . . . বিস্তারিত

ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটে জার্মানি, মার্কেলের পতন আসন্ন!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবার্লিন: জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সোমবার বলেছেন, দেশটির নতুন সরকার গঠনের আলোচনা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com