রোহিঙ্গা সঙ্কট: নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকতে ব্রিটেন ও সুইডেনের আহ্বান

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য জরুরি বৈঠক ঢেকেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ব্রিটেন ও সুইডেনের আহ্বানে এই বৈঠক ডাকা হয়।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতনের ফলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেছে।

সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেন বলেন, এই ‘জাতিগত নিধন’ পাঠ্যপুস্তকের একটি উদাহরণ বলে মনে হচ্ছে।

চলমান এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার বৈঠক হবে বলে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব ইতোমধ্যে এই হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান বলে নিন্দা জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধিতে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের জন্য আহ্বান জানায় ব্রিটেন ও সুইডেন। নির্যাতন বন্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য দেশ দুটি নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সু চি’র প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।

আগস্ট মাসের শেষের সহিংসতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ইতোমধ্য গোপন বৈঠক হয়েছে। তবে, সংস্থাটির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া হয় নি।

জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, মায়ানমারের শীর্ষ বাণিজ্য সহযোগী চীন এই সঙ্কট মোকাবেলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছে।

ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রিক্রফট সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে পালানোর চেষ্টারত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে অবনতি ঘটায় তা নিরাপত্তা পরিষদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মায়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গ যোগ দেয় দেশটির বৌদ্ধ চরমপন্থীরাও। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তারা রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি এবং একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে কমপক্ষে এক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

সূত্র: ফ্রন্টটিয়ার মায়ানমার ডটনেট

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

সিরিয়ার সঙ্কট সমাধানে আসাদ-পুতিন বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনমস্কো: সিরিয়া সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বা . . . বিস্তারিত

ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটে জার্মানি, মার্কেলের পতন আসন্ন!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবার্লিন: জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সোমবার বলেছেন, দেশটির নতুন সরকার গঠনের আলোচনা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com