এরদোগানের জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে

১৬ জুলাই,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
আঙ্কারা: তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ঠিক এক বছর পুরো হচ্ছে আজ। অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীরা যাই চেয়ে থাকুক, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এখনো তুরস্কে বিপুলভাবে জনপ্রিয়।

তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগই সমালোচকরা করুন না কেন, দেশটির অর্ধেক মানুষ এখনো তার সমর্থক।

ইস্তাম্বুল থেকে বিবিসির মার্ক লোয়েন জানাচ্ছেন, এরদোগানের জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। খবর বিবিসির।

তবে মার্ক লোয়েন বলছেন, তুরস্কে যদিও অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কিছুদিন পর্যন্ত এরদোগান সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে একটা ঐক্য দেখা দিয়েছিল- কিন্তু এখন দেশটিতে এই দুই শিবিরের মধ্যে বিভক্তি তীব্রতর হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথেও তুরস্কের সম্পর্ক চিড় খেয়েছে।

তুরস্কে ইইউ-এর সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্ক পেরিনি বলছেন, দেশটি এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং ধর্মীয় রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তুরস্কে সেই অভ্যুত্থানের রাতে মামরেস শহরে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে ধরা পড়ার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এর পর তার একটি ভিডিও বার্তা প্রচারিত হবার পরই দ্রুত বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি।

রাস্তায় নেমে আসেন এরদোগানের সমর্থকরা, ব্যর্থ হয়ে যায় অভ্যুত্থান। ভিডিও বার্তায় এরদোগান বলেছিলেন, অভ্যুত্থানকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তাই হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার করা হয় ৫০ হাজার লোককে। গ্রেপ্তার হন অন্তত ১৩০ জন সাংবাদিক। সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় ৭ হাজার জনকে। এ ছাড়াও চাকরি হারান ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তা।

বিবিসিকে মার্ক পেরিনি বলছেন, এতদিন পরও ওই অভ্যুত্থান ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থকরাই ঘটিয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।

পেরিনির কথায় - হয়তো বিদ্রোহীদের মধ্যে কিছু গুলেনপন্থী ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি যেটা সম্ভব যে এরা হয়ত ছিল কামাল পাশাপন্থী, গুলেনপন্থী এবং অন্যদের একটি সুযোগসন্ধানী গ্রুপ।

তবে তুরস্কে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম জেফরি বলেন, তার ধারণা অভ্যুত্থানের পেছনে ফেতুল্লা গুলেন এবং তার সমর্থকরাই ছিল কিন্তু কিভাবে তারা সামরিক বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করেছিল তা এখনো কেউ জানে না।

জেফরি বলেন, সমস্যা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রএ অভ্যুত্থানের নিন্দা করতে অনেক দেরি করেছিল - যদিও চূড়ান্ত বিচারে এটি ছিল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীর অভ্যুত্থান।

তার কথায়, এতে কৌশলগত মিত্রতা নষ্ট না হলেও পারস্পরিক আস্থার ক্ষতি হয়েছে।

অনেকের অভিযোগ, তুরস্কে গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের অবনতি হয়েছে, একনায়কতন্ত্রের পথে যাচ্ছে দেশটি। এমন প্রশ্নও উঠেছে এরদোগান তুরস্ককে ইসলামীকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জিম জেফরি মনে করেন তুরস্ককে সম্পূর্ণ ইসলামিকরণের চেষ্টা কখনোই সফল হবে না।

তিনি বলেন, মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সময় থেকেই শাসকরা তুরস্ককে জোর করে অ-ইসলামিকীকরণ করতে চেয়েছিল, যা সফল হয়নি। এখন আবার এরদোগান পুনরায় মানুষের মনে ধর্মীয় ভাবধারা জোরালো করার চেষ্টা করছেন - ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্ববীক্ষা থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু তুরস্ক একটি বিভক্ত দেশ এবং দেশটির সব লোককে কোনো একটি দিকে পুরোপুরি নিয়ে যাওয়া যাবে না - বলেন তিনি।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

হঠাৎ জার্মান থেকে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: শনিবার দুপুরে সৌদি সরকার জার্মানি থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সৌদি আরবের . . . বিস্তারিত

সাদ হারিরি প্যারিসে, তবে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনপ্যারিস: লেবাননে সাদ হারিরি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এক সফরে প্যার . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com