অস্ট্রেলিয়ায় এমপি’র পদত্যাগ, সঙ্কটে সরকার

১২ নভেম্বর,২০১৭

অস্ট্রেলিয়ায় এমপি’র পদত্যাগ: সংকটে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
সিডনি: অস্ট্রেলিয়ায় শনিবার ক্ষমতাসীন দলের আরো এক এমপি পদত্যাগ করেছেন। ফলে পার্লামেন্টের ওপর প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আর প্রাধান্য থাকছে না। পার্লামেন্টে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। খবর এএফপি’র।

দ্বৈত নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে সাংবিধানিক সঙ্কটের সর্বশেষ শিকার জন আলেক্সান্ডার একজন সাবেক টেনিস তারকা। দ্বৈত নাগরিকত্ব দেশটির সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় একে কেন্দ্র করে আরো কয়েকজনকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে।

এদিকে আলেক্সান্ডারের পদত্যাগের ফলে টার্নবুলের দল পার্লামেন্টে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালত গত ২৭ অক্টোবর এ মর্মে রুল জারি করে, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের উচ্চ অথবা নিন্ম কক্ষের অপর পাঁচ সদস্য ওই পদে থাকার অযোগ্য।
এদের মধ্যে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোটের শরীক দল ন্যাশনাল পার্টির নেতা বার্নাবেই জোয়েস রয়েছেন।

আলেক্সান্ডার সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আদালতের রুলটি তার অবস্থা জানতে তাকে বাধ্য করছে। যদিও ব্রিটিশ অভিবাসীর সন্তান হিসেবে স্বাভাবিক নিয়মে দ্বৈত নাগরিক হওয়ার বিভ্রান্তি অনেক আগেই দূর হয়ে গেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি একজন অস্ট্রেলিয়ান এবং কেবলই অস্ট্রেলিয়ান।
উল্লেখ্য, আলেক্সান্ডার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৭০ ও ৮০’র দশকে পেশাদার টেনিস খেলেন। এক পর্যায়ে তিনি বিশ্বের ৮ নম্বর স্থান অধিকার করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ডেভিস কাপে যোগ দেন এবং ফেড কাপে অস্ট্রেলিয়ান দলের অধিনায়কত্ব করেন।

বাংলাদেশকে হেয় করতেই অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগ?
নতুন করে ‘জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার নির্ভরযোগ্য তথ্য’ থাকার কথা বলে অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্কতা জারি করেছে। তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিকরা।

তারা মনে করেন, সরকারের উচিত এর প্রতিবাদ করে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে তথ্য চাওয়া। তারা তথ্য দিতে না পারলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কিছু আছে।

অষ্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি)-এর ওয়েবসাইটে শুক্রবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসী হামলার ‘বড় ধরনের হুমকিতে' রয়েছে। যে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা এখন বাংলাদেশে আছেন, তাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং চারপাশের পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে নিতে হবে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা। আর যারা বাংলাদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

ঠিক কী ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে অষ্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের জন্য এই ধরনের সতর্কবার্তা দিলো, তা স্পষ্ট করে বলেনি ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড।

অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে হেয় করতেই এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটেনি যে, তারা এটা দিতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাদের কাছে জানতে চাওয়া, কী তথ্যের ভিত্তিতে তারা এটা করলো। সেই তথ্য যদি তারা না দেয়, তাহলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কিছু আছে। তথ্য না দিয়ে শুধু সতর্কবার্তা দিলে তো আর হবে না।

বাংলাদেশে যেদিন হোলি আর্টিজানের ঘটনা ঘটল, ঠিক একইদিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সামনে দুই জনকে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ কি ওই ঘটনার পর সতর্কতা দিয়েছিল? অথচ তারা তখন সতর্কতা দিল, সঙ্গে আরো অনেক কথাও বললো।'

সতর্কবার্তায় অস্ট্রেলিয়া গত বছরের পহেলা জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা এবং গত মার্চে শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে প্রায়ই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। নতুন করে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে ‘আগের মতোই'।

যেসব বিপণি বিতানে নিয়মিত বিদেশিদের যাতায়াত আছে, সেসব এলাকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তাদের না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোটর গাড়ি ছাড়া তাদের বাইরে চলাফেরা না করতে বলেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। অষ্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের ওয়েবসাইটে এই সতর্কবার্তা তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সম্ভাব্য ওই সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকেরা।

অস্ট্রেলিয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, আদালত, বিদেশি সরকারের স্থাপনা, নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের স্থাপনা, দূতাবাস, হোটেল, ক্লাব, রেস্তোরাঁ, বার, স্কুল, বিপণিবিতান, ব্যাংক, প্রেক্ষাগৃহ, গণপরিবহন, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থান সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

বাংলাদেশের আরেকজন সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ জমির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের তো উচিত লন্ডনে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করা। সেখানে কয়েকদিন আগে গাড়ি চালিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত, সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো। সাংবাদিকদের উচিত অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের কাছে জানতে চাওয়া, কী কারণে তারা এই সতর্কতা জারি করলো? পাশাপাশি সাংবাদিকদের এর প্রতিবাদ করাও উচিত। এই মুহুর্তে আমি বাংলাদেশে এই ধরনের সতর্কতা জারির কোনো কারণ দেখি না।'

মন্তব্য

মতামত দিন

অন্যান্য পাতার আরো খবর

‘জাতীয় লজ্জা’র জন্য ক্ষমা চাইলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনক্যানবেরা: রাষ্ট্রের দিক থেকে গাফিলতি রয়েছে স্বীকার করে যৌন হেনস্থার শিকার শিশু এবং তাদের অভিভা . . . বিস্তারিত

প্রশান্ত মহাসাগরীয় তিন দ্বীপে সুনামি সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনসিডনি: প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তিনটি দ্বীপ নিউ ক্যালিডনিয়া, ফিজি ও ভানুয়াতুতে সুন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com