গাজায় ফের ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত

২৩ জানুয়ারি,২০১৯

গাজায় ফের ইহুদিবাদী ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় ফের ইহুদিবাদী ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
পশ্চিম তীর: গাজায় ফের হানাদার ইহুদিবাদী ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান গাজার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় হামলা চালিয়ে ওই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। খবর আনাদোলু নিউজ এজেন্সির।

মন্ত্রণালয় বলছে, নিহত ফিলিস্তিনি নাগরিকের নাম মাহমুদ আবেদ আল-নাবাহিন (২৪)।

বিমান হামলায় চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে, গাজা-ভিত্তিক প্রতিরোধী দল হামাসের সশস্ত্র বাহিনীর ইজজেদিন আল-কাশাম ব্রিগেডস বলেছে, নিহত আল-নাবাহিন তাদের সদস্য ছিলেন।

১০ মাসে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞে ২৪১ ফিলিস্তিনি নিহত
২০০৭ সাল থেকে গাজাকে অবরুদ্ধ করেছে রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। আর ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ও নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার দাবিতে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ সংগ্রামে লিপ্ত। আর এ সংগ্রামে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষ ও শিশুদের।

এ পরিস্থিতির যেন কোনো উন্নতি নেই। ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে প্রতি শুক্রবার ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ও নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার দাবিতে গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন নামে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে। গত মার্চ মাসে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর এ নিয়ে তিন নারীকে হত্যা করা হলো। চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২৪১ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি।

সর্বশেষ গত শুক্রবার গাজায় ইসরাইলি সেনার গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল–জাজিরা জানায়, নিহত ওই নারীর নাম আমল আল-তারামসি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা জানান, শুক্রবার গাজা-ইসরাইল সীমান্ত বেস্টনীতে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনির বিক্ষোভের সময় এই গুলি চালানো হয়। বিক্ষোভের সময় ওই নারীর মাথায় গুলি লাগে।

শুধু ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি হানাদার ইসরাইল। নানাভাবে নিপীড়ন করছে ফিলিস্তিনিদের। এর প্রভাবে সেখানে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিষ্কার পানি পান করাটা গাজা উপত্যকায় অনেকটাই বিলাসিতার মতো। সেখানে সাপ্লাই পানি পান করাটা একেবারেই নিরাপদ নয়। পানিতে ক্লোরিন এবং সালফেটের মাত্রা বিপজ্জনক পরিমাণ।

কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার ফলে ভূগর্ভস্ত পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া জ্বালানি স্বল্পতার কারণেও পানি উত্তোলনে বিঘ্ন ঘটছে।

ইসরাইলি অবরোধের কারণে গত ১০ বছর ধরে এ ধরনের সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন গাজার বাসিন্দারা। গাজা থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কার্লেস স্ট্রাটফোর্ড জানান, সেখানে বাসাবাড়িতে পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন পাত্রে করে সাপ্লাই পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন তারা। এক বৃদ্ধকে দেখা যায়, নিজের বাড়ির ট্যাপ ঘুরাচ্ছেন তিনি। তবে সেখানে কোনো পানি পড়ছে না। ফলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানকার মানুষজন। শিশুদেরও দূর থেকে পানি বহন করে নিয়ে আসতে হচ্ছে।

এদিকে গাজা উপত্যকায় হামাসের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরাইলের ব্যাপক বোমা হামলা করার মধ্য দিয়ে ইসরাইল এবং গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের মধ্যকার আরেকটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিকদের হামাসের রকেট হামলা থেকে বাঁচানোর জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাস কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত আল-আকসা টিভি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজা শহরে অবস্থিত আল-আকসা টিভি ভবনের পাশের ভবনে বসবাস করা আবু আয়মান লেমজেনি বলেন, ‘এটি অনেকটা ভূমিকম্পের মত মনে হয়েছে। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে, এখানে পূর্ব থেকে থাকা দোকান পাট, ঔষধের দোকান, সরকারি দপ্তর, এমনকি বড় বড় বিল্ডিংগুলোর অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে।’

গাজার অধিবাসী জামাল মর্তুজা বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছে।’

গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামি দল হামাসের সাথে ইসরাইল ২০০৮ সাল থেকে অন্তত তিনটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়েছে।

হামাস এবং ইসরাইলের মধ্যকার ২০১৪ সালের যুদ্ধে গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ বিল্ডিং ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং এগুলোর অধিকাংশই এখনো পর্যন্ত পুনঃনির্মাণ করা হয় নি।

গত কয়েকমাসের ইসরাইলি হামলায় গাজা শহরের ব্যস্ততম রাস্তাঘাটগুলো একেবারে মরুভূমি সদৃশ হয়ে গেছে। গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে বসবাস করা মোহাম্মদ বুলবুল জানান, ‘আমরা ২০১৪ সালের যুদ্ধ এখনো ভুলতে পারিনি। জনগণ যুদ্ধ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। যথেষ্ট হয়েছে।’

এদিকে ইসরাইলের আগ্রাসনে প্রাণহানি রোধে ফিলিস্তিনে মুসলিম দেশগুলোর শান্তিরক্ষী পাঠানোর প্রস্তাব দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসিপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এদিকে, গত বছর একদিনেই ৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। পরে ইসরাইলি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন কমিটি গঠনের কাজ শুরু করলে ওই সিদ্ধান্তের ভোটাভুটিতে বিপক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। আর ভোটদানে বিরত থাকে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ ১৪টি দেশ।

এছাড়া গত বছর তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তাগিদ দেন ইসরাইলবিরোধী ঐক্য গড়ার। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজা সীমান্তে ব্যাপক হতাহাতের ঘটনাকে নাৎসি হত্যাযজ্ঞের সাথে তুলনা করেন এরদোগান।

মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের ভেদাভেদ মিটিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী। ওই সম্মেলনে ৫৭টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে, সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কেবল নিম্ন স্তরের প্রতিনিধি পাঠায়। এভাবে বরারই নীরব থাকছে মুসলিম বিশ্ব।

যতদূর জানা যায়, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে গাজায় ইসরাইলী সহিংসতার অবসানের ডাক দিয়েছিলেন জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন । ইসরাইল ও তার পৃষ্ঠপোষকরা ঐ আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ প্রেসিডেন্ট একটি লঘু বিবৃতি প্রচার করেন। এতে গাজায় অবিলম্বে মানবিক অস্ত্রবিরতি কায়েমের ডাক দেয়া হয়।

ইসরাইলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঐ আহ্বান। নিরাপত্তা পরিষদ প্রেসিডেন্টের বিবৃতিতে ফিলিস্তিনী ও আরবদের দাবির কোনো উল্লেখ ছিল না। তা সত্ত্বেও ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিবৃতিতে হামাসের পক্ষাবলম্বন করা হয়েছে। বিবৃতির প্রতিবাদ জানানোর বান কি মুনকে আহ্বান জানান ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘ মহাসচিবকে আহ্বান জানিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। কিন্তু মহাসচিবের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিটিতে একদল বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও কয়েকটি এনজিও দাবি জানায়, মহাসচিব আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে যেন সচেষ্ট হোন। অন্যথায় পদত্যাগ করুন। তারা উল্লেখ করেন, গাজায় সহিংসতার প্রবর্তক ও সংঘটক ইসরাইলের নামোল্লেখ করার বিষয়টি মহাসচিব বার বার তার বিবৃতিতে উপেক্ষা করে গেছেন। এর ফলে অবৈধ দখলদার ইসরাইল ও দখলিত ফিলিস্তিনের মধ্যকার পার্থক্য মুছে দিয়ে উভয়পক্ষকে সমানভাবে বিবদমান দেখানো হয়েছে।

জাতিসংঘের কর্মকান্ডের একদল ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকের অভিমত হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিরোধের মীমাংসার প্রশ্নে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ ও ফলপ্রসূ ভূমিকা অতি আবশ্যকীয় বিবেচিত হলেও সংস্থাটি তার ভূমিকা পালনে প্রায়ই ব্যর্থ থেকেছে এবং ভয়াবহ ব্যর্থতা দেখিয়েছে ফিলিস্তিনী সমস্যার মীমাংসার প্রশ্নে। ফিলিস্তিনে ইসরাইল বারবার আগ্রাসন ঘটিয়েছে এবং জাতিসংঘ বারবার অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়ে তার দায় খালাস করেছে। গাজায় ও ফিলিস্তিনে ইসরাইলী অন্যায় জবরদখলের অবসানের দাবি জানিয়ে এ পর্যন্ত কোনো বিবৃতি জাতিসংঘ প্রচার করেনি। এই অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে বহাল থাকার মধ্য দিয়েই জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক মর্যাদা ফিলিস্তিনের ভাগ্যে জুটেছে গত ২০১২ সালে।

বাস্তুত্যাগে বাধ্য ফিলিস্তিনীদের এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনীদের দুরবস্থা প্রশ্নে এ পর্যন্ত বহু প্রস্তাব পাস হয়েছে জাতিসংঘে। কিন্তু দু’দশক পেরিয়ে গেলেও ঐ সমস্ত প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ফিলিস্তিনকে ঘিরে বিশ্বের পরাশক্তিদের গোষ্ঠী রাজনীতির যে নীতিবর্জিত নোংরা দড়ি টানাটানি জাতিসংঘে প্রদর্শিত হয়েছেÑ দুনিয়ার অন্য কোনো বিরোধকে ঘিরে এ পর্যন্ত তা দেখা যায়নি। ১৯৪৭ থেকে শুরু করে ১৯৯০ সন পর্যন্ত ফিলিস্তিনী ইসরাইলী বিরোধ মীমাংসার দাবিতে ৬৯০টি প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছে এবং প্রত্যেকটি প্রস্তাব নিক্ষিপ্ত, হয়েছে আঁস্তাকুড়ে।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলী দখলদারির সমাপ্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটনের তৎপরতায়। নিরাপত্তা পরিষদের ৫০টির বেশি প্রস্তাব ওয়াশিংটন বরবাদ করে দিয়েছে ভেটো দিয়ে। ইসরাইলের মধ্যপ্রাচ্য নীতির শুধু সমালোচনাটুকু ছিল ঐ প্রস্তাবগুলোয় বসনিয়া, কসোভো, সোমালিয়া, কুয়েত, ইরাক, আফগানিস্তান এবং সিরিয়া। লেবানন প্রশ্নের মীমাংসায় জাতিসংঘের সরাসরি হস্তক্ষেপের আগে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্ত সম্প্রতি তারা দেখলেন দক্ষিণ সুদানে। কিন্তু এ সমস্ত ক্ষেত্রে বাঞ্ছিত-অবাঞ্ছিত অনেক কিছু জাতিসংঘ সম্ভব করে তুলতে পারলেও সবচেয়ে পুরোনো ফিলিস্তিন সমস্যার নিষ্পত্তির প্রশ্নে বরাবর তারা অপারগ রইলেন। অথচ ফিলিস্তিনই ছিল জাতিসংঘের সামনে মীমাংসা প্রত্যাশী সবচেয়ে পুরোনো সমস্যা।

ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের মানবিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে বহুবার। কোনো কাজ হয়নি। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনে হস্তক্ষেপে এগোয় একটিবার মাত্র ১৯৯৭ সালে। সে সময় অধিকৃত ফিলিস্তিনী শহর হেব্রনে কিছু নিরস্ত্র আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠায় জাতিসংঘ। কিন্তু ইসরাইলী হামলা সম্বন্ধে প্রমাণ্যের কথা বলার অধিকার ঐ পর্যবেক্ষক দলকে দেয়া হয়নি। ফিলিস্তিনে রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের জাতিসংঘ অধিকার পায় ওয়াশিংটন আয়োজিত শান্তি প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ার পর- তার আগে নয়। ফিলিস্তিনী ইসরাইলী সংকট নিরসনের জন্য গঠিত পক্ষ-চতুষ্টয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনিষ্ঠ শরিক হিসেবে জাতিসংঘ তখন আসন পায় ইইউ ও রাশিয়ার পাশাপাশি।

পেছনের চার দশক ধরে ফিলিস্তিন ইসরাইল সম্পর্কিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পারিষদের সমস্ত প্রস্তাব ইসরাইল অগ্রাহ্য করে এসেছে। ১৯৮০ সালে ৪৬৫ নম্বর প্রস্তাবটিও একইভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসরাইল। ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিন ও আরব ভূভাগে সব ধরনের ইসরাইলী হস্তক্ষেপের ঐ প্রস্তাবে তীব্র বিরোধ জানানো হয়েছিল। ৪৭৬ সংখ্যক প্রস্তাবটিও ইসরাইল মানেনি। এতে অধিকৃত আরব ভূভাগ থেকে ইসরাইলী প্রত্যাহারের পুনরায় দাবি জানানো হয়েছিল।

নিরাপত্তা পরিষদের একটিমাত্র প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মেনে নেয় এবং সেটি ছিল ১৯৬৭ সালের ২৪২ নম্বর প্রস্তাব। সমস্যা সমাধানে লক্ষ্যে কূটনৈতিক চেষ্টা শুরুর ভিত্তি হিসেবে প্রস্তাবটি মেনে নেয়া হয়। কিন্তু সেটিও পরিবর্ততে ওয়ার্শিটন-তেলআবিবের কূটকৌশলে বানচাল হয়ে যায়। ফিলিস্তিনী ভূভাগে ইহুদি বসতি নির্মাণ অগ্রহণযোগ্য তৎপরতা বলে প্রস্তাবে ঘোষিত হলেও অধিকৃত ভূখন্ডে নতুন বসতি নির্মাণ ইসরাইল অব্যাহত রাখে। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল এতোদিনে পরিণত হয়েছে একটি বাস্তবতায় এবং নিরন্ত্র বঞ্চনা, দুঃখদুর্দশা ও লাঞ্ছনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনীদের নিয়তি। নিজেদের পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের তাদের দাবির বাস্তবায়ন আজো সুদূর পরাহত। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলতে চান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আলোচনা প্রসঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়’ নামে একদল মানুষ যাদের উল্লেখ করে থাকেন, তারা আসলে আন্তর্জাতিক চরিত্রের অধিকারী কেউ নন।

ফিলিস্তিনী ইসরাইলী সমস্যাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তারা তাদের কসরত জারি রেখেছেন নিজেদের রাষ্ট্রীয় ও গোষ্ঠীগত আর্থিক রাজনৈতিক স্বার্থ সমৃদ্ধ করার কাজে। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়িত হতে পারেনি তথাকথিত এই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুরভিসন্ধির কারণেই। এদেরই তৎপরতার জোরে জাতিসংঘের সুপারিশ মোতাবেক ফিলিস্তিনী ভূভাগজুড়ে ইসরাইলের আবির্ভাব সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী দেশ ছাড়া ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তুদের ফিলিস্তিনে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন সম্ভব হয়ে উঠতে পারেনি এই তথাকথিত ‘আন্তর্জাতিক’দের বাধার কারণেই। দশ লাখের বেশি শরণার্থী ফিলিস্তিনীর অস্তিত্ব লাঞ্ছনার অবসান আজো অনিশ্চিত।

সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান যথার্থ বলেছিলেন। ফিলিস্তিনী-ইসরাইলী বিরোধ নিরসনে এবং ফিলিস্তিনে বহুদশক ধরে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারীর অবসানে জাতিসংঘের ব্যর্থতায় সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

বিপ্লব দিবসের উপস্থিতি শত্রুদের চপেটাঘাত

ডেস্ক নিউজআরটিএনএনঢাকা: গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে বিপ্লব বার্ষিকীর মিছিল ও শোভাযাত্রায় ব্যাপকভাবে ইরানের জনগণ অংশ নেওয়ায় . . . বিস্তারিত

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে গিয়ে ভালোবাসার টানে চীনা নারীর ইসলাম গ্রহণের রোমাঞ্চকর গল্প

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে গিয়ে ভালোবাসার টানে চীনা নারীর ইসলাম গ্রহণের রোমাঞ্চকর গল্পআন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদুবাই: আজ থেকে প . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com