সর্বশেষ সংবাদ: |
  • নির্বাচনের মাঠ এখনও লেভেল প্লেয়িং হয়নি: ড. কামাল
  • প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না নির্বাচন কমিশন, প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিতে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে ছাড় নয় : কমিশনার শাহাদাত
  • বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে ১৮ নভেম্বর, প্রথম দিন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ

সিরিয়ার ইদলিবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

১৩ সেপ্টেম্বর,২০১৮

সিরিয়ার ইদলিবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিরক ডেস্ক
আরটিএনএন
দামেস্ক: সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর ইদলিবে সরকার পন্থী সেনারা বড় আকারের হামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতিসংঘ সরকার সমর্থিত সেনাদের এই আক্রমণ প্রস্তুতি নেওয়াকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে বলেছে, এর ফলে অঞ্চলটিতে ‘খুব খারাপ মানবিক সংকট’ তৈরী হতে পারে। জাতিসংঘ বলেছে আক্রমণ হলে এর অধিবাসীরা পালানোর জন্য কোনো রাস্তা খুঁজে পাবে না।

এই অঞ্চলটি এখন সিরিয়া যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং ইদলিবই দেশটির সীমান্ত অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণ করে দিবে। সিরিয়া যুদ্ধের ৭ বছর যাবত যুদ্ধরত সকল পক্ষ সমূহ ইদলিবকে ঘিরে তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বাসার আল-আসাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য রাশিয়া এবং ইরান প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহী দলগুলো রাশিয়া, ইরান এবং সিরিয়ার স্বার্থে ক্রমান্বয়ে আঘাত করে যাচ্ছে। ইদলিবে এমনকি আসাদ বিরোধী অনেকগুলো জিহাদি দল যুদ্ধরত আছে যারা ইতিমধ্যেই বিজয় দাবি করছে।

সকল কিছুর ঊর্ধ্বে ইদলিবে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষ আটকা পড়ে আছে যাদের পালানোর কোনো পথ খোলা নেই। অনেকেই পরিত্যাক্ত শহর এবং গ্রামে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং অনেকে রাশিয়ার বোমারু বিমান গুলোর ভয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিচ্ছেন।

বিভিন্ন এনজিও জানিয়েছে যে, যদি বড় আকারের আক্রমণ হয় তবে প্রায় ৭০০,০০০ সংখ্যক মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি হারাতে হবে।

ইদলিবে কারা বাস করে?
ইদলিবে বর্তমানে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করছে। তাদের মধ্য অন্তত ১.৫ মিলিয়ন মানুষ সিরিয়ার অন্যান্য সংঘাত পূর্ণ এলাকা যেমন, গোউতা, দারাইয়া, দামেস্ক, আলেপ্পো ইত্যাদি শহর থেকে ইদলিবে এসেছিল।

ইদলিবে অনেক জনসমাগম হওয়ার ফলে এই আশংকা রয়েছে যে, শহরটি হয়ত একটি মৃত্যুপুরীতে রূপান্তরিত হতে পারে। শহরটিতে ২০১১ সাল থেকেই আসাদ বিরোধী জিহাদি দলগুলো কৌশলে স্থানীয় জনগণের সাথে মিশে গেছে যার ফলে আসাদ সরকার তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।

এই অঞ্চলের অধিকাংশই সিরিয়ার নাগরিক তবে তাদের মধ্য অনেকেই কুর্দি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘের হিসাব মতে ইদলিবের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ১ জন কোনো না কোনো পক্ষে যুদ্ধরত আছে।

ইদলিবে অন্তত ১০,০০০ বিদেশী যোদ্ধা যুদ্ধরত আছে তাদের মধ্যে অনেকেই আল-কায়দার সাথে যুক্ত হুরাস আল-দীন নামক জিহাদি গোষ্ঠীর অনুসারী।

কে কার জন্য যুদ্ধরত আছে?
তাহরির আল-শাম নামের জিহাদি গোষ্ঠীটি আসাদ বিরোধী হিসেবে যুদ্ধরত আছে। আসাদ বিরোধী হিসেবে তুর্কি সমর্থিত নর্দান-ফ্রন্ট নামের একটি জিহাদি গোষ্ঠীও উল্লেখযোগ্য।

আসাদ পন্থীদের মধ্য সিরিয়ার সরকারী বাহিনী উল্লেখযোগ্য যাদের অনেকেই আসাদ সরকারকে রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সরকারী বাহিনীর সাথে দেশটির অভ্যন্তরীণ মিলিশিয়ারা ও যোগ দিয়েছে এবং তারা স্বদেশকে রক্ষা করার জন্য মরণপণ যুদ্ধের জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ।

তবে মূল চাবি রাশিয়ার সেনাদের হাতে। বিশেষত রাশিয়ার বিমান বাহিনীর হাতে যারা আসাদ সরকারকে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাশিয়ার বিমান বাহিনীই ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আসাদ সরকারকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।

যদিও রাশিয়ার সেনা বাহিনী আসাদ সরকারের মূল দাবার গুটি তবে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া দলগুলো আসাদ পন্থীদের পক্ষে তাদের সর্ব শক্তি দিয়ে স্থলভাগে যুদ্ধরত আছে। এদের মধ্যে লেবানন ভিত্তিক হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর নাম উল্লেখযোগ্য যারা ইতিমধ্যেই তাদের অন্তত ১,৭০০ যোদ্ধাকে হারিয়েছে।

কি ঘটবে যদি বড় আকারের আক্রমণ শুরু হয়?
জাতিসংঘের মতে যদি বড় আকারের আক্রমণ শুরু হয় তবে অন্তত ৭০০,০০০ জন মানুষ আক্রমণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তুরস্কের সীমান্তের দিকে বা ইদলিবের পূর্বাঞ্চলের দিকে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যাবে। পুরাদস্তুর সেনা অভিযান শুরু হলে প্রদেশটিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

ইদলিবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানকার অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ, যেখানে জীবনধারণের জন্য আবশ্যক সেবা নিশ্চিত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ইদলিবে অভিযান চালানো হলে ‘মানবিক সঙ্কট এমন সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা এই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়নি’ বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী অভিযান শুরু হলে প্রায় ৮ লাখ মানুষ ঘর ছাড়া হতে বাধ্য হবে এবং মানবিক সঙ্কটে ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেডে যাবে।

বার্তা সংস্থা গার্ডিয়ানের মতে, মারাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে ইদলিব একটি রক্তের লেকে পরিণত হবে। ইদলিবের বাস্তু-চ্যুত মানুষের গন্তব্য পুরোপুরি অনিশ্চিত, কারণ অনেক তুরস্ক আগেই নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্যা গার্ডিয়ান।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করতে মার্কিন সিনেটে বিল

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিঙটন: ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে বর্বরভাবে হত্যা, মানবাধিকার কর্মীদের আটক ও ইয় . . . বিস্তারিত

খাসোগি হত্যার নির্দেশ আসলে কে দিয়েছিলেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলি বলছেন, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com