ফিলিস্তিনিদের নাকবা দিবস পালনের ইতিহাস

১৬ মে,২০১৮

ফিলিস্তিনিদের নাকবা দিবস পালনের ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
রামাল্লাহ: ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের সাথে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সোমবার প্রাণ হারালো ৬০ জনের মতো বিক্ষোভকারী।

ফিলিস্তিনের ইতিহাসে এটি আরো একটি শোকাবহ দিন।

১৫ই মে মঙ্গলবারেও সেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে। দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা পালন করছে আল-নাকবা দিবস বা বিপর্যয়ের দিবস হিসেবে।

এই দিন থেকেই ফিলিস্তিনিরা তাদের বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়তে শুরু করে।
কিভাবে শুরু হলো

এই নাকবা দিবসের উৎপত্তি ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে শুরু হওয়া আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ থেকে।

তার একদিন আগে, ১৪ই মে ইসরাইল নিজেদের ঘোষণা করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে।

সেসময় ওই এলাকা ছিল ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে। ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইন নামে তখন সেখানে এক বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিলো। সেটি যখন প্রায় শেষ হওয়ার পথে তখনই ইসরাইলকে ঘোষণা করা হয় স্বাধীন একটি রাষ্ট্র হিসেবে।

যে এলাকায় ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করা হয়, ইসরাইলি বাহিনী সেখান থেকে বেশিরভাগ আরবকে বহিষ্কার করে, কিম্বা তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

১৯৪৮-১৯৪৯ এই দু'বছরের আরব- ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে।

পরে ১৯৬৭ সালের জুন মাসে আরব ও ইসরাইলের মধ্যে আবারও যুদ্ধ হয় এবং সেসময় জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখণ্ড থেকে আরো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি জাতিসংঘে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত। তাদের বেশিরভাগই বাস করে জর্ডান, গাজা ভূখণ্ড পশ্চিম তীর, সিরিয়া, লেবানন এবং পূর্ব জেরুসাজালেমে।

তাদের এক তৃতীয়াংশ বসবাস করে শরণার্থী শিবিরগুলোতে।

প্রতিবছরই ফিলিস্তিনিরা এই নাকবা দিবসে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে তারা জড়ো হয় ইসরাইলি সীমান্তের কাছে। এবং দিনটিকে ঘিরে ইসরাইলের সাথে ফিলিস্তিনিদের তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নাকবা দিবসকে কেন্দ্র করে দুবার বড়ো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

ফিলিস্তিনিদের প্রধান দাবি- তাদের জমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার। এই দাবির ভিত্তি হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৪৮ সালে গৃহীত এক প্রস্তাব।

সেখানে বলা হয়েছে, যেসব শরণার্থী তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাইবে এবং প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিতে বসবাস করবে তাদেরকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।

ইসরাইলের বক্তব্য -৫০ লাখ শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়া অসম্ভব। কারণ সেরকম কিছু হলে তারাই ৮৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পড়বে এবং ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের সমাপ্তি ঘটবে।

ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি নেতারা উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরেই শরণার্থী সঙ্কট সমাধানের ব্যাপারে একমত হয়েছেন- কিন্তু সেই শান্তি আলোচনাই এখন অসম্ভব এক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

এবার গোলানে ইসরাইলের দখলদারির স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনজেরুজালেম: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইহুদিবাদী রাষ্ট . . . বিস্তারিত

প্রকাশ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ, তবু সন্দেহ!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: বেশ কয়েকদিন ধরেই জনসমক্ষে দেখা মেলেনি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালামান। তার এই অ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com