জেরুসালেমে আজান নিষিদ্ধ

১৫ মে,২০১৮

জেরুসালেমে আজান নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
জেরুসালেম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী তেলআবিবের পরিবর্তে সোমবার জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে এ দিন সকাল থেকেই নজিরবিহীন বিক্ষোভ করছে ফিলিস্তিনিরা।

তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরুর পর সেখানে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরাইল। সোমবার জেরুসালেমে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলি দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময় এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

দূতাবাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বহু ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। ওইসব ব্যানারে ‘ট্রাম্প মেক ইসরাইল গ্রেট’ এবং 'ট্রাম্প ইজ এ ফ্রেন্ড অব জিওন' স্লোগান লেখা ছিল।

এদিকে সোমবার (১৪ মে) সকাল থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজায় বিক্ষোভ করতে থাকলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নির্বিচারে তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে এ পর্যন্ত ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ২০০০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সৈন্যদের নির্বিচার গুলিতে সোমবার ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি দূত বলেছেন, গাজায় যা ঘটছে তাকে নিরপরাধ জনগোষ্ঠীর উপর ইসরাইলের এক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।

ইসরাইলে যুক্তরাষ্টের দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে এই ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটলো গাজায়। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। দু'হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলের হামলায় আহত হয়েছে।

২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর একদিনে এতো বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। মিসর অভিযোগ করেছে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করছে। অন্যদিকে তুরস্ক এই ঘটনাকে হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছে।

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জেইদ বিন রাদ জেইদ আল হুসেইন বলেছেন, যারা এই জঘন্য মানবাধিকার লংঘনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের উপর ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালায়।

জেরুসালেমে ‘ট্রাম্প টাউন’ বানাবে ইসরাইল

ইসরাইলের নির্মাণ বিষয়ক মন্ত্রী ইউভ গেলান্ট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে জেরুসালেমে একটি উপশহর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি দূতাবাসগুলোকে নিয়ে যাওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার তিনি নিউ ইয়র্কে বলেছেন, আমি আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরকে বিদেশি দূতাবাস নির্মাণের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রনয়ণের নির্দেশ দিয়েছি। আমি ওই শহরটির নাম 'ট্রাম্প টাউন' রাখতে চাই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলমানদের পবিত্র স্থান জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করায় এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তেল আবিব।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সারা বিশ্বের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের জেরুসালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেম শহরে সরিয়ে নেয়া হবে।

১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর ইসরাইলস্থ মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে নেয়ার বিল পাস করে মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু বিশ্বজনমতের প্রবল আপত্তির কথা বিবেচনা করে এতদিন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সাহস করেন নি।

উল্লেখ্য, ইসরাইল ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে জেরুসালেম শহর দখল করে নেয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

খাশোগী হত্যাকান্ড: যে পাঁচ কারণে সৌদিকে ঘাঁটাতে চাইবে না পশ্চিমা দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: যে অপরাধে অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো কঠোর ব্যবস্থা নেয়, স . . . বিস্তারিত

খাসোগি প্রশ্নে শাস্তি দেয়া হলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সৌদি আরবের

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: সৌদি আরব হুঁশিয়ার করে বলেছে, সাংবাদিক জামাল খাসোগির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে ক . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com