সর্বশেষ সংবাদ: |
  • গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে ড. কামালের সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকালে
  • তৃতীয় বেঞ্চে আজ শুনানি হতে পারে খালেদা জিয়ার রিট
  • নির্বাচনী সহিংসতা ‘তৃতীয় শক্তির পাঁয়তারা’ কি না খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ সিইসির

সিরিয়া হামলা: নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ রাশিয়া, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

১৬ এপ্রিল,২০১৮

সিরিয়া হামলা: নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ রাশিয়া, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
দামেস্ক: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভায় সুবিধা করতে পারেনি রাশিয়া। সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বে মিসাইল হামলার নিন্দা প্রস্তাব পাশও হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসে হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ।

সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বে ফান্স ও যুক্তরাজ্যের ক্রুজ মিসাইল হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছিল রাশিয়া।

শনিবারের নিউ ইয়র্কে সংস্থাটির সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হামলার ঘটনায় একটি নিন্দা প্রস্তাব পাশের আহ্বান জানিয়েছিল তারা।

সমর্থন পায়নি রাশিয়া
নিরাপত্তা পরিষদের সভায় রাশিয়ার বক্তব্য ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। তাই এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অচিরেই সিরিয়ায় তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব পাশ করেনি নিরাপত্তা পরিষদ। কারণ, পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে শুধুমাত্র চীন ও বলিভিয়া তাদের সমর্থন দিয়েছে। বাকি ১২টি রাষ্ট্রের মধ্যে আটটি তাদের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর চারটি রাষ্ট্র কোনো প্রকার ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অভিযোগ হলো, গত সপ্তাহে সিরিয়ার পূর্ব গুটায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর ডুমায় ‘রাসায়নিক হামলা' চালিয়েছে বাশার আল-আসাদের বাহিনী। তাই দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে আক্রমণ করেছে তারা। তাদের দাবি, যেসব স্থানে এ সব রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি বা মজুদ করা হয় সেখানেই হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, আসাদ সরকারের মিত্র রাশিয়া আঙুল তুলেছে যুক্তরাজ্যের দিকে। তাদের দাবি, গত সপ্তাহে সিরিয়ায় যে রাসায়নিক হামলা হয়েছে তা মঞ্চায়িত করেছে এই দেশটি। তারা রাসায়নিক হামলার তদন্ত করছিল।

কিন্তু রাশিয়া ও সিরিয়ার দাবি কোনোভাবেই ধোপে টেকেনি। ন্যাটোর ২৯ সদস্যরাষ্ট্রের প্রত্যেকেই এই মিসাইল হামলার সমর্থন করেছে।

হামলাকারী তিন দেশেরই দাবি, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কারখানাগুলো ধ্বংস করতে যে হামলা তারা করেছে, তা সফল হয়েছে। শিগগিরই তারা জাতিংঘে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

দ্বিধাবিভক্ত বিশ্ব
এদিকে, সিরিয়ায় মিসাইল হামলা নিয়ে গোটা বিশ্বে দেখা দিয়েছে দ্বিধাবিভক্তি। অনেক রাষ্ট্র ও সংস্থা সরাসরি সিরিয়ায় রাষ্ট্রত্রয়ীর মিসাইল হামলাকে সরাসরি সমর্থন করেছে। অনেকে আবার পরোক্ষভাবে সমর্থন করতে গিয়ে এক সপ্তাহ আগের রাসায়নিক হামলার সমালোচনা করেছে। রাশিয়া ছাড়া এই হামলার নিন্দা করেছে ইরান, চীন ও ইরাক।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ‘সিরিয়ায় হামলাটি একটি অপরাধ।' হামলাকারী তিন দেশের প্রেসিডেন্টকে ‘অপরাধী' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এর থেকে কিছুই হাসিল করতে পারবে না তারা।'

চীন অবশ্য একটু সতর্কতার সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জোর খাটানোর বিরোধিতা সব সময়ই করে আসছে চীন। আমরা মনে করি, সিরিয়ার সমস্যা একমাত্র রাজনৈতিকভাবেই সমাধান সম্ভব।'

ইরাক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এমন একটি হামলার পরিণতি ‘ভয়াবহ' হতে পারে। এটি নতুন করে এ অঞ্চলে জঙ্গিবাদকে উসকে দিতে পারে।

অনেক রাষ্ট্রই সমর্থন দিয়েছে এ হামলাকে। বিশেষ করে জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ক্যানাডা সমর্থন দিয়েছে। তবে জার্মানি ও ক্যানাডা এ হামলায় অংশ নেবে না বলে আগেই জানিয়েছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ক্যানাডা প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো উভয়ই এই হামলাটি ‘জরুরি ছিল' বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, তুরস্কও সমর্থন দিয়েছে এই হামলাকে। তারা রাসায়নিক হামলার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃ্ত্বে এই হামলার দরকার ছিল। আর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাসায়নিক হামলার নিন্দা করলেও সব পক্ষকে ‘শান্ত' থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ
হাজারো গ্রিক নাগরিক রাজধানী এথেন্সে সিরিয়ায় হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে এই সমাবেশ থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

শনিবার তারা শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয়ে পরে মার্কিন দূতাবাসের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় তাদের হাতে, ব্যানারে নানা ধরনের প্রতিবাদী বক্তব্য লেখা ছিল। অনেকেই দেয়ালে, ফুটপাথে লাল কালিতে লেখেন, ‘অ্যামেরিকানরা খুনি'।

পুলিশের বাধায় অবশ্য বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে যেতে পারেননি।

একই রকমের প্রতিবাদ হয়েছে ওয়াশিংটনেও। হোয়াইট হাউজের সামনে নানান প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক প্রতিবাদকারী। তারা হামলার প্রতিবাদ জানান এবং সিরিয়ায় আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানান।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

প্রতিরক্ষা শক্তি নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করে না ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনতেহরান: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, আমাদের প্রতির . . . বিস্তারিত

মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে ‘ওপেক’ ত্যাগের ঘোষণা দিল কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদোহা: ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com