আসাদের খুঁটির জোর কোথায়?

১৬ এপ্রিল,২০১৮

যেভাবে টিকে আছেন কুখ্যাত স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ

আসাদের খুঁটির জোর কোথায়?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
দামেস্ক: এক বছর আগে সিরিয়াতে যে হামলা চালানো হয়েছিলো, এবারের আক্রমণ ছিলো তারচেয়েও বড় ধরনের। সেবার আক্রমণ করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র একা। এবার তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

গতবার সিরিয়ার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে যতো হামলা চালানো হয়েছিলো, এবার তারচেয়েও বেশি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, দ্বিগুণেরও বেশি। খবর বিবিসি

কিন্তু মূল যে প্রশ্ন সেটা রয়ে গেছে একই- এর মাধ্যমে কি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের লক্ষ্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ যাতে আবারও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করেন। সেজন্যে এই আক্রমণের মাধ্যমে তাকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের এপ্রিল মাসের আক্রমণের পর সিরিয়ায় যুদ্ধের অবসান ঘটেনি। কিন্তু দুটো বড়ো ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।

প্রথমতঃ এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের জয় হচ্ছে এবং তার কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখা। প্রেসিডেন্ট আসাদ এখনও হয়তো পুরো সিরিয়ায় তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নি, কিন্তু রাশিয়া ও ইরানের সমর্থন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মতো সিরিয়াতে এখন আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয়তঃ ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক- সাধারণভাবে বলতে গেলে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের উল্লখযোগ্য রকমের অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে অনেকেই বর্তমান অবস্থানকে তুলনা করছেন শীতল যুদ্ধের সাথে।

এরকম পরিস্থিতিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে শাস্তিমূলক বার্তা দিতে চেয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বার্তায় কতোটা কাজ হবে? প্রেসিডেন্ট আসাদ কি কিছুটা হলেও ভীত হবেন? নাকি আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন? এর ফলে রাশিয়ার অবস্থানের কি কোন পরিবর্তন ঘটবে?

প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাংবাদিক জনাথন মার্কাস বলছেন, এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান খুব একটা পরিষ্কার নয়।ট্রাম্প নিজেও তার দেশের ভেতরে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে জর্জরিত।

এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যেসব হুমকি দিচ্ছিলেন তাতে মনে হচ্ছিলো বড় ধরনের সামরিক অভিযানই পরিচালিত হবে। কিন্তু কার্যত সেরকম কিছু হয়নি। সুতরাং এখান থেকে মস্কো কিম্বা প্রেসিডেন্ট আসাদ কি ধরনের উপসংহার টানতে পারেন?

পেন্টাগন এমনভাবে এই অভিযান চালিয়েছে যাতে 'বিদেশিরা' বিশেষ করে 'রুশরা' যাতে আক্রমণের শিকার না হয় সেবিষয়ে তারা সচেষ্ট ছিলো। যে তিনটি জায়গাতে হামলা চালানো হয়েছে, বলা হচ্ছে, সেগুলো প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের রাসায়নিক অস্ত্রের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু একই সাথে এসব জায়গায় বেসামরিক লোকজনের হতাহত হওয়ার ঝুঁকিও ছিল খুব কম।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা যেমনটা বলেছেন, সিরিয়ার আরো কিছু জায়গা যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ছিলো, সেগুলোতে আক্রমণ করা হয়নি। তাদের স্পষ্ট বার্তা ছিল- প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার যদি আবারও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে তাদের উপর আরো হামলা চালানো হবে।

কিন্তু গত এপ্রিলের অভিযানের পরেও কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষ করে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে। তখন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কোন আক্রমণে যায় নি।

এখন পশ্চিমারা আশা করছে যে এর ফলে আসাদের আচরণের পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু সিরিয়ায় যে গৃহযুদ্ধ চলছে তার কি হবে? এই বর্বর যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোন লক্ষণই তো চোখে পড়ছে না। অনেকেই বলছেন, সিরিয়াতে যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে সেগুলো হচ্ছে ব্যারেল বোমা, বুলেট এবং গোলা-হামলার কারণে। রাসায়নিক হামলার কারণে নয়। কিন্তু এটাই কি শুধু পশ্চিমা বিশ্বকে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে আগ্রহী করে তুললো?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের কারণে পশ্চিমা বিশ্বে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কারণে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারে একটা ভীতি আছে। এই অস্ত্রের ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করে গৃহীত আন্তর্জাতিক চুক্তিও নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা।

কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বের সবশেষ এই আক্রমণ সিরিয়ার পরিস্থিতির কতোটা পরিবর্বতন ঘটাবে? এর ফলে কি গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্যে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে? দুঃখজনকভাবে এর উত্তর হচ্ছে - না।

এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পরিষ্কার কোন কৌশলও নেই।

রাশিয়ার উত্থান
আসাদ সরকারের প্রতি সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে রাশিয়া ওই অঞ্চলে তার অবস্থানকে আরো জোরালো করেছে। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিঁয়ারও করে দিয়েছে তারা যাতে সিরিয়াতে আক্রমণ না করে। কিন্তু এই আক্রমণের পর রাশিয়া এখন কি করতে পারে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি কোন যুদ্ধে জড়াবে না রাশিয়া। তবে তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রচারণাকে আরো তীব্র করতে পারে।

এরকম প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তারা বলছে, সিরিয়াতে রাসায়নিক হামলার কোন প্রমাণ তারা পায়নি। শুধু তাই নয়, তারা এও বলছে যে, আসাদ ও মস্কোকে বিপদে ফেলার জন্যে ‘বিদেশি এজেন্টদের দিয়ে এরকম একটি ঘটনা সাজানো’ হয়েছে।

নতুন করে শীতল যুদ্ধ
নিঃসন্দেহেই এটা বলা চলে যে নতুন করে এক শীতল যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে পরমাণু যুদ্ধের হয়তো কোন আশঙ্কা নেই, কিন্তু এটাও ঠিক যে এই পরিস্থিতিতে কি ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে সেটাও হয়তো আঁচ করা সম্ভব নয়।

সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সুপারপাওয়ার নয় রাশিয়া। এই দেশটির এখন আর তেমন কোন আদর্শ নেই যার ফলে সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামীরা তাদেরকে সমর্থন দিতে পারে। রাশিয়া এখন মাঝারি ধরনের আঞ্চলিক শক্তি যার উল্লেখযোগ্য রকমের পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। একই সাথে আছে দুর্বল অর্থনীতিও। কিন্তু এই দেশটি এখন জানে কিভাবে তথ্য দিয়ে যুদ্ধ চালাতে হয়। এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন তো রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।

সিরিয়ায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইসরায়েলের সাথেও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ইসরায়েল সিরিয়ার একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ফলে উত্তেজনা বাড়ছে। এই উত্তেজনার শেষ কোথায়, কিভাবে ও কখন সেটা কেউ বলতে পারে না।

আর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সবশেষ এই সামরিক আক্রমণ হয়তো এই উত্তেজনাতেই আরো একটা মাত্রা যোগ করলো।

যেভাবে টিকে আছেন কুখ্যাত স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ
ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে গোলাবারুদ ব্যবহার করায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে বিরোধীদের তরফ থেকে ‘স্বৈরশাসক’ তকমা দেওয়া হয়েছিল আরো আগেই। কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত তাকে বিশ্বের সাধারণ জনতার কাছে কুখ্যাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২০১১ সালের মার্চে যখন সিরিয়ায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম গণজাগরণ শুরু হয়, সিরিয়ার অনেকাংশের উপর বাশার আল-আসাদ তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। সাত বছর যাবৎ চলে আসা গৃহযুদ্ধের প্রথম তিন বছরে সরকার বিরোধীরা সিরিয়ার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। কিন্তু পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে আসাদের পক্ষে রাশিয়া এবং ইরানের ভূমিকা যুদ্ধের গতিবিধিতে খানিক পরিবর্তন এনে দেয়।

গতবছর নভেম্বরে বাশার আল-আসাদ সিরিয়ার রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সাত বছরের চলমান গৃহযুদ্ধে তার পাশে থাকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

মস্কোতে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি তার কাছে (পুতিন) কৃতজ্ঞ এবং একই সাথে রাশিয়ার জনগণের প্রতি। তারা আমাদের দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।’

২০১১ সালের আরব বসন্তের ছোঁয়ায় অন্যান্য স্বৈরাচার শাসিত আরব দেশেগুলোর মত সিরিয়াতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু জনগণের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সিরিয়ার সরকার সামরিক প্রক্রিয়ায় নিষ্ঠুরভাবে দমন করার প্রচেষ্টা চালায়। ফলে, সরকারী বাহিনীর আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষার জন্য সরকার বিরোধী পক্ষগুলো একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার চার মাস পর ফ্রি সিরিয়ান আর্মি গঠন করে।

২০১১ সালের জুলাই মাসে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি গঠিত হলে তারা নিজেদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সরকারী বাহিনীর হাত থেকে সুরক্ষা প্রদানের প্রয়াস চালায়।

আমেরিকা এবং কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্র সিরিয়ার এই গৃহযুদ্ধে ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে যৎসামান্য কিছু সহায়তা দান করেছিলো।

কিন্তু বিরোধীদের রাজনৈতিক জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল একজন সর্বগ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়। যিনি বিভিন্ন বিরোধী পক্ষসমূহকে একত্রে নিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে নেতৃত্ব প্রদান করে বিপ্লবকে সংহত করতে সক্ষম হবেন।

সরকার বিরোধীদের মতে, সিরিয়ার সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ বিরোধীপক্ষের সর্বগ্রহণযোগ্য কিছু নেতৃত্বকে পূর্বেই হত্যা করতে সক্ষম হয়।

ইসতিনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মেসুত হাক্কি জাসিন বলেন, আসাদের পতনের ফলে পশ্চিমারা ভয় পেয়ে যায়। তারা ভাবছিলো সিরিয়ার অবস্থা সাদ্দাম পরবর্তী ইরাকের রূপ ধারণ করতে পারে। আসাদ সফলভাবে এই বার্তা দিতে সক্ষম হন যে, তার পতনের ফলে সিরিয়ার অবস্থা অনিয়ন্ত্রিত এবং অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

এছাড়া সাত বছরের গৃহযুদ্ধে আসাদ তার প্রভাব বজায় রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রের সরকারী কর্মচারীদের বেতন নিয়মিত রেখেছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে তিনি জরুরী নাগরিক সুবিধা সমূহ যথা পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রভৃতি ঠিক রেখেছেন। এমনকি সরকার বিরোধী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলেও তা বজায় রেখেছিলেন। সিরিয়ার উপর প্রভাব ধরে রাখতে তার এই কর্মকান্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যদিও সিরিয়ার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সময় এর মধ্যে কোনো মাযহাবগত পার্থক্যের বিষয় ছিলো না, কিন্তু গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যে তা মাযহাবগত পার্থক্যে রূপ নেয়।

সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সিরিয়ায় শাসিত হয়ে আসছিলো সংখ্যালঘু আলাভি শাসকদের দ্বারা। আসাদ পরিবার সিরিয়ায় সর্বদাই সাম্প্রদায়িক বিরোধকে লালনপালন করে আসছিলো। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই আসাদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষরত বিভিন্ন পক্ষসমূহের বিপরীতে আসাদকে বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র সংগঠন এবং ইরান সহায়তা প্রদান করা শুরু করে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ কিল অর্টন বলেন,‘লেবাননের হিযবুল্লাহকে সাহায্য সরবরাহের সংযোগ ঠিক রাখার স্বার্থেই ইরান আসাদকে সহায়তা প্রদান করে।’

হিযবুল্লাহ লেবাননের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন, যেটি ইরানের সহায়তায় পরিচালিত হয়।

এছাড়া সিরিয়ায় আসাদের পক্ষে অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রাশিয়া। ২০১৫ সালে তারা প্রথম সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করে। দায়েশের সন্ত্রাস দমনের নামে তারা সরকার বিরোধী বাহিনীর উপরও হামলা চালায়।

অর্টনের মতে, সিরিয়া রাশিয়ার জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয় ছিলো। সিরিয়ায় তাদের উপস্থিতি বিশ্বশক্তি হিসেবে তাদের প্রভাবকে বজায় রাখার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ছিলো।

রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর থেকেই সিরিয়ায় বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্থানগুলোর উপর আসাদের নিয়ন্ত্রণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছু দিন পরেই সিরিয়ার বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকা আল কায়েদার সদস্যদের আসাদ ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে এরাই সিরিয়ায় আল-নুসরা এবং দায়েশের মত সংগঠনের জন্ম দিয়ে সিরিয়ায় চরম অস্থিরতার সূচনা করে।

তখন আমেরিকা, রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের সকলেরই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় দায়েশ। দায়েশকে উৎখাত করতে তারা সিরিয়ার মূল সংকট থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।

ইরান এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বজায় রাখার স্বার্থে আসাদকে সহায়তা করে যায়।

দায়েশ থেকে নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে সিরিয়ার সরকার বিরোধীদের সমর্থক তুরস্ক তাদের সীমান্তে মনোযোগী হয়ে উঠে।

এছাড়া দায়েশকে মোকাবেলার জন্য আমেরিকার তুরস্কের সাথে ত্রিশ বছর যাবৎ সংঘর্ষরত কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন ওয়াইপিজিকে সহায়তা দিলে তুরস্ক তার সীমান্তের নিরাপত্তা সম্পর্কে আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে, একইসাথে দায়েশ ও ওয়াইপিজিকে দমনের স্বার্থে তুরস্ক ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সাথে যৌথভাবে সিরিয়ার সংঘর্ষে প্রবেশ করে।

সাত বছর যাবৎ চলে আসা এই গৃহযুদ্ধের একটি মাত্র ফল এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট, অন্যের সাহায্যে হলেও বাশার আল আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতায় টিকে আছেন। আরব বসন্তের অন্যান্য স্বৈরশাসকরা যেখানে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেখানে আসাদ এখনো বহাল তবিয়তে সিরিয়া শাসন করছেন। তিনি এমন একটি গৃহযুদ্ধে টিকে যেতে সক্ষম হয়েছেন, যে গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুহারা হয়েছে বারো মিলিয়ন মানুষ।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

ইরানকে নিষেধাজ্ঞায়, একমত হয়নি চুক্তি স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচটি দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনতেহরান: ইরানের পরমাণু কর্মর্সূচি বন্ধ করার চুক্তিতে যে ৬টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল - তা থেকে মার্কি . . . বিস্তারিত

দু সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়াকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে: সের্গেই শোইগু

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদামেস্ক: বিতর্কিত এক পরিস্থিতিতে একটি রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পরই মস্কো ঘোষণ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com