সিরিয়ার যেসব স্থাপনায় ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যৌথ বাহিনী

১৫ এপ্রিল,২০১৮

সিরিয়ায় যেসব স্থাপনায় ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যৌথ বাহিনী

সিরিয়ায় যেসব স্থাপনায় ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যৌথ বাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
দামেস্ক: সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বিমান ও নৌ বাহিনী সিরিয়ার বেশ কয়েকটি স্থাপনায় কার্যকর হামলা চালিয়েছে। তারা ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এসব যুদ্ধজাহাজ লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশ ও ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশে মোতায়েন করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্ট্যাফের চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেন, যুদ্ধজাহাজ ও জঙ্গি বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তিনটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে। তিনটি লক্ষ্যবস্তুর একটি হচ্ছে দামেস্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী একটি গবেষণাগার। অন্যটি হলো হোমসে রাসায়নিক অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও রাসায়নিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ রক্ষণ কেন্দ্র।

রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী গবেষণাগার ধ্বংস:
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উত্তরাঞ্চলীয় বারজেহ জেলায় অবস্থিত দেশটির সায়েন্টিফিক স্ট্যাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার। এটি রাসায়নিক ও জীবাণু যুদ্ধ প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদন ও পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হত। সেখানে ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ওই সব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৫৭টি ছিল টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বাকি ১৯টি জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল।

হোমসের রাসায়নিক অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস:
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্ট্যাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ম্যাকেঞ্জি জানান, সেখানে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। সেগুলোর মধ্যে নয়টি ইউএস টমাহক মিসাইল, আটটি ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল ও ফ্রান্সের ছোড়া পাঁচটি- নেভাল ক্রুজ মিসাইল এবং ২ এসসিএএলপি ক্রুজ মিসাইল রয়েছে।

হিম শিনশর রাসায়নিক অস্ত্র বাঙ্কার ধ্বংস:
জেনারেল ডানফোর্ড বলেছেন, হোমসের পশ্চিমের কথিত ওই রাসায়নিক অস্ত্র মজুদাগার থেকে সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান। রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম মজুদের পাশাপাশি এটা গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
তবে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির সরকারি বাহিনী এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে।

এদিকে সিরিয়ায় সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের হামলায় ক্ষুব্ধ হয়েছে রাশিয়া। এ ধরণের হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ধরণের পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটি। রাশিয়া বলেছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপমান কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত টুইটারে এক বিবৃতিতে বলেন, তার দেশকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এর পরিণতি ভয়ংকর হবে। এ ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকা হবে।

গত সপ্তাহে দামেস্কের কাছে ডৌমায় রাসায়নিক হামলা হয়। এতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় অন্তত ৪০ জন মারা যায়।

মার্কিন হামলার আগেই সিরিয়ার স্থাপনাগুলো খালি করা হয়!
সিরিয়ার যে স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন মিসাইল হামলা চালিয়েছিল ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেগুলো আগেই খালি করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আসাদ পক্ষের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি বলেছেন, যে স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলো হামলার আগেই খালি করে দেওয়া হয়েছিল। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সিরিয়াকে আগেই সতর্ক করেছিল রাশিয়া। রাশিয়ার সতর্কবাণী পেয়েই হামলার তিন দিন আগে ওই স্থাপনাগুলো থেকে কর্মরতদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছ। ওই কর্মকর্তা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর পক্ষাবলম্বী একটি আঞ্চলিক জোটে কর্মরত।

রয়টার্স ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য উদ্ধৃত করেছে, ‘আমরা ওই হামলার ধাক্কা সামলে উঠেছি। রাশিয়ার কাছ থেকে আগেই আমরা সতর্কতা বার্তা পেয়েছিলাম। সব সামরিক ঘাঁটি কয়েক দিন আগেই খালি করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, অন্তত ১০৩টি মিসাইল ছোড়া হয়েছিল। তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ভূপাতিত করা হয়েছে। এখন তারা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা করছেন।

রয়টার্স লিখেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর হামলায় দামেস্কতে থাকা একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার এবং হোমসে থাকা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, এছাড়াও দামেস্কতে আরও একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে দামেস্কের মেজ্জাহ এলাকায় সিরিয়া সেনাবাহিনীর ‘রিপাবলিকান গার্ড’ ও ‘ফোর্থ ডিভিশন’ নামে পরিচিত সেনা সদস্যদের বিশেষ ইউনিটের ৫টি সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।

সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা বলেছে, হোমসের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে লক্ষ্যচ্যুত করা হয়েছে। এ সময় তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ভোরবেলায় হওয়া হামলার প্রতিক্রিয়ায় আসাদ সমর্থকরা শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। তারা সেখানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিয়েছে। শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ অফিস করেছেন।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমা দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে বলেছে, তাদের ওই হামলা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সিরিয়ার প্রত্যয়ের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। সিরিয়া নিজের দেশের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানার প্রতিবেদনে, ‘এই জঘন্য আক্রমণ কোনোভাবেই সিরিয়ার জনসাধারণের দৃঢ়তা ও নিষ্ঠা এবং তাদের বীর সেনাবাহিনীর ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। এই হামলা শুধু বিশ্বব্যাপী শঙ্কাকেই বাড়িয়ে তুলবে।’

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

খাসোগি প্রশ্নে শাস্তি দেয়া হলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সৌদি আরবের

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: সৌদি আরব হুঁশিয়ার করে বলেছে, সাংবাদিক জামাল খাসোগির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে ক . . . বিস্তারিত

যে অস্ত্র যুদ্ধে আসাদকে জয়ী হতে সাহায্য করেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদামেস্ক: সিরিয়ায় সাত বছর ধরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলার পর এখন মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল- . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com