ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি বহাল রাখতে ইইউ’র আহবান

১২ জানুয়ারি,২০১৮

ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি বহাল রাখতে ইইউ’র আহবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
তেহরান: ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে না আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ওই চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচী সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

ইরান, ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরিস জনসন বলেছেন, এই চুক্তিই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে পারে। খবর বিবিসির

তিনি বলছেন, ‘আমি মনে করিনা কেউ এর চেয়ে ভালো কোন উপায় নিতে আসতে পারবে। যারা এটির বিরোধিতা করছে, তারা আরো ভালো সমাধান নিয়ে আসুক, কারণ আমরা এরকম কিছু কখনো দেখতে পাইনি।’

ওই চুক্তিটি থেকে সরে আসতে বা সংশোধন করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ ওই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একতরফা ভাবে বাজে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ইরানের উপর পুনরায় অবরোধ আরোপেরও হুমকি দিয়েছেন।

তবে ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি বলছেন, এই চুক্তিটি কাজ করছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভালোভাবে নজরদারি করতে পারছে। এরকম একটি চুক্তি রক্ষা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক থাকা দরকার, যা বিশ্বকে নিরাপদ করতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবারই জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তিটি থেকে সরে যায়, তাহলে তারাও এর ‘উপযুক্ত আর ওজনদার’ জবাব দিতে প্রস্তুত আছে।

যদিও ইরান বরাবরই দাবী করে আসছে যে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশেই তারা তাদের পারমানবিক কর্মসূচী পরিচালনা করছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-সৌদির আচরণ যুদ্ধের দিকে ধাবিত করবে: ম্যাক্রন
ইরান ইস্যুতে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবের কড়া সমালোচনা করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন ছেন। তার অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরম্ভ করার পথে হাটছে এই তিন দেশ।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চলমান ইরানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা এই বিক্ষোভ নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান ব্যক্ত করেছে। এই ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবের কড়া সমালোচনা করে ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন বলেন, এই দেশগুলো ইরানের ব্যাপারে যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তিন দেশই বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে ইরানকে একঘরে করর চেষ্টা করছে।

তিনি হুশিঁয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরব, যারা বিভিন্নভাবেই আমাদের মিত্র, তাদের নেওয়া আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রায় নিশ্চিতভাবেই আমাদেরকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করবে। এই দেশগুলোর মধ্যে কেউ আবার উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এমন কৌশল হাতে নিয়েছে।

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। সৌদি আরবও ইরানকে এক নম্বর শত্রু মনে করে দেশটির মালিকানাধীন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

ইরানের সরকারী কৌঁসুলি মোহাম্মদ জাফর মোনতাজেরিন এই বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে দায়ী করেছেন।

বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বলছে, দেশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সরকারপন্থী সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সংঘটন, সেন্সরশিপ আরো ও ইরানের জনগণের সম্পদ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট কর্তৃত্ব রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

বিশ্বের ‘ক্যানসার’ ইসরাইলকে একেবারে মুছে ফেলতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনজেরুজালেম: মুসলিম বিশ্বের বুকে ক্যানসার হয়ে বসে থাকা ইসরাইলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে . . . বিস্তারিত

সিরিয়ায় কুর্দি বিরুদ্ধে অভিযান অত্যাসন্ন: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইস্তাম্বুল: সিরিয়ার উত্তরপূর্বে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট একটি কুর্দি-প্রধান মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com