গাজার কর্মচারী ইস্যুতে হামাস ও ফাতাহ’র ঐকমত্য

০৭ ডিসেম্বর,২০১৭

গাজার কর্মচারী ইস্যুতে হামাস ও ফাতাহ’র ঐকমত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
গাজা: গাজায় ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) এর শাসনকালে সেখানকার সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে হামাস ও ফাতাহ।

মঙ্গলবার গাজায় একটি সংবাদ সম্মেলনে হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা সালাহ আল-বারাদিল এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমাধান চাইছি যা পুরোনো কর্মীদের তাদের কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এবং নতুন কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেয়।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কর্মচারী সমস্যা সম্পর্কে আমাদের মধ্যে একটি ‘মৌখিক চুক্তি’ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গাজা স্ট্রিপকে পুরোপুরি হস্তান্তর করার আগে হামাস সমস্ত বাধাকে দূর করতে চায়; যাতে সব কর্মচারীর অধিকার সংরক্ষিত থাকে।’

আল-বারাদিল বলেন, ‘সরকারের পূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করতে আমরা চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।’

তিনি নিশ্চিত করেন যে, গাজায় সব মন্ত্রী সঠিকভাবে কাজ করছে।

এই সমস্যা অত্যন্ত মসৃণভাবে সমাধান হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে হামাসের মুখপাত্র বলেন, এটি ফিলিস্তিনের জনগণের রাজনৈতিক বিভক্তির অবসান ঘটানোর অনুভূতি জাগাবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি যে আগামী সপ্তাহের শুরুতে সমস্ত মানুষ অনুভব করতে সক্ষম হবে যে, গাজায় আরোপিত শাস্তিমূলক পদক্ষেপের অবসান ঘটেছে।’

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

হামাস–ফাতাহ সমঝোতা
পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট মূলধারার ফাতাহ দল ২০০৭ সালে হামাসের কাছে গাজার নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর একাধিকবার ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সবগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

গত মাসে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ সরকারের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি হয়। এখন হামাসের বিশাল সামরিক শাখার কী হবে—তা উভয় পক্ষের কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রসঙ্গত, হামাস ২০০৮ সাল থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে জড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে হামাস একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

হামাসের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়াহ গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মিসরের মধ্যস্থতায় আজ ভোরে ফাতাহ ও হামাস চুক্তিতে পৌঁছেছে।’

এদিকে মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা জাকারিয়া আল-আঘা বলেছেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এক মাসের মধ্যে গাজা উপত্যকায় সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যদি যান, তবে এটি হবে এক দশকের মধ্যে গাজায় তাঁর প্রথম সফর।

ফাতাহ বলেছে, হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজাতে মাহমুদ আব্বাসের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই তুলে নেওয়া হবে। সম্প্রতি গাজায় শাস্তিমূলক কিছু ব্যবস্থা নেন আব্বাস। তার মধ্যে একটি ছিল দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। ফাতাহ নেতা আল-আঘাও শিগগির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন।

বলা হচ্ছ যে মারাত্মক বিদ্যুৎ ঘাটতির জেরে সাহায্য পাওয়ার আশায় মিসরের দ্বারস্থ হয় হামাস। গাজা উপত্যকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করতে রাজি হয় মিসর। এর বদলে কায়রো ফাতাহর সঙ্গে চুক্তি ও মীমাংসায় আসার জন্য হামাসকে চাপ দেয়। ১০ বছরের সংঘাত অবসানে ২০১১ সালের কায়রো চুক্তির বাস্তবায়নে সেখানে বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো গাজায় যান গত সপ্তাহে। সেখানের সরকারি দপ্তরগুলোর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ নেন তাঁর মন্ত্রীরা। তবুও এসবকে প্রতীকী হিসেবে বলা হচ্ছে। কারণ গাজার নিয়ন্ত্রণ এখনো হামাস করছে।

চির বৈরী ফাতাহ ও হামাসের মীমাংসার উদ্যোগগুলো বারবার ব্যর্থ হওয়ায় এবারের উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার একটি আশঙ্কা থেকেই যায় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সেই সঙ্গে গাজায় আসলেই দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা দেখার অপেক্ষাও করছেন তারা।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

হামাসের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ইসরাইলের ‘না’

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনগাজা: ইসরাইলের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাস। গ . . . বিস্তারিত

আফগান যুদ্ধ অবসানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান ইসলামি নেতাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: সৌদিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ইসলামি পণ্ডিতদের একটি সম্মেলন থেকে আফগানিস্তানে চলম . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com