অচিরেই মায়ানমারের অবস্থা হবে ইরাক-আফগানিস্তানের মতো: তুরস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
আঙ্কারা: রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না করলে অচিরেই মায়ানমারকে ইরাক ও আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হবে বলে মনে করেন তুরস্কের রাজনীতিবিদ হাসান বিতমেজ।

রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এধরনের মন্তব্য করেন হাসান বিতমেজ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যায় মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ থাকতে পারে এবং মায়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা ইস্যুর ইতি না টানলে ২০০০ সালের মার্কিন হস্তক্ষেপ বিশ্ব আবার নতুন করে দেখবে।

তুরস্কের ফ্যাসিলিটি পার্টির এই ডেপুটি চেয়ারম্যান সতর্কতা জারি করে বলেন, ভূ-রাজনীতিগত কারণে বাহ্যিক শক্তিগুলো মায়ানমারে প্রভাব বিস্তার করতে উৎসুক এবং মায়ানমারের উচিত তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ রোধ করা।

আন্তর্জাতিক শক্তি সম্পদ এবং অর্থনৈতিক করিডোর হওয়ার কারণে এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক খেলোয়াড়দের বিচরণভূমিতে পরিণত হয়েছে। তুর্কি এই রাজনীতিবিদ বলেন, এই স্থান এখন চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসিদ্ধির অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

২০০৪ সালে রাখাইনের বিশাল শক্তি সম্পদ উন্মোচন হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং মায়ানমার থেকে গ্যাস সরবরাহের এই বিরাট সুযোগ নিয়ে নেয়। চীন মায়ানমারের কিউক ফু বন্দরের সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের কুইমিং শহরে তেল-গ্যাসের পাইপলাইন সংযোগ সম্পন্ন করে। এর প্রকল্পের মাধ্যমে বেইজিংয়ের শক্তি সরবহারের পথে নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয় এবং দেশটি মালাক্কা স্ট্রেইট ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাতে তেল সরবরাহ করে। চীন ছাড়া ভারতের সঙ্গেও মায়ানমারের বড় বিনিয়োগ, সীমান্ত ইস্যু ও অর্থনৈতিক চুক্তি রয়েছে।

১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভারতের গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতি ভারতের নীতি আদর্শ না হলেও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব কথার মূল কথা হল স্বার্থগত কারণে বাহ্যিক এই খেলোয়াড়রা রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠির ভাগ্য নির্ধারণ করেছে।

কিন্তু ২০০০ সালে আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বিশ্বের ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিবেশি দেশগুলোকে এখনো সেই হিসেব টানতে হচ্ছে। আর শক্তি সম্পদের কৌশলগত কারণে ভৌগলিক রাজনীতির খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত এবং দেশটি চীনের অর্থনৈতিক সুবিধায় বাধা প্রদান করা সহ এই অঞ্চলের শক্তি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

হাসান বিতমেজ আশা প্রকাশ করে বলেন, ২৫ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন জাতিগত নিধনের বিষয়ে মায়ানমার আলোচনা ও কূটনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তুরস্কের নেতৃত্বে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মাধ্যমে এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। আঙ্কারা ইতোমধ্যে জাতিসংঘ এবং ওআইসিকে এই সমস্যার সমাধান করতে আহবান জানিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েফ এরদোগান মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মিয়ানমার তুরস্কের সহায়তা সংস্থাকে রাখাইন এলাকায় ১ হাজার টন খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে এই সংকটের ইতি টানতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবরোধ আরোপ করে হলেও অতি দ্রুত এর লাগাম টানতে হবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

সিরিয়ায় কুর্দি বিরুদ্ধে অভিযান অত্যাসন্ন: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইস্তাম্বুল: সিরিয়ার উত্তরপূর্বে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট একটি কুর্দি-প্রধান মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের . . . বিস্তারিত

তালেবানের সঙ্গে গোপন বৈঠকে আফগান সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকাবুল: তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে আফগান সরকারের কর্মকর্তারা এক বেস . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com