মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে সাইবার-নজরদারির সামগ্রী

১৯ জুন,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিবিসি আরবী বিভাগ এবং ডেনিশ একটি নিউজপেপারের যৌথ এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রিটিশ নিরাপত্তা সামগ্রী প্রস্তুতকারক কোম্পানি বি.এ.ই সিস্টেমের স্পর্শকাতর বিভিন্ন নিরাপত্তা প্রযুক্তি সামগ্রী দেদারসে মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

এর মধ্যে এমন সফটওয়্যার আছে যা পরবর্তীতে ব্রিটেন কিংবা তার বন্ধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়। খবর বিবিসির।

বিশ্বের সবচেয়ে বিত্তশালী এলাকার একটি দুবাই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই অগ্রগতির একটি অন্ধকার দিক রয়েছে।

দেশটির মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে সুপরিচিত একজন আহমেদ মানসুর, যিনি আরব আমিরাতের সরকারের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতেন।

‘কেউ আপনাকে গোপনে দেখছে এই অনুভুতি ভয়ংকর। আপনি নিজের স্বাধীনতা হারাবেন। এটা একজনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লংঘন। এটা অনেকটা আপনার বেডরুমে একজন অচেনা মানুষের ঢুকে যাওয়ার মতোই’-বলেছিলেন আহমেদ মানসুর।

তার সাথে সাংবাদিকের সাক্ষাতের কয়েক মাস পরে তিনি নিখোঁজ হন। তারও কয়েক সপ্তাহ পর তার পরিবার জানতে পারে যে আবুধাবির কারাগারে সে আটক আছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তার অপরাধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি মিথ্যা এবং বিভ্যান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন।

কিন্তু প্রতিবেদক দেখতে পেয়েছেন সরকার এক্ষেত্রে আহমেদের ব্যক্তিগত যোগাযোগও গোপনে মনিটর করাতো।

প্রকৃতপক্ষে সব মানুষেরই ব্যক্তিগত তথ্য যে কোনো সময় মনিটর করার ক্ষমতা রয়েছে দেশটির।

আরব আমিরাত উন্নত প্রযুক্তির স্পর্শকতার নজরদারির সিস্টেম নিয়ে এসেছে যার মাধ্যমে এর নাগরিকেদর সব ধরনের যোগাযোগ মনিটর করা সম্ভব এবং বছরের পর বছর তা রাখা যায়।

বি.এ.ই ব্রিটেনের অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রযুক্তি উৎপাদন কোম্পানি। লন্ডনে এর সদরদপ্তর এবং অনেক দেশেই এর কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

ডেনমার্কে তাদের প্রতিষ্ঠানে দুজন কর্মীর সাথে আলাপ হয় সাংবাদিকের। কিন্তু কী উৎপাদন করা হচ্ছে সে সম্পর্কে কোনো রকম তথ্য দিতে রাজি হলেন না। এটাই তাদের নীতি বলেও জানালেন তারা।

তবে বি.এ.ই সিস্টেমের সাথে অতীতে কাজ করেছেন এমন একজনের সাথে কথা বলতে পারে বিবিসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান কীভাবে ওই সিস্টেম কাজ করে।

‘আপনি ইন্টারনেটে যেকোনও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। পুরো দেশেই সেটি করা সম্ভব। সেলুলার ডাটার ওপর ভিত্তি করে লোকজনের অবস্থান শনাক্ত করা যায়। যেকোনো স্থানে যেকোনো মানুষের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবেন।’

সমালোচকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে ব্রিটেন এবং বি.এ.ই-কোম্পানির উচিত নয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি নিপীড়নকারী দেশগুলোর কাছে বিক্রি করা উচিত নয়।

এর মধ্য দিয়ে সত্যিকারেই অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের তথ্য পাওয়া কতটা সম্ভব সেটি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন অনেকেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত দশকজুড়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধে এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বি.এ.ই সিস্টেমের সাথে ব্রিটেনের সরকারের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। গত বছর প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বি.এ.ই যন্ত্রাংশ কেনার জন্য।

কেবলমাত্র আরব আমিরাতেই নয়, মারাত্মক দমন-পীড়নের অভিযোগ আছে এমন আরো দেশে বিক্রি করা হচ্ছে এ সমস্ত সরঞ্জাম। যার মধ্যে আছে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, আলজেরিয়া এবং মরক্কো।

‘শ্যাডো ওয়ার্ল্ড: ইনসাইড দ্য গ্লোবাল আর্মস ট্রেড’ এর লেখক অ্যান্ড্রু ফেইনস্টেইন বলেন ‘ব্রিটিশ অস্ত্র রপ্তানি আইনের দিকে যদি তাথাকান, সব ধরনের সামরিক সরঞ্জামই তার আওতাভুক্ত এবং এর সাথে ট্রেনিংও রয়েছে।’

‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকলে সেখানে কোনো ধরনের রপ্তানি নিবন্ধন গ্রহণ করা হবে না। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, ব্রিটিশ সরকার সৌদি আরবের কাছে সাইবার নজরদারি সংক্রান্ত প্রযুক্তি বিক্রির মাধ্যমে নিজস্ব আইনের ধারা অনুসারে অবৈধ কাজ করছে’-বলছেন অ্যান্ড্রু ফেইনস্টেইন।

ব্রিটিশ সরকার তার ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়ার কাছে এ ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু বি.এ.ই প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করছে।

ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য সব ধরনের রপ্তানি মূল্যায়ন করা হয় এবং পরিস্কার কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকলে সেখানে লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

এক বিবৃতিতে বি.এ.ই জানায়, তাদের প্রযুক্তি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং তারা সব ধরনের রপ্তানি নীতিমালা মেনেই কাজটি করছে বলেও জোর দিয়ে বলছে।

এ বিষয়ে আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি অরবের সরকারের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেও বিবিসি কোনো সাড়া পায়নি।

যেসব দেশ এই সিস্টেম কিনছে তারা প্রকৃত অর্থে কতটা ব্যবহার করছে তা জানা না থাকলেও এটা নিশ্চিত যে, নজরদারি সরঞ্জাম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

বি.এ.ই এখন অন্যান্য দেশগুলোর হাতেও সেই ক্ষমতা দিচ্ছে এবং এর পরিণতি গণতন্ত্র এবং নাগরিক স্বাধীনতার জন্য ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা থাকছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাসবাদে উস্কানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: মুসলমানদের নবী মুহাম্মদের বাণী ব্যবহার করে কোন জঙ্গী গোষ্ঠী যেন জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসবাদক . . . বিস্তারিত

বিনা বাধায় কিরকুক দখল করেছে ইরাকি বাহিনী, পালিয়ে গেছে বহু কুর্দি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবাগদাদ: ইরাকের কিরকুক শহরটিকে কুর্দি বাহিনীর হাত থেকে পুনর্দখল করে নিতে এক অভিযান শুরু করার পর . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com