কাতার-সৌদি সঙ্কট: উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক বিভাজনের খলনায়ক কে?

১৮ জুন,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
দোহা: গত ৫ জুন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় রাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। সৌদি সরকার বলছে, সম্পর্ক ছিন্ন করার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, আরব আমিরাত, লিবিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের কাতারে যাওয়া, সেখানে বসবাস করা বা কাতার হয়ে অন্য কোন দেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইয়েমেন কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল দোহার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন এবং ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করার  অভিযোগে।

কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং চরমপন্থার সঙ্গে কথিত যোগসাজশের যে অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতিকে বাদ দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করবে না বলে দেশটি প্রতিজ্ঞা করেছে।

একই দিনে অন্য কয়েকটি দেশ  কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বা অবনতি করে।

এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন  কাতারের উপর আকাশপথ, নৌপথ ও স্থলপথে অবরোধ আরোপ করে যা কাতার এয়ারওয়েজের অপারেশন বাধাগ্রস্থ করে। সামগ্রিকভাবে, এই অঞ্চলের ১৮ টি গন্তব্য এখন কাতার এয়ারওয়েজের কর্তৃত্বে বাইরে যার অফিস গুলো সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।

ছোট্ট মরুভূমির দেশ কাতার স্বাভাবিক কারণেই প্রয়োজনীয় খাদ্য ফলাতে পারে না। খাদ্য নিরাপত্তা কাতারের জন্য বড় একটি বিষয়, কারণ স্থলপথে দেশে প্রবেশ করার একটিই পথ এবং সেটা হচ্ছে সৌদি আরব সীমান্ত ।

প্রতিদিন শত শত ট্রাক এই সীমান্ত দিয়ে আসে এবং খাদ্যদ্রব্য তাদের মালামালের একটি বড় অংশ। ধারনা করা হয় কাতারের খাদ্য আমদানির ৪০ শতাংশ এই পথে আসে।
 
সৌদি আরব এই সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় কাতার বিমান এবং সমুদ্রপথে মালামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের আগে কাতার অধিকাংশ খাবার উপসাগরীয় প্রতিবেশী আরব দেশসমূহ থেকে আমদানি করতো।কিন্তু বর্তমানে তুরস্ক ও ইরান হতে অধিকাংশ খাবার আমদানি করছে দেশটি।

অনেক পরিবার এবং কাতারি শিক্ষার্থী এই সঙ্কট দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উপরন্তু, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইন সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে এমন জনগনের শাস্তির ব্যবস্তা করেছে দেশ তিনটি।এছাড়া আল জাজিরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব সফরে এসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশসমূহের নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং কাতারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে অন্য  সদস্য দেশসমূহকে প্ররোচিত করেন।ধারণা করা হচ্ছে কাতার সঙ্কটের মূল হোতা হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্রান্স, ইরান, কুয়েত, মরক্কো, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব করেছে।

আল জাজিরা অবলম্বনে

মন্তব্য

মতামত দিন

মধ্যপ্রাচ্য পাতার আরো খবর

ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি: সাবেক মন্ত্রীকে আটক করেছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনতেল আবিব: ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরাইলের সাবেক ক্যাবিনেট মন্ত্রী গোনেন সেগেভকে আট . . . বিস্তারিত

নাবলুস থেকে ২০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনপূর্ব জেরুজালেম: ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ২০ জন সদস্যকে আটক করেছে ইসরাইলের স . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com