পৌরাণিক চাঁদের যত কথকতা

০৯ আগস্ট,২০১৮

পৌরাণিক চাঁদের যত কথকতা

বিনোদন ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: সৃষ্টির শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছে চাঁদ ধর্মীয় উপাসনার বস্তু। আদিমকালের অনেক জাতিগোষ্ঠীই চাঁদকে বিবেচনা করত ধর্মীয় শক্তি হিসাবে। আর তাই নিয়মত পূজা করত চাঁদের। কখনো কখনো দিন ও মাসের হিসাবের বদলে সময় হিসাব করত তারা অমাবস্যা-পূর্ণিমা দিয়েই।

ভালোবাসায়, উপমায় চাঁদ
ভিজুয়াল আর্টস-এ চাঁদেকে উপস্থাপন করা হয় নানারকম অর্থে। যেমন নিষ্পাপ বা ভার্জিন মেরির প্রতীকায়নে। এমনকি রোম্যান্টিকতায়ও চাঁদের সৌন্দর্য উঠে এসেছে উপমা হিসেবে। চাঁদের জাদুকরী সৌন্দর্য তাই বার বরাই হয়ে উঠেছে শিল্পের অনুপ্রেরণা। ভিজুয়াল আর্টস-এ সৌন্দর্য প্রকাশের উপমা হিসেবে চাঁদের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে কাসপার ডেভিড ফ্রিডরিশ-এর ‘টু মেন কন্টেমপ্লেটিং দ্য মুন’ নামের বিখ্যাত চিত্রকর্মটির।

সাহিত্য চর্চায় চাঁদ
সাহিত্য চর্চায় চাঁদকে উপমা হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। তবে সাহিত্যে চাঁদকে একটু ভিন্ন অর্থেও ব্যবহার করেছেন কেউ কেউ। যেমন বিশ্বখ্যাত জার্মান সাহিত্যিক ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে তাঁর কবিতা ‘টু দ্য মুন’-এ চাঁদকে সান্ত্বনার উপমা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর বাঙালি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য পূর্ণিমার চাঁদকে ‘ঝলসানো রুটি’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

গানে গানে চাঁদ
চাদঁ ও নিশাচর প্রাণীর মাঝে রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক। যেমন পেঁচা চাঁদের আলোয় তার ডানা মেলাকে উপভাগ করে। নেশা জাগানিয়া চাঁদের এ প্রভাব বোধ হয় পড়েছে মানুষের মাঝেও। চাঁদের সাথে প্রেমের এ সম্পর্ক বুঝাতেই হয়ত মাটিয়াস ক্লাউডিউস গেয়েছেন তাঁর বিখ্যাত গান ‘জেন্টলি দ্য মুন হেজ রাইজেন’ বা ‘ধীরে ধীরে জেগে উঠেছে চাঁদ’। আবার পিঙ্ক ফ্লয়েডের কণ্ঠেও আমরা শুনেছি ‘দ্য ডার্ক সাইড অফ দ্য মুন’ অ্যালবামটির গান।

পৌরাণিক কথা
বিশ্বখ্যাত অ্যামেরিকান সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, ‘প্রতিটি মানুষই একটি চাঁদ, যার একটি অন্ধকার দিকও আছে। তবে এ অন্ধকার দিকটি সে কাউকে দেখাতে চায় না’। আদিমকালে এক ধরনের পৌরাণিক কাহিনিও চালু ছিল যে কোনো কোনো মানুষ নাকি ভরা পূর্ণিমায় নেকড়েতে রূপান্তরিত হয়। বিখ্যাত একটি সিনেমাও আছে এ নিয়ে – ‘দ্য উল্ফ ম্যান’।

চন্দ্রজয় ও রহস্যের অবসান
১৯৬৯ সালে চন্দ্রজয় মানব ইতিহাসের একটি মাইলফলক। এটি শুধু চন্দ্র জয়ই নয়, এর মধ্য দিয়ে মানুষ জয় করে চাঁদের সব গোপন রহস্য। এক সময় যার দিকে শুধু দৃষ্টি দিয়েই সৌন্দর্য উপভোগ করত মানুষ, সেই রহস্যময় ও সৌন্দর্য্যের আঁধার এবার চলে আসে হাতের মুঠোয়। উত্তর মেলে অনেক অজানা রহস্যের।

সৃষ্টিশীলতায় অনুপ্রেরণা
চন্দ্রজয়ের মধ্যেই কি সব রহস্য উন্মোচিত হয়েছে? না, হয়নি। চাঁদ এখনো অজানা রহস্যের আঁধার। এ রহস্য প্রতিনিয়তই আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। চীনা শিল্পী আই ওয়েওয়ে ও তাঁর ডেনিশ সহযোগী এলিয়াসন ২০১৩ সালে ‘মুন’ নামে ইন্টারনেটে একটি প্রজেক্ট চালু করেন, যেখানে চাঁদ-আকৃতির একটি বল বৃত্তকারে ঘুরছে। আগ্রহীরা নিজ নিজ ভাবনা ঐ বৃত্তটির ওপর লেখার পর, সেটা নাকি বৃত্তটির অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির ভাবনার সাথে যুক্ত হয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

বিনোদন পাতার আরো খবর

প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ের তারিখ ঘোষণা

আর্ন্তজাতিক ডেস্কআরটিএনএনদিল্লি: মার্কিন গায়ক-অভিনেতা নিক জোনাসের সঙ্গে সম্পর্ক পাকাপাকি করতে যাচ্ছেন বলিউড সুন্দরী প্রি . . . বিস্তারিত

সালমান খান পাকিস্তানপন্থী: অভিজিৎ

বিনোদন ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: অভিজিৎ ভট্টাচার্যের আর সেই দিন নেই। বলিউডে গাইতে যোক পান না আর। খুব বেশি ডাক পান না কনসার . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com