ফারুকী যা বললেন কোটা সংস্কার নিয়ে

০৯ এপ্রিল,২০১৮

কোটা সংস্কার নিয়ে যা বললেন ফারুকী

বিনোদন ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করছে গত রবিবার থেকে। দ্বিতীয় দিনের মতো আজ সোমবার সকাল থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে যোগ দিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে স্লোগানে মুখর গোটা বিশ্ববিদ্যালয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও কোটা সংস্কার নিয়ে অনেকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও কোটা সংস্কার নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলা চিঠি আসছে। কোটাসংস্কার আন্দোলন বিষয়ে। আমি জানি কখনো কখনো নীরবতা অপরাধের সামিল। বেশ কয় বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে কথা বলতে হয়েছিল। আরেফিন স্যারও ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখানে কথা প্রসঙ্গে মেধাবী ছাত্রদের সরকারি চাকরিতে আকৃষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছি। কারণ সরকারি চাকরিতে যদি মেধাশূন্যতা তৈরি হয় তাহলে ভবিষ্যতে পলিসি নিয়ে আলোচনা এবং সময়োপযোগী পলিসি নির্ধারণে আমরা নিদারুণ ব্যর্থ হবো। সাম্প্রতিক সময়ের কোটা বিষয়ক আলোচনা দেখে সেই কথাটা আবার মনে পড়ল।’

ফারুকী আরো বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের নানান সুযোগ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে আমি। বাড়ি দেন, চিকিৎসাসেবা দেন, ভালো ভাতা দেন।
কিন্তু সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হওয়া উচিত মেধার ভিত্তিতে। এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত। তবে অতি উৎসাহীদের কাছ থেকে সাবধান থাকা উচিত এই আন্দোলনে সামিল ভাই-বোনদের। মেধা ভিত্তিক নিয়োগের দাবির মধ্যে কেউ যেন এমন অপ্রয়োজনীয় কিছু না বলেন যাতে মনে হয় ‘মুক্তিযাদ্ধাদের’ ব্যাপারে কোনো অ্যালার্জি আছে।পরিশেষে, আমি আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটার ব্যাপারটা একটা যৌক্তিক জায়গায় নিয়ে আসবেন।”

সরকারি চাকরিতে কোটা: কাদের জন্য, কী উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন, বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে কী এই কোটা ব্যবস্থা এবং কেন এটা নিয়ে বিক্ষোভ? কোটা ব্যবস্থা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল? খবর বিবিসি

১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল।

১৯৭২ সালে প্রথম এই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এই কোটার পরিধি বেড়েছে।

এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। ৬৪টি জেলার জন্য কোটা আছে। মূলত দেশের অনগ্রসর মানুষকে সুবিধা দেবার জন্যই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের সরকারী চাকরীতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সূত্রমতে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে মোট পাঁচটা ক্যাটাগরিতে কোটার ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়।

কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী?

'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ'এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল -

•কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে আনতে হবে)

•কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া

•সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)

•কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)

•চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুধু শিক্ষার্থী বা চাকরি-প্রার্থীদের মাঝেই রয়েছে তেমনটি নয়, বিশেষজ্ঞদেরও মতামত রয়েছে কোটা সংস্কারের পক্ষে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আকবর আলি খান সম্প্রতি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।

আকবর আলি খান বলেন, এ কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেক মেধাবী প্রার্থীরা চাকরির পরীক্ষা দিতে রাজী হয় না।

মন্তব্য

মতামত দিন

বিনোদন পাতার আরো খবর

‘অপহরণকারীকে আমার প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিলাম’

বিনোদন ডেস্কআরটিএনএনলন্ডন: যুক্তরাজ্যের মডেল ক্লোয়ি এইলিংকে গতবছর ইটালিতে অপহরণ করে ছয়দিন আটকে রাখা হয়। কিন্তু যখন তি . . . বিস্তারিত

‘নতুন মুখের সন্ধানে-২০১৮’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com