বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৭টি উপায়

০৬ সেপ্টেম্বর,২০১৮

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে  আপনি চিন্তিত? কমানোর ৭টি উপায়

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, বর্তমানে গড়ে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৬ টাকা ২০ পয়সা, যা বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৪ টাকা ৮২ পয়সা করে।

কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের এই দামের কোম্পানি ভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যে গ্রাহককে দিতে হয় ৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সেবার তিন কোটি তিন লক্ষ গ্রাহক রয়েছে। খবর বিবিসির

এমন প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮। বর্তমানে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে সরকার দাবি করছে। কিন্তু কিভাবে দরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও বিল কমানো সম্ভব? তার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা।

বিদ্যুৎ বিল কমানোর সাতটি উপায়

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসির) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মহসিন আবদুল্লাহ বলেন, কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে আবাসিক বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনা সম্ভব।

ব্যবহার না হলে ল্যাপটপ, কম্পিউটার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রকৌশলীরা

১. সুইচ বন্ধ রাখা-ফ্যান, বাতি, টিভি, কম্পিউটার ব্যবহার না করলে সব সময় এগুলোর সুইচ বন্ধ করে রাখা। অনেক সময় বাথরুম বা বারান্দার লাইট জ্বলে থাকে। সেটি যাতে না হয়, তা খেয়াল রাখা হলে বিদ্যুৎ বিল বেশ খানিকটা কমে আসে। মেশিন বা ইস্ত্রি ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখা উচিত। কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার না করলে স্লিপ মুডে বা বন্ধ করে রাখুন।

২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার-প্রচলিত বাতির তুলনায় এনার্জি বাল্ব বা এলইডি বাতি ব্যবহার করা হলে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমে আসে। যেখানে প্রচলিত একটি বাতি একশো ওয়াট ব্যবহার করে, সেখানে একটি এনার্জি বাতি ব্যবহার করে মাত্র ২৫ ওয়াট।

প্রথমদিকে বাতির ক্রয় মূল্য বেশি হলেও এগুলো দীর্ঘদিন সেবা দেয় এবং বিলের হিসাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়। এছাড়াও এখন ইনভার্টারযুক্ত ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

৩. এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার-বাসাবাড়িতে এসি ব্যবহার এখন অনেক বেশি নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু নিয়ন্ত্রিতভাবে এসি ব্যবহার করা গেলে এর বিল কমিয়ে আনা সম্ভব।

এসির তাপমাত্রা সবসময় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে। রাতে টাইমার দিয়ে রাখা ভালো, যাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠাণ্ডা হওয়ার পর এসি আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়।

৪. মানসম্মত তার ব্যবহার-বিদ্যুতের সংযোগ ও তারের ওপর বিদ্যুতের বিল অনেক সময় নির্ভর করে। খারাপ মানের তার হলে, সংযোগ দুর্বল বা নড়বড়ে হলে সেটি লো ভোল্টেজের সৃষ্টি করে, ফলে বিলও বেড়ে যায়। বহুতল ভবনের সাব-স্টেশন পুরাতন হলে সেটি বেশি বিলের কারণ হতে পারে।

বছরে অন্তত একবার এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। বাসার এসি ও ফ্রিজের ফিল্টার নিয়মিত সময় পরপর পরিষ্কার করানো হলে সেটি কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে।

৫. বিকল্প যন্ত্রপাতির ব্যবহার-বাসায় রান্না করা বা খাবার গরম করার ক্ষেত্রে মাইক্রো ওভেন ব্যবহার না করে চুলা ব্যবহার করতে পারেন। স্লো কুকার বা টোস্টার ব্যবহার করা যায়। মাইক্রো ওভেনে ডিফ্রস্ট না করে পানিতে রেখে খাবারের বরফ ছাড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। ওয়াশিং মেশিনে গরম পানির সেটিং ব্যবহার না করলে বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে।

৬. বিদ্যুতের সীমিত ধাপের মধ্যে থাকা-বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ী, একেকটি ধাপে একেক রকম বিল আসে। যেমন ডিপিডিসি বা ডেসকোর ট্যারিফ অনুসারে, কারো যদি বিদ্যুতের ব্যবহার ৭৫ ইউনিটের মধ্যে সীমিত থাকে, তাহলে বিল আসবে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা হারে। কিন্তু ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল আসবে ৪.৪৫ টাকা হারে। তৃতীয় ধাপ ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে বিল আসবে ৫.৭০ টাকা হারে।

৩০১ ইউনিট থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল আসবে প্রতি ইউনিট ৬.০২ টাকা হারে। ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিলের হার ৯ টাকা ৩০ পয়সা। এর বেশি হলে ইউনিট প্রতি বিল হবে ১০ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ বিদ্যুতের ব্যবহার কম ধাপের মধ্যে সীমিত রাখতে পারলে বিলও কম আসবে।

৭. প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার-এখন বহুতল ভবনে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো।

যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে বা বেশি লোডশেডিং হয়, তারাও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি দিনের বেলায় ঘরের ভেতর বাতি না জ্বালিয়ে সূর্যের আলোর সুবিধা নেয়ার প্রবণতা তৈরি করা ভালো। সেটি আবাসিক বিদ্যুতের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রযুক্তি পাতার আরো খবর

মুসলিমদের জন্য ‘সালামওয়েব’ নতুন ইন্টারনেট ব্রাউজার নিয়ে বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার প্রযুক্তিবিদদের নেয়া একটি নতুন উদ্যোগ নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনা হচ . . . বিস্তারিত

গুগল সার্চে বাংলাদেশের কোন জায়গা থেকে কারা কি খোঁজেন, জানিয়ে দিল গুগল

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ব্যক্তিগত মোবাইল বা কম্পিউটার, যা ইচ্ছা তাইতো খুঁজতে পারি। আছে স্বাধীনতা, আছে গোপনীয়তা। কিন্তু . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com