মিরাজ নিলেন লঙ্কানদের চতুর্থ উইকেট

০৯ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

ফাইল ছবি

খেলা ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: মিরপুর টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে চারজন বাংলাদেশি বোলার বল করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাই। যাদের মধ্যে দুজন বাঁহাতি স্পিনার, আরেকজন বাঁহাতি পেসার।

এই তিন বাঁহাতিই প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন লঙ্কানদের দশ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে দুই বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও তাইজুল ইসলাম ইতোমধ্যে পেয়েছেন একটি করে উইকেট। এবার সেই বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও নাম লিখেছেন উইকেট নেয়ার খাতায়।এ রিপোর্ট লেখার সময় মিরাজ পেলেন লঙ্কানদের চতুর্থ উইকেট।

দলীয় ৮০ রানে তিনি সাজঘরে পাঠিয়েছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান দানুশকা গুনাথিলাকাকে। শুক্রবার টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে চা-বিরতির আগে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩.১ ওভারে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা করেছে ৯৩ রান। তারা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ২০৫ রানে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে শুক্রবার লাঞ্চ বিরতির আগেই নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। স্পিন বান্ধব এই উইকেটে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগার বোলাররা ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটাতে না পারলেও নিয়মিত বিরতিতে ঠিকই উইকেট পেয়েছেন। এতে বড় কোন জুটি গড়ে তুলতে পারেননি শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৯ রানে কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট পান রাজ্জাক। এরপর ৫৩ রানে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফেরান তাইজুল।

সেখান থেকে ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও গুনাথিলাকা ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে তাদের জুটি ২৭ রানের চেয়ে বড় হতে দেননি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। দলীয় ৮০ রানে তিনি এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন গুনাথিলাকাকে। লঙ্কানরা হারায় তাদের তৃতীয় উইকেট। ২৭ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন গুনাথিলাকা।

চা বিরতিতে যাওয়ার আগে করুনারত্নে ব্যাট করছিলেন ২৯ রানে। তার সঙ্গী অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালের রান ৪। প্রথম ইনিংসে তিনি আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে।

ঘূর্ণি জাদুতে উল্টো চাপে বাংলাদেশ
ঢাকা: রাজ্জাক ও তাইজুলের ঘূর্ণি জাদুতে ঢাকা টেস্টের প্রথম দুই সেশনে খুব ভালোভাবে রাজত্ব করেছে মাহমুদউল্লাহর বাংলাদেশ। আর তাইতেই শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গেছে ২২২ রানে। তবে যে প্রথম দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা খুব একটা স্বস্তিতে আছে, তেমনটাও নয়। ৫৬ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলেছে প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যানকে। ঘূর্ণি জাদুতে উল্টো চাপে এখন বাংলাদেশ।

এখনও ১৬৬ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা। হাতে আছে তাদের ৬টি উইকেট। তামিম-মুমিনুল-মুশফিকরা আউটে যতোটা না ক্ষতি তার চেয়ে বেশি ক্ষতি ইমরুল কায়েসের (১৯ রান) আউটে। বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ওপেনার প্রথম দিনের একেবারে শেষ মুহূর্তে আউট হয়েছেন।

প্রথম দিনের শেষ দিকে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান ইমরুল। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। স্পিন করে ভেতরে ঢোকা বল পা বাড়িয়ে খেলেন ইমরুল। কিন্তু বলে-ব্যাটে করতে পারেননি। আঘাত হানে প্যাডে।

আম্পায়ার জোরালো আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সিদ্ধান্ত পাল্টয়নি। ১৯ রান করে ফিরে যান ইমরুল। লিটন দাস ২৪ ও নাইটওয়াচম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছেন।

ঢাকা টেস্টে বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে কম রানে বেধে ফেলার সুবিধাটুকু হারাতে বসেছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় লিডকে এখন মনে হচ্ছে অনেক দূরের পথ। তবে সে পথে পাড়ি দিতে হলে আরেকটি লিটন-মিরাজ ব্যাটিং বীরত্বের দিকে চেয়ে থাকবে পুরো দল।

এরআগে শ্রীলঙ্কাকে ২২২ রানে থামিয়ে দিয়েছেন বোলাররা। উইকেটের ভয়ংকর রূপ কিংবা চতুর্থ ইনিংসে এ উইকেটে বাংলাদেশকেই ব্যাট করতে হবে-এমন চিন্তাগুলো পাশে ফেলে একটু হলেও উচ্ছ্বসিত হওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু মাত্র ৯ ওভারের মধ্যে সব বদলে গেল। আর শুরুটা হয়েছিল তামিম ইকবালের ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।

তিন আউটের কোনোটাই কোনোটার চেয়ে কম যন্ত্রণাদায়ক নয় বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে বিঁধছে মুমিনুলের রান আউট। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলটা ইমরুল কায়েস মিড অফে ঠেলে দিয়ে দৌড় দিয়েছিলেন। মুমিনুলও দৌড়ালেন, তবে আয়েশি ভঙ্গিতে।

জগিং করতে করতে উইকেটরক্ষকের প্রান্তে যাচ্ছিলেন। ফিল্ডারের থ্রোটা ধরে ডিকভেলা যখন স্টাম্প ভাঙলেন, মুমিনুলের মুখে তখনো কোনো দুশ্চিন্তা নেই। বেশ সময় হাতে নিয়েই তো ক্রিজ পার করার কথা তার। কিন্তু রিপ্লে দেখা গেল, সে ভয়ংকর দৃশ্য। বল কিপারের হাতে দেখেও ব্যাটটা মাটিতে ছোঁয়ানোর কোনো চেষ্টা নেই মুমিনুলের। আউট। ৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

৪ রানেই প্রথম উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে চার মেরে প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতে আলোড়ন তোলা তামিম পরের বলেই গ্যালারিতে নিস্তব্ধতা ডেকে আনলেন। ড্রাইভ করবেন কি করবেন না, এটা ভাবতেই ভাবতেই সুরঙ্গা লাকমলের কাছে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে তামিম।

ওই ৪ রানেই তৃতীয় উইকেট হারাতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ডিকভেলা হাস্যকরভাবে ক্যাচ মিস করলেন। বল ব্যাট-প্যাড ঘেঁষে অনেক ওপরে উঠে গিয়েছিল। অনায়াসে ধরা যেত যে বল সেটা কীভাবে যেন গ্লাভসের ওপরে লাগিয়ে মাটিতে ফেলে দিলেন ডিকভেলা। দুর্ভাগা বোলারটি ছিলেন দিলরুয়ান পেরেরা।

মুশফিক সেই যাত্রা বেঁচে গেছেন। বেঁচে গেছেন দলীয় ১০ রানেও। আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন, রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান মুশফিক। কিন্তু লাকমলের বল ছেড়ে গত টেস্টে স্টাম্প খুইয়ে ছিলেন লিটন দাশ। এবার একই কাজ করলেন মুশফিক। দুই বল আগে একটুর জন্য বেঁচে গেছেন দুবার।

আর পরে মাঠের বড় পর্দায় সেটা মুশফিক দেখেছেনও হয়তো। লাকমলের ছেড়ে দেয়া ডেলিভারিগুলো বেলে হাওয়া লাগিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পরেরবার আর সৌভাগ্য খুঁজে পেলেন না মুশফিক। এবার উপড়ে গেল স্টাম্প! একই সঙ্গে দলকেও ফেলে দিয়ে গেলেন মহাবিপদে। দলকে এখন বাচানোর দায়িত্বটা তুলে নিয়ে হবে মাহমুদউল্লাহকে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অন্যান্য পাতার আরো খবর

এশিয়ান গেমসের হকিতে থাইল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: এশিয়ান গেমসের হকিতে থাইল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর তৃতীয় ম্যা . . . বিস্তারিত

প্রথম দিনে বৃষ্টির বদৌলতে ইতিহাসে স্থান করে নিলো আয়ারল্যান্ড

খেলা ডেস্কআরটিএনএনডাবলিন: আয়ানল্যান্ডের জন্য ১১ মে, ২০১৮ দিনটি ঐতিহাসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১১তম টেস্ট খেলুড়ে দে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com