ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড

১২ জুলাই,২০১৮

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড

খেলা ডেস্ক
আরটিএনএন
মস্কো: রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড, ম্যাচের ৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কিয়েরান ট্রিপায়ার।

বুধবার রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমি ফাইনালটি শুরু হয়েছে। ২৮ বছর পর সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ান দলটি অভিজ্ঞ। ইংল্যান্ড তারুণ্যনির্ভর দল।

ম্যাচ শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় ১-০তে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে দলকে গোলটি এনে দেন ইংলিশ ডিফেন্ডার কেইরান ট্রিপার। ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে এটি তার প্রথম গোল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সের কাছে লুকা মদ্রিচের অবৈধ ট্যাকেলের শিকার হন ডেলে আলি। ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। আর তাতেই সর্বনাশ ঘটে ক্রোয়েশিয়ার।

ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড, কাইল ওয়াকার, জন স্টোনস, হ্যারি ম্যাগুইরে, জর্দান হেন্ডারসন, কেইরান ট্রিপার, জেসে লিনগার্ড, ডেলে আলি, অ্যাশলে ইয়াং, রাহিম স্টার্লিং, হ্যারি কেন।

ক্রোয়েশিয়া একাদশ: দানিজেল সুবাসিচ, সিমে ভ্রাসালজকো, দেজান লোভরেন, দোমাগোজ ভিদা, ইভান স্ট্রাইনচ, মার্সেলো ব্রোজোভিচ, আন্তে বেরিচ, লুকা মদ্রিচ, ইভান রাকিতিচ, ইভান পেরিসিক, মারিও মানজুকিচ।

ইংল্যান্ড ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। একবারই উঠেছে এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের পর ক্রোয়েশিয়া কখনো শেষ চারে যায়নি। বিশ্বের ইতিহাস বিবেচনায় এখনো নবীন দেশটির ফাইনালে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ এই ম্যাচ।

এ পর্যন্ত সাতবার মুখোমুখি হয়ে ক্রোয়েশিয়াকে চারবার হারিয়েছে ইংল্যান্ড। দুটি জয় ক্রোয়েশিয়ার। একটি ম্যাচ শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে। ২০০৭ সালে এই দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচে জিতেছিল ক্রোয়াটরা।

১৯৯০-র পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। সেবার সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল তারা।

১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর ছয়টি বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া।

১৯৯৮ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভিষেকেই শেষ চারে উঠেছিল তারা। ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া জয় পায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এটাই বিশ্বমঞ্চে দেশটির সেরা পারফরম্যান্স।

রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত ক্রোয়েশিয়া। ডি-গ্রুপে তিন ম্যাচই জিতে পুরো নয় পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠে জাতকো দালিচের দল। প্রতিপক্ষের জালে সাতবার বল জড়ানোর বিপরীতে নিজেরা হজম করেছে মাত্র একটি গোল।

অন্যদিকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা ইংল্যান্ড বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে হারে। দুই গোল করে এবারের আসরে ক্রোয়েশিয়ার সেরা গোলদাতা অধিনায়ক লুকা মডরিচ।

ছয় গোল করে টুর্নামেন্টে গোলদাতাদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন হ্যারি কেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু গ্যারি লিনেকারের। ১০ গোল করেছিলেন লিনেকার। তবে এক জায়গায় পূর্বসূরিকে স্পর্শ করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছয় গোলের রেকর্ড ছিল সাবেক স্ট্রাইকার লিনেকারের। ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ৩২ বছর পর কেনের সামনে এখন রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেয়ার হাতছানি।

* চলতি টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের করা ১১টি গোলের আটটিই এসেছে পেনাল্টিসহ সেটপিস থেকে। এক বিশ্বকাপে সেটপিস থেকে এরচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড নেই কোনো দলের। ১৯৬৬-র আসরে পর্তুগালও সেটপিস থেকে আটটি গোল করেছিল। রেকর্ডটা এককভাবে নিজেদের করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে কেন-রাহিম স্টার্লিংদের।

১৯৬৬-তে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের আসরে সর্বোচ্চ ১১ গোল করেছিল ইংল্যান্ড। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা। সেমিফাইনালে রেকর্ড নতুন করে লেখার সুযোগ তাদের সামনে।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা নিজের শেষ ৩০টি ম্যাচে হারের মুখ দেখেননি মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন। যে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড এটি।

শেষ ষোলোয় কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিততে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয় ইংলিশদের। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে সহজেই ২-০ গোলে সুইডেনকে হারায় তারা।

অন্যদিকে গ্রুপপর্বে দারুণ পারফর্ম করা ক্রোয়েশিয়ার নকআউট পর্বটা এখন পর্যন্ত সহজ হয়নি। শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে ডেনমার্ককে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়া-বাধা পেরোতেও দরকার হয়েছে পেনাল্টি শুটআউটের।

বিশ্বকাপে এর আগে কখনই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়নি ক্রোয়েশিয়া। আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে দু’দলের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৪ ইউরোয়। সেবার ৪-২ গোলে ইংলিশদের পরাস্ত করে ক্রোটরা।

সব মিলিয়ে দু’দলের দেখা হয়েছে সাতবার। চার জয় নিয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার জয় দুটি। ১৯৯৬ সালে দু’দলের প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

ফুটবল পাতার আরো খবর

অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে এএফসি’র দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল সবুজের বাংলাদেশি মেয়েরা। দুই বছর আগ . . . বিস্তারিত

আমিরাতকে সাত গোলে হারালো বাংলাদেশ

খেলা ডেস্কআরটিএনএনআবুধাবি: সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আনুচিং মগিনির হ্যাটট্রিকে প্রথমার . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com