সর্বশেষ সংবাদ: |
  • প্রার্থিতা নিয়ে খালেদা জিয়ার বিভক্ত আদেশের পূর্ণাঙ্গ আদেশ না লিখেই প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোয় তা আবার সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি
  • নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানি ও মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত, আর কোনো অঘটন কাম্য নয় : সিইসি
  • ভোট ৫০ ভাগ সুষ্ঠু হলেই সরকারি দলকে নির্বাচনে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তাই সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগ : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
  • নাশকতার মামলায় রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ
  • বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ

প্রথম ‘রাজনৈতিক’ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নবানে জর্জরিত মাশরাফি!

০৪ ডিসেম্বর,২০১৮

প্রথম ‘রাজনৈতিক’ সংবাদ সম্মেলনে কেন প্রশ্নবানে জর্জরিত মাশরাফি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা:

নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রথমবারের মত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। খেলার মধ্যে যাতে রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকে সেজন্য মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

টায়গারদের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর। রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়কের সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন ৮ ডিসেম্বর হওয়ার কথা। কিন্তু ক্রিকেট তারকা থেকে সদ্য রাজনীতিতে আসা তরুণ রাজনীতিবিদ মাশরাফি বিন মুর্তজা তড়িঘড়িই একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজন অনুভব করলেন!

তাই কালক্ষেপণ না করে মঙ্গলবারই সংবাদ সম্মেলনে আসলেন।

কেন এই তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন মাশরাফি? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে তার রাজনীতিতে আসা নিয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে চান তিনি। আর তাই আধঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটা জুড়েই থাকল রাজনীতি।

পুরো সংবাদ সম্মেলনে তাকে সাংবাদিকদের ছোড়া তুখোড় প্রশ্নবাণের মোকাবিলা করতে হলো ।

সংবাদ সম্মেলনটি হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। কোনো ক্রিকেটার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন, এই দৃশ্য পৃথিবীতে আগে কখনো দেখা গিয়েছে কি না, সন্দেহ!

বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার জানিয়েছিলেন, সংবাদ সম্মেলন হবে বেলা ১টায়। মাশরাফি অনুশীলন সেরে এলেন ২টায়। আধঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে কত যে প্রশ্ন। প্রশ্নগুলো কখনো তাঁর কাছে কখনো লাসিথ মালিঙ্গার ইয়র্কার, কখনো মোস্তাফিজের দুর্দান্ত কাটার, কখনো জিমি অ্যান্ডারসনের সুইং, কখনো বা মুখ বরাবর শোয়েব আখতারের বাউন্সার হয়ে ধেয়ে এসেছে!

মাশরাফির ধারণা, তিনি সুপার স্টার নন! মাশরাফি খেলা ছাড়ার পর খুব বেশি মানুষ তাঁকে মনে রাখবে না! এই দুই দাবি করে খেলার এই বর্ণাঢ্য জীবনটাকে একরকম ইতি টেনে দিয়ে রাজনীতিতে কেন নেমে পড়ছেন, এর ব্যাখ্যায় মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, ‘আমি শচীন টেন্ডুলকার বা ম্যাকগ্রা না যে মানুষ আমাকে মনে রাখবে।’

রাজনীতিতে আসা নিয়েই এত প্রশ্ন। তা কোন ভাবনায় নাম লিখিয়েছেন রাজনীতিতে, সেটির উত্তর আরও বিস্তারিত দিলেন মাশরাফি, 'আমার ক্যারিয়ার অবশ্যই শেষের দিকে। না আমি শচীন টেন্ডুলকার, না আমি গ্লেন ম্যাকগ্রা যে মানুষ আমাকে স্মরণ করবে। আমার মতো করেই ক্রিকেট খেলেছি। আমার মতো করেই সংগ্রামমুখর ক্যারিয়ারটা গড়েছি। মানুষের জন্য কিছু করা সব সময়ই উপভোগ করেছি। এটা আমার ছোটবেলার শখ ছিল বলতে পারেন। ছোটবেলার চাওয়া-পাওয়া ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগটা দিয়েছেন। যদি বৃহৎ পরিসরে কিছু করা যায়, এ ভাবনাতেই রাজনীতিতে আসা।'

রাজনীতিতে নামার পর একটা বড় অংশের মানুষের কাছ থেকে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, সেটা মাশরাফির অজানা নেই। তবে তিনি মনে করেন কেউ কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করলে তা নিয়ে লুকোছাপার কিছু নেই, ‘আপনার নিজস্ব ধ্যানধারণা থাকা উচিত। আপনি যদি কোনো দল সমর্থন করেন, প্রকাশ্যে সেটা বলা উচিত। এমন অনেকে আছে, সমর্থন করে কিন্তু বলতে পারে না। আমার কাছে মনে হয় যে, প্রত্যেকে যে যে দল করে, সেই সম্মানটা তাঁর থাকা উচিত। তার মতো করে সে দেশের জন্য কাজ করবে, এই মানসিকতা থাকা উচিত। যারা যে মন্তব্য করছে, সেগুলো তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে আমার সম্মান অবশ্যই তাদের প্রতি থাকবে।’

এখনো ক্রিকেট থেকেও আগাম বিদায়ের ঘোষণা তিনি দিচ্ছেন না। এমনকি বিশ্বকাপের পরেই অবসর নেবেন কি না, তাতেই একটু ফাঁক রেখে দিলেন।

মাশরাফি মনে করেন না মানুষ ক্রিকেটের কারণে আজীবন তাঁকে মনে রাখবে। খেলা ছাড়ার পর অন্য কিছু করতেই হতো। রাজনীতিকেই তিনি সেই ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

‘আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ পর্যন্তই খেলা। বিশ্বকাপ এখনো আট মাস পর। চেষ্টা করব এই আট মাসে যেভাবে খেলে এসেছি সেভাবেই খেলার। আগেও বলেছি, আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্যই ছিল বিশ্বকাপ। এরপরও খেলা চালিয়ে যেতে পারব কি না, সেটা সেই সময়টাই বলে দেবে। তবে আমার উদ্দেশ্যটা আমার কাছে পরিষ্কার। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সে সুযোগটা যদি পাই, কাজ করব। আর আগেও বলেছি, আমি বিশ্ব ক্রিকেটের এমন কোনো মহাতারকা না যে খেলা ছাড়ার পর প্রতিটা মানুষ আমাকে মনে রাখবে।’

মাশরাফি মহাতারকা নন, এমন কথা শোনার পর সংবাদ সম্মেলনেই মৃদু আপত্তির গুঞ্জন উঠল। এই মুহূর্তে অভিমান বা হতাশায় মাশরাফির তীব্র সমালোচনা করছেন তাঁর যে ভক্তটাও, তিনিও হয়তো তীব্র প্রতিবাদ করবেন। সবচেয়ে প্রতিবাদ উঠবে এ কথায়, ক্রিকেট ছাড়ার পর মাশরাফিকে অনেকেই ভুলে যাবে!

মন্তব্য

মতামত দিন

ক্রিকেট পাতার আরো খবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়

স্পোর্টস ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: চট্টগ্রাম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর ঢাকা টেস্টেও দারুন এক জয়ের মধ্য দিয়ে . . . বিস্তারিত

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে স্বাগতিকরা

খেলা ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজের ১-০ তে এগ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com