গবেষণা জালিয়াতি নিয়ে সামিয়া-মারজানের বাকযুদ্ধ, কেউ দায় নিতে নারাজ

৩০ সেপ্টেম্বর,২০১৭

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ঢাকা: গবেষণা কর্ম জালিয়াতির দায়ভার নিয়ে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। কেউ এর দায় নিতে চাচ্ছেন না। একে অপরকে দোষারোপ করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

জালিয়াতির তথ্য মিডিয়ায় প্রকাশের দুই দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজান উভয়েই মুখ খুলেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে ৫ পৃষ্ঠা লেখা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চুরির অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগটি করেছে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

অভিযোগে জানা যায়, সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের গবেষণা নিবন্ধ ‘আ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোস্যাল সায়েন্স রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়। এই নিবন্ধে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯৮২ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’র ৪নং ভলিউমে ফুকোর ওই নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল।

এখন সামিয়া রহমান এর দায় অস্বীকার করে দোষারোপ করছেন শিক্ষক মারজানের ওপর। আর মারজান বলছেন, তার ওপর দায় চাপাতে চাচ্ছেন সামিয়া। পুরো জালিয়াতিই করেছেন সামিয়া। 

এ প্রসঙ্গে সামিয়া রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মারজান আমার কাছে কয়েকবছর আগে চাকরির জন্য অনুরোধ করেছিল। আমি তাকে বেসরকারি টিভিতে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার সঙ্গে আর্টিকেল লিখতেও অনুরোধ করে আমাকে। আমি রাজি হয়েছিলাম, কিছু আইডিয়াও দিয়েছিলাম। পরে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো। শিক্ষক হওয়ার পরে তার বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ আসত আমার কাছে। তাদের সবার সাধারণ অভিযোগ ছিল, ‘সে একটা বেয়াদব।’পরে আমিও অনেকদিন তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করিনি।’

সামিয়া রহমান বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি অনেকদিন বিদেশে ছিলাম। এরই মধ্যে সে আমার নাম বসিয়ে আমাকে না জানিয়ে একটি লেখা ডিন অফিসে রিভিউয়ের জন্য জমা দেয়। সেটা আমাকে জানায় ডিন অফিস। শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম। মারজানকে ফোন করলে সে বলে, ‘ম্যাডাম, আপনাকে দেখাতে পারিনি। ভুল হয়ে গেছে, মাফ করে দেন।’ ততদিনে রিভিউ কমিটি লেখা ছাপার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু আমি বিদেশে থাকার কারণে লেখাটির কোনও কপিও আমার কাছে ছিল না। লেখা ছাপার পরে দেখলাম, অত্যন্ত নিম্নমানের একটি লেখা। সঙ্গে সঙ্গে আমি ডিন অফিসকে জানাই, এই লেখা আমার না। আমি এই লেখার দায়িত্ব নেবো না। চিঠির কপিও আমার কাছে আছে। তদন্ত কমিটি আমাকে ডাকলে আমি সবই দেখাব।’

তবে শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজান, সামিয়ার এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘নিবন্ধের বড় একটি অংশই সামিয়া রহমানের লেখা। সামিয়া রহমান মিথ্যা বলছেন। তিনি ওই আর্টিকেলের প্রথম লেখক। আর্টিকেলটির একটি বড় অংশ তিনি লিখেছেন। আর তার লেখা অংশেই অভিযোগ এসেছে। তিনি কোন অংশটি লিখেছেন, তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। মোট কথা, তিনি তো আমার সরাসরি শিক্ষক। ফলে তিনি নিজের দায় আমার ওপর চাপাতে চাইছেন।’

মন্তব্য

মতামত দিন

উচ্চ শিক্ষা পাতার আরো খবর

শিক্ষায় ক্যাডার, নন-ক্যাডার প্রশ্নে বিরোধ তুঙ্গে

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বেসরকারি কলেজ সরকারি করার পর, সেখানকার শিক্ষকরা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হবেন কিনা, তা . . . বিস্তারিত

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলিক গবেষণা কতটা হচ্ছে?

নিউজ ডেস্কআটিএনএনঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইন্সটিটিউট। এই ইন্সটিটিউটের একজন শিক্ষক তৌহিদুল হক। গত তিন বছর . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com