শিক্ষকের অভাবে পাঠদান হচ্ছেনা ভোলা সরকারি কলেজে

১৯ সেপ্টেম্বর,২০১৬

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ভোলা: ভোলা সরকারি কলেজে আট হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষকের পদ রয়েছে ৯৫টি, এর মধ্যে ৪৫টিই শূন্য। অনেক শিক্ষক ভোলায় থাকতে চান না। তারা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।

শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে মাত্র দু-এক দিন ক্লাস হচ্ছে।

অনেক সময় সপ্তাহে, দুই সপ্তাহেও ক্লাস হয় না। ক্লাসে সব বিষয় পড়ানো হয় না। সিলেবাস শেষ করার আগেই পরীক্ষা শুরু হয়। ভালো প্রস্তুতি ছাড়াই তাদের পরীক্ষায় বসতে হয়। এতে তারা বাড়তি চাপ অনুভব করেন। পরীক্ষায় খারাপ ফল করেন।

কলেজ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ১৬টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), ১৩টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্নাতক (পাস) ও এইচএসসি মিলিয়ে ৯৫ জন শিক্ষকের পদের মধ্যে ৫০ জন আছেন। বিভাগে সাতজনের মধ্যে আছেন পাচজন শিক্ষক।

বিভাগীয় প্রধান মো. শরীফুজ্জামান বলেন, তারা এইচএসসি, স্নাতক (সম্মান), স্নাতকত্তরসহ ১ হাজার ৬৩০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন। এই বিভাগের শূন্যপদ পূরণ এবং আরো তিনটি পদ সুষ্টি খুর জরুরী।

ইংরেজি বিভাগে ছয়টি পদের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপকসহ তিনজনের পদ শূন্য। শিক্ষার্থীও সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. হাসান বলেন, তাদের এইচএসসিতে ক্লাস নিতে হয়। এ ছাড়া স্নাতক ও পাস) ও স্নাতকত্তর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। এখানে আরো ছয়টি পদ সৃষ্টিসহ শূন্যপদ পূরণের দাবী করে তিনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ছয়জনের মধ্যে আছেন চরজন শিক্ষক। বিভাগীয় প্রধান মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা, দৈনন্দিন সমস্যাসহ কোনো না কোনো কারণে চারজনের দুজন শিক্ষক ব্যস্ত থাকেন। ক্লাস নিচ্ছেন অন্য দুজন।

এতে বিভাগ চলে না। শূন্যপদ পূরণ ও কমপক্ষে আরও ছয়টি পদ সুষ্টি জরুরী। প্রাণিবিদ্যায় পাচজনের মধ্যে আছেন দুজন শিক্ষক। এই বিভাগে শিক্ষার্থীও সংখ্যা ১৫০ জন। বিভাগীয় প্রধান মো. মোমেন মিঞা বলেন, এখানে প্রভাষকের পদগুলো শূন্য। দুজনে ক্লাস করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ থাকেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষক বলেছেন, এখানে শিক্ষকদের আবাসিক শিক্ষার্থী, তার অন্য জেলার সঙ্গে যাতায়াতব্যবস্থাও ভালো নয়। কলেজে যতসংখ্যক শিক্ষার্থী, তার তুলনায় শিক্ষক কম। এ জন্য বেশি বেশি ক্লাস করতে হয়। শিক্ষকদের ওপর চাপ পড়ছে বেশি।

এখানে শিক্ষকেরা শান্তিমূলক বদলি মনে করেন। এ কারনে অনেকে পরে আবার বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। শিক্ষক ধরে রাখতে কলেজের নিজস্ব আবাসিক ব্যবস্থা করা জরুরী।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ পারভীন আখতার বলেন, প্রতিটি সম্মন বিষয়ে ১২ জন শিক্ষকের পদ থাকা জরুরী। এ জন্য নতুন পদ সৃষ্টিসহ শূন্যপদ পূরণে মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালকের কার্যালয়ে (জিডি) তদবির করছি। কিছু শিক্ষক আনছি, কিন্তু অন্য পথে তারা তদবির করে চলে যাচ্ছেন। এই তদবির প্রথা বন্ধ করা জরুরী। ভোলায় আসা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর খুব জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য

মতামত দিন

শিক্ষা পাতার আরো খবর

৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: প্রতিবারের মতো এবারও যদি কোনো শিক্ষার্থী মনে করে যে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় . . . বিস্তারিত

শর্ত পূরণে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেত . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com