মাদক নিয়ে আতঙ্কিত জাবির ছাত্রসংগঠনগুলো

২৯ আগস্ট,২০১৬

নিজস্ব প্রতিনিধি

আরটিএনএন

জাবি: সাম্প্রতিক সময়ে মাদক নিয়ে ঘটে যাওয়া তিনটি বড় ধরণের ঘটনার কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

 

গত ১১ই আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে হেরোইন সেবনরত অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের এক নেতাসহ (বহিষ্কৃত) দুইজনকে বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসনের হাতে তুলে দেয় শাখা ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।


এর পরের দিন ১২ আগস্ট গাঁজা গাছ লাগানোর দায়ে দুই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে শাখা ছাত্রলীগ। সর্বশেষ গত সপ্তাহে (২৩শে আগস্ট) শহীদ রফিক-জব্বার হলে হাসেম রেজা নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর রুম তল্লাশি করে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করেছে হল প্রশাসন। এ সব ঘটনায় আতঙ্কিত মাদকসেবীরা।


নিজেদের ইমেজ রক্ষায় নড়েচড়ে বসেছে ছাত্র সংগঠনগুলো বিশেষ করে বামপন্থী সংগঠনগুলো। হেরোইন সেবনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা (সংগঠন থেকেও বহিষ্কৃত) ও আরেক শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের পর ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি লাকী আক্তার।


বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের মাদকের ব্যাপারে বেশ কড়া কথা শুনিয়ে গেছেন লাকী আক্তার। ভবিষ্যতে মাদকাসক্ত কাউকে কমিটিতে রাখা হবে না বলেও ঘোষণা দিয়ে গেছেন।


এদিকে গাঁজা গাছ লাগানোর অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর সংগঠন থেকে বহিষ্কার এবং এক কর্মীর রুম তল্লাশি করে হল প্রশাসনের ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্কে আছেন মাদকাসক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও। আগামী অক্টোবর মাসেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মাদক সংশ্লিষ্টতাকে নিজ দলেরই প্রতিপক্ষ গ্রুপ দাবার চালের গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন বলে আশঙ্কায় রয়েছেন পদপ্রার্থীরা।


এছাড়া মাদকাসক্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও প্রশাসনের হাতে তুলে দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতারা। সেকারণে মাদকাসক্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘কমিটিতে পদপ্রার্থীদের মধ্যে যাদের মাদক সংশ্লিষ্টতা আছে তারা এবং তাদের অনুসারীরা সতর্ক হয়ে গেছে। কারণ, বিপক্ষ গ্রুপকে বিপদে ফেলতে কখন কে কার মাদক সংশ্লিষ্টতা ফাঁস করে দেয় তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। অলরেডি এ রকম চেষ্টা চলছে। আর মাদক সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিডিয়ায় আসলেই পদ পাওয়াটা অসম্ভব হয়ে যাবে।’


এদিকে শাখা ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানান, আগস্ট মাস গেলেই কমিটিকে সামনে রেখে মাদকের বিরুদ্ধে নিজেদের সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে শুদ্ধি অভিযান চালাবে শাখা ছাত্রলীগ।

 

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘মাদকসেবীদের আমরা কিন্তু প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া শুরু করেছি। এমনকি এ ব্যাপারে আমরা নিজেদের লোকদেরো ছাড় দিচ্ছি না।’


এদিকে মাদকের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও গত কয়েক মাসে মোটামুটি শক্ত ভূমিকায়ই দেখা গেছে। মাদক সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে প্রশাসনকে। সম্প্রতি মাদক নির্মূলে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। মাদকের তথ্য চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিটি।


তবে তথ্য থাকা সত্ত্বেও মাদক সরবরাহকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

মন্তব্য

মতামত দিন

শিক্ষা পাতার আরো খবর

৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: প্রতিবারের মতো এবারও যদি কোনো শিক্ষার্থী মনে করে যে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় . . . বিস্তারিত

শর্ত পূরণে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেত . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com