পাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

০৫ নভেম্বর,২০১৮

পাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
পাবনা: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের নানা দাবি আদায়ে দিনভর আন্দোলন হয়েছে। এ কারণে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ছেলেদের এবং বেলা ১১টায় মেয়েদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার রাত ৮টায় এ ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পাবিপ্রবির জনসংযোগ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৪৭তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৬ নভেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র হল সকাল ৯টা এবং শেখ হাসিনা ছাত্রী হল বেলা ১১টার মধ্যে ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ অপরিবর্তিত থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে বাস ভবনে চলে যান।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসির বাস ভবনও অবরুদ্ধ করে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রবেশের মূল ফটক ও প্রশাসনিক ভবন আটকিয়ে ছয় দফা দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি পাবিপ্রবি প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করলে সেখানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়।’

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি করে আসছি। দাবি মেনে নেবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। অথচ গত ৩-৪ মাস অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ইতিপূর্বেও আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধারাবাহিক ভাবে আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করেছি। প্রতিবার আমাদের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সকল ব্যাচ সমূহের অর্ডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তুকি প্রদান, ক্লাস রুম ও চেয়ার সংকট দূর করা, পরিবহন সংকট, ক্যাম্পাসে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রোস্তম আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল ছাত্ররা। এ সময় আমি প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে বাস ভবনে চলে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে এই পরিস্থিতি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

ভর্তি বাণিজ্য রোধে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি ফি বেঁধে দিতে পারে সরকার

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মনে করছেন, সরকারি স্কুলের মতো বেসরকারি স্কুলেও স . . . বিস্তারিত

ছাত্রদল-শিবির প্রবেশের আশঙ্কায় আতঙ্কে ঢাবি ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সরব রয়েছে ছাত্রলীগ। . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com