সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি

০৪ অক্টোবর,২০১৮

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বেতন কাঠামোর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড (আগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি) পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কোটা পদ্ধতি সংশোধন করেছে- নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

একই সঙ্গে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারের মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারি চাকরির একাংশ অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য বাতিল করা হয়েছে। তবে নিচের দিকের পদের জন্য এই কোটা পদ্ধতি বহাল থাকবে।

এর আগে বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়ার পর আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ২ জুলাই কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। ৮ জুলাই প্রথম সভা করে কমিটি। পরে কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ কার্যদিবস (৩ মাস) বাড়ানো হয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন।

তবে কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনকারীদের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন জানিয়েছেন, সচিব কমিটির সুপারিশগুলো বিস্তারিত দেখে তারা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন জোরালো হতে শুরু করে যা এপ্রিলে এসে তীব্র হয়ে ওঠে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের নিয়মিত সংঘর্ষ হতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের সময় উপাচার্যের বাসভবনে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার পর ব্যাপক পুলিশ অভিযান চালানো হয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে।

এ আন্দোলনের মুখেই ১১ই এপ্রিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

তবে গত ১২ই জুলাই তিনি আবার সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ থাকায় সেটি সরকারের পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।এরপর তা নিয়ে আবারো বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে ১৭১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এই কমিটির আহবায়ক ছিলেন হাসান আল মামুন। আর বাকি ১৭০ জনই যুগ্ম আহবায়ক। তাদের সাতজনই পরে আটক হয়ে জেলে গিয়েছিলেন। তারা এখন জামিনে রয়েছেন।

বছরের শুরু থেকে কয়েকমাস ধরে নানা কর্মসূচি পালনের পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে কোটা সংস্কারের জন্য মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহবায়ক করে ২রা জুলাই সাত সদস্যের সচিব কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ওই কমিটিকে প্রথমে পনের দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরে সে সময় বাড়ানো হয়। পরে গত ১৩ই আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে জানান যে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা তুলে দিয়ে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সুপারিশ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

২৬শে সেপ্টেম্বর কোটা পর্যালোচনা কমিটির মুখপাত্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিধি) আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন সচিব কমিটির সুপারিশ আজকের মন্ত্রীসভা বৈঠকে তুলে ধরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ফল স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ . . . বিস্তারিত

ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রুল স্থগিত চেয়ে উপাচার্যের আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com