সর্বশেষ সংবাদ: |
  • বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রার্থিতা বৈধ করবে বলে জানিয়েছেন আদালত, অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পর আদেশ
  • তিন আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি চলছে
  • সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধান, ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দায়বদ্ধ নির্বাচন কমিশন : সিইসি

কোটা সংস্কারের পরিকল্পনা সরকারের নেই: জনপ্রশাসন সচিব

০৮ মার্চ,২০১৮

কোটা সংস্কার

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

মোজাম্মেল হক খান বলেন, বর্তমানে বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন ধরনের কোটার জন্য ৫৭ ভাগ পদ সংরক্ষিত আছে। এই কোটা কমিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে প্রজ্ঞাপনে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে এমনিতেই কোটা ১০ শতাংশ কমে আসবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরাসরি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করা হবে।

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক খান বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিদিনই তাদের মধ্য থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই সরকারি পদ শূন্য হচ্ছে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে শূন্য পদের সংখ্যা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি একটু জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে প্রতিদিনই পদ খালি হলেও টেকনিক্যাল কারণে জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কোটা শিথিল হওয়ার ফলে এখন নিয়োগ কিছুটা হলেও সহজ হবে।

চাকরিতে কোটা নিয়ে ক্ষোভের যত কারণ
দেশে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে রবিবার। রেকর্ড পরিমান ছাত্র-ছাত্রীর সমাগন মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের কথা।

কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে অনশন করছে একদল।

এর আগে বাংলাদেশে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদেরও এর আগে নানা ইস্যুতে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি চাকরি প্রত্যাশীদের নানা ধরনের দাবি নিয়ে এভাবে বার বার রাস্তায় নামতে হচ্ছে কেন? তাদের ক্ষোভের কারণ চাকরির অভাব নাকি সরকারি চাকরিকেন্দ্রিক মানসিকতা?

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের অনারারি ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও শিক্ষিতদের মধ্যে চাকরি সম্ভাবনা সংকুচিত হচ্ছে। যে হারে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে তার থেকেও বেশি হারে চাকরি প্রার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে বের হচ্ছে। চাকরির বাজারে প্রতিবছর যত ছেলে-মেয়ে আসছে সে তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাচ্ছে না।

ড. মুস্তাফিজুর বলেন, এ কারণে আমরা দেখছি একটা চাপ, অনেক ছেলে-মেয়ে চাকরির জন্য রাস্তায় নামছে। এখানে চাকরির অভাবের সমস্যা নাকি সরকারি চাকরিই করতে হবে এমন মানসিকতা দায়ী?

গবেষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখানে দুটি বিষয় কাজ করে। সরকারি চাকরির পরীক্ষা যেহেতু দুই-তিন বছর পর পর হয় ফলে সেখানে একটা চাপ পড়ে। আবার বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির জন্য যে বিজ্ঞাপন হচ্ছে সেখানেও দেখছি প্রতিটি পদের জন্য অনেক বেশি প্রতিযোগী বাড়ছে। সেটার একটা চাপ সরকারি খাতের ওপর বাড়ছে। সেখানেও কর্মসংস্থানের জন্য যখন বিজ্ঞাপন আসছে সেখানেও ব্যাপক চাপ বাড়ছে।

মুস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের চাকরি ক্ষেত্রের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বিদেশি নাগরিকদের হাতে।

তার ভাষায়, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বের হয়ে আসছে অনেক ছেলে-মেয়ে। কিন্তু তাদের অনেকেই চাকরির বাজারে যখন আসছে তখন খুব প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। অথবা যে ধরনের চাকরির যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ছে সে ধরনের তারা হয়ে উঠতে পারছে না। এ জন্য আমরা দেখছি বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসে অনেকে কাজ করছে কিন্তু আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা সেসব জায়গায় যেতে পারছে না।

তিনি মনে করেন, সবাই যে সরকারি চাকরি করতে চান সেটাও না। কিন্তু ব্যক্তি খাতে নিজ উদ্যোক্তা হওয়ার যে চেষ্টা বা সুযোগের সম্ভাবনাও কম।

শিক্ষিত বেকারদের জন্য সংকট আরো বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের যারা স্বল্প-শিক্ষিত তারা কিন্তু দেশের বাইরেও কর্মসংস্থানের জন্য যেতে পারছেন। কিন্তু যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন তাদের দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থান খুঁজতে হচ্ছে। আবার চাকরির ক্ষেত্রে চাহিদার যে দিকটি তার সঙ্গে তাদের প্রস্তুতিও খাপ খাচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কারে প্রবৃত্ত করে বলে মনে করেন এই গবেষক।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যা মামলায় শিক্ষিকা হাসনা হে . . . বিস্তারিত

ভিকারুননিসা শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com