‘কোটা বৈষম্য থেকে মু্ক্তি চাই’

 

২৭ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

‘কোটা বৈষম্য থেকে মু্ক্তি চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: একটি দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমগ্র দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, ব্যবসা বাণিজ্য এবং অন্যান্য যে কোন সেক্টরে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রদান করার প্রক্রিয়াই মূলত কোটা হিসেবে পরিচিত।

কিছু কিছু সেক্টরে বৈষম্য রোধ করার জন্য কোটা সিস্টেম দেওয়া হয়ে থাকে রাষ্ট্র কর্তৃক এবং সেটা অবশ্যই রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্যই।

পাশাপাশি কোটা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই প্রদান করা হয়ে থাকে এবং যে বিষয়ে কোটা প্রদান করা হয়ে থাকে সেটা থেকে ঐ গ্রুপ কিংবা যাদের জন্য কোটা দেওয়া হয়েছে তারা যদি পরবর্তীতে ইতিবাচকতায় চলে আসে তখন কোটা সিস্টেম প্রত্যাহার করা হয় তথা সংস্কার করা হয় এবং এটাই বাইরের দেশে হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির নিয়োগে ৫৬ শতাংশ বিদ্যমান কোটা পদ্ধতিকে বৈষম্য বলছেন সাধারণ প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে রাজপথ সবখানেই কোটা সংস্কারের ৫ দফা দাবি আলোচনার কেন্দ্রে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি প্রার্থীদের। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কার আবশ্যক।

সরকারি চাকুরির নিয়োগে লাখো প্রার্থীর দীর্ঘশ্বাস, অভিমান আর হোঁচট খাওয়া গল্পের অন্য নাম ৫৬ শতাংশ কোটা। কোটা সংস্কারের দাবিতে পোস্টার ব্যানার আর স্লোগানে হাজারো প্রার্থীর প্রতিবাদের ভাষা, প্রতিরোধের আগুন তাই কয়েকগুণ হয়ে ধরা দেয় রাজপথে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যম গুলোতেও সে প্রতিরোধের রং ছড়িয়ে আছে। প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হলেও দাবি অভিন্ন।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, বৈষম্য অন্যায়। এটা কখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন হতে পারে না। আরেকজন বলেন, এটা বাতিলের দাবিটাও যেমন যৌক্তিক, তেমনি সংস্কার করাটাও উচিত।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগ চত্বরে জমায়েত হন হাজারো প্রার্থী। ২৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ৫ দফা দাবিতে অভিন্ন ব্যানারে চলে বিক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেয়া হয় স্মারকলিপি। বাধা বিপত্তি যাই আসুক দাবি আদায় করার প্রত্যয় প্রার্থীদের।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই কোটা পদ্ধতি আছে এটা সত্য, কিন্তু সহনীয় পর্যায়ে। আরেকজন বলেন, এক কোটাদারীর সন্তান যদি ৫০ জন হয়, তাহলে ৫০ জনই কিন্তু কোটার সুবিধা পাবে। কিন্তু এটা তো মেনে নেয়া যায় না।

সরকারি কর্ম কমিশন বলছে, কোটার শূন্য পদ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগে সর্বাধিক আন্তরিক তারা, আর বিশ্লেষকরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে ৫৬ শতাংশ কোটা কমিয়ে আনার দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, বিশেষ প্রশাসনিক আদেশে শূন্য না রাখার জন্য অর্থাৎ মেধাক্রম থেকে পূরণ করে দেয়ার জন্য অনুমতি দেয়া থাকে, এরকমভাবে ৩৫ এবং ৩৬ এ আমরা দুটো ফলাফল দিয়েছি। কোটা পদ শূন্য থাকলে সেটি মেধা থেকে পূরণ করা হবে।

পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদত হুসাইন বলেন, ৫০% এর বেশি মেধাতে থাকা উচিত। কোটা একদম থাকবে না সেটা বলে নাই। মূল কথাটা হল, অনগ্রসর অংশের জন্য কোটাটা উঠিয়ে দিয়ে ওই কোটাটা পুরো সেভ করে মেধা কোটায় দেয়া।

এদিকে আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবার হুঁশিয়ারি সাধারণ প্রার্থীদের।

কোটা সিস্টেমের কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশ ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের উন্নয়ন। কোটা থাকার কারণে যেখানে একজন চাকরি প্রার্থী ৪০ পেয়ে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে সেখানে একজন মেধাবী ৬০ পেয়েও চাকরি পাচ্ছে না। বিষয়টা চরম বৈষম্যের এবং সেটা আরও ভোগান্তির হয় যখন দেখা যায় শুধুমাত্র কোটাধারীদের জন্য সরকারি চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। কোটার সংস্কার তাই জরুরী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বার্থেই।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রুল স্থগিত চেয়ে উপাচার্যের আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ . . . বিস্তারিত

সরকারি হলো ৪৪ বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নতুন করে আরও ৪৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com