চাকরিতে কোটা নিয়ে ক্ষোভের যত কারণ

২৬ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

চাকরিতে কোটা নিয়ে ক্ষোভের যত কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: দেশে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে রবিবার। রেকর্ড পরিমান ছাত্র-ছাত্রীর সমাগন মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের কথা।

কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে অনশন করছে একদল।

এর আগে বাংলাদেশে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদেরও এর আগে নানা ইস্যুতে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি চাকরি প্রত্যাশীদের নানা ধরনের দাবি নিয়ে এভাবে বার বার রাস্তায় নামতে হচ্ছে কেন? তাদের ক্ষোভের কারণ চাকরির অভাব নাকি সরকারি চাকরিকেন্দ্রিক মানসিকতা?

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের অনারারি ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও শিক্ষিতদের মধ্যে চাকরি সম্ভাবনা সংকুচিত হচ্ছে। যে হারে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে তার থেকেও বেশি হারে চাকরি প্রার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে বের হচ্ছে। চাকরির বাজারে প্রতিবছর যত ছেলে-মেয়ে আসছে সে তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাচ্ছে না।

ড. মুস্তাফিজুর বলেন, এ কারণে আমরা দেখছি একটা চাপ, অনেক ছেলে-মেয়ে চাকরির জন্য রাস্তায় নামছে। এখানে চাকরির অভাবের সমস্যা নাকি সরকারি চাকরিই করতে হবে এমন মানসিকতা দায়ী?

গবেষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখানে দুটি বিষয় কাজ করে। সরকারি চাকরির পরীক্ষা যেহেতু দুই-তিন বছর পর পর হয় ফলে সেখানে একটা চাপ পড়ে। আবার বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির জন্য যে বিজ্ঞাপন হচ্ছে সেখানেও দেখছি প্রতিটি পদের জন্য অনেক বেশি প্রতিযোগী বাড়ছে। সেটার একটা চাপ সরকারি খাতের ওপর বাড়ছে। সেখানেও কর্মসংস্থানের জন্য যখন বিজ্ঞাপন আসছে সেখানেও ব্যাপক চাপ বাড়ছে।

মুস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের চাকরি ক্ষেত্রের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বিদেশি নাগরিকদের হাতে।

তার ভাষায়, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বের হয়ে আসছে অনেক ছেলে-মেয়ে। কিন্তু তাদের অনেকেই চাকরির বাজারে যখন আসছে তখন খুব প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। অথবা যে ধরনের চাকরির যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ছে সে ধরনের তারা হয়ে উঠতে পারছে না। এ জন্য আমরা দেখছি বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসে অনেকে কাজ করছে কিন্তু আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা সেসব জায়গায় যেতে পারছে না।

তিনি মনে করেন, সবাই যে সরকারি চাকরি করতে চান সেটাও না। কিন্তু ব্যক্তি খাতে নিজ উদ্যোক্তা হওয়ার যে চেষ্টা বা সুযোগের সম্ভাবনাও কম।

শিক্ষিত বেকারদের জন্য সংকট আরো বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের যারা স্বল্প-শিক্ষিত তারা কিন্তু দেশের বাইরেও কর্মসংস্থানের জন্য যেতে পারছেন। কিন্তু যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন তাদের দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থান খুঁজতে হচ্ছে। আবার চাকরির ক্ষেত্রে চাহিদার যে দিকটি তার সঙ্গে তাদের প্রস্তুতিও খাপ খাচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কারে প্রবৃত্ত করে বলে মনে করেন এই গবেষক।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রুল স্থগিত চেয়ে উপাচার্যের আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ . . . বিস্তারিত

সরকারি হলো ৪৪ বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নতুন করে আরও ৪৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com