বহিষ্কৃত ছাত্রও নিয়মিত বাস করছেন ঢাবি’র হলে

২৩ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

বহিষ্কৃত ছাত্রও নিয়মিত বাস করছেন ঢাবি’র হলে

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ঢাবি: ভর্তি যুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে মো. বায়জিদ নামের এক শিক্ষার্থীকে। তবে তিনি এখনো নিয়মিত ছাত্র হিসেবেই হলে বসবাস করছেন। অংশ নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানের শেল্টারে ‘বায়জিদ’ নামক এ ছাত্র হলে থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বায়জিদ ২০১৬-১৭ সেশনের ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ৫৮তম হয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১ লাখ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগের দিন তিনি প্রশ্নপত্র পান বলে সিআইডির অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষার এই জালিয়াতির অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি বায়জিদসহ মোট ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর গত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা থেকে বায়জিদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বায়জিদের কয়েকজন বন্ধু জানান, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বর্ধিত ভবনের ২০০৭ নম্বর রুমে থাকতেন বায়জিদ। বহিষ্কার হওয়ার পরেও তাকে সেখানেই থাকতে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে থাকছেন তিনি।

হল ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বায়জিদ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানের অনুসারি এবং হল ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

তিনি হলে থেকে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে বায়জিদ সব সময় জবাব দেন, তাকে তো ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পরও হলে থাকার বিষয়ে বায়জিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, সে নিয়মিত থাকে না। মাঝে একদিন হলে এসেছিল।

তিনি বলেন, বায়জিদেরর বহিষ্কারের কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। পাওয়ার পর আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দেলওয়ার হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের পর কেউ হলে থাকতে পারে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি, সত্য হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাবি ছাত্রদের জিম্মি করে ছাত্রলীগের ইন্টারনেট বাণিজ্য!
ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে হলের চড়া মূল্যে ইন্টারনেট বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে হলটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তারা উপযুক্ত ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

হল সূত্রে জানা যায়, গত মাসে হলে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইনোবিন’কে হলটিতে ফ্রি সংযোগ (ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষে) বৃদ্ধি ও মাসিক চাঁদা দেওয়ার দাবি করে শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। এ নিয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের মনোমালিন্য হয়।

একপর্যায়ে গত ১৮ জানুয়ারি রাতে হল ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় রফিক ভবনের চতুর্থ তলায় থাকা সংযোগটির স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এর ফলে ২০ দিন বন্ধ থাকে হলের ইন্টারনেট সেবা। এ নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলটির একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ইনোবিনের সংযোগটি পুনরায় চালু করতে ছাত্রলীগ পরোক্ষভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আগের সংযোগটিকেই পুনরায় পেতে এখন রেজিস্ট্রেশনের নামে শিক্ষার্থীদের গচ্চা দিতে হচ্ছে বাড়তি পাঁচশ টাকা এবং সংযোগ প্রতি আগের থেকে মাসিক বিল দুইশ টাকা বেশি।

অভিযোগ আছে, গত বছর ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণার পর সাধারণ সম্পাদক এহসান পিয়ালের অনুসারীরা হলটিতে থাকা স্বল্প মূল্যের ও ভালো স্পিডের কে এস নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বিতাড়িত করে। পরে অধিকমূল্যের অত্যন্ত নিম্নমানের সার্ভিসের (ইনোবিন) সংযোগটি চালু করা হয়। এর পর থেকে এ নিয়ে ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান পিয়াল বলেন, তারা পুনরায় সংযোগ স্থাপনের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে বিভিন্ন খরচ বাবদ পাঁচশ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। এতে ছাত্রলীগের কোনো হাত নেই।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার রাজি বলেন, ‘সংযোগ স্থাপনাটি কারা ভাঙচুর করেছে, জানি না। আর ইন্টারনেট বাণিজ্যের অভিযোগটি ঠিক নয়।’

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি হলের মধ্যে ফ্রি ইন্টারনেট কানেকশন করে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে কিছু দুষ্কৃতকারী সংযোগ স্থাপনাটি বারবার ভেঙে ফেলে দিচ্ছে।’

‘তারা এটার মধ্য দিয়ে কোনো ব্যবসা করছে কি না, জানি না। তবে ছাত্ররা চাইলে আমি পুরো হলে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দিয়ে দেবো। তাদের বাইরের কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টারনেট নেওয়ার দরকার হবে না,’ যোগ করে প্রাধ্যক্ষ।

তবে দুষ্কৃতকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের পরিচয় বলতে রাজি হননি ঢাবির এই শিক্ষক। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন ইনোবিনের কর্মচারী সুমন। তবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ১৩১৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩১৪ জনকে . . . বিস্তারিত

৩৮ ও ৩৯তম বিসিএসের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: চলতি ৩৮তম ও আসন্ন ৩৯তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে বাংলা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com