২৯ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

২২ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

২৯ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), ঢাকা শিক্ষাবোর্ড এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ২৯ জন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নিজ বেতন ও বেতনক্রমে বদলি করে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) ড. মো. সেলিমকে মাদারীপুরের বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ করে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক হিসেবে সংযুক্ত অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মো. আশফাকুশ সালেহীনকে যশোরের সরকারি এমএম কলেজে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক এটিএম মঈনুল হোসেনকে খুলনা সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের সঠিক সমাধান নয়: জাফর ইকবাল
ঢাকা: ইন্টারনেট বন্ধ করে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঔপন্যাসিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও কোনো সঠিক সমাধান নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেটের মিরের ময়দানে বিশ্ব বেতার দিবস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জনপ্রিয় এ লেখক।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘প্রথমত যদি প্রশ্নফাঁস হয়, তো লেখাপড়া শেষ। প্রশ্নফাঁস যদি হয়, যতই আপনি চেষ্টা করেন, লেখাপড়ার কোনো গুরুত্ব নাই। যেই ছেলেটা এসএসসিতে একটা ভালো করেছে, আমি তো জানি না সে আসলেই ভালো করেছে নাকি প্রশ্নফাঁসের জন্য ভালো করেছে। কিংবা যে ছেলেটা ভালো করে নাই, কেননা প্রশ্নফাঁস দেখে নাই। তাই না? তাঁকে তো আমি ক্ষতিগ্রস্ত করছি। কাজেই মোটামুটিভাবে বলা যায়, প্রশ্নফাঁস যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের দেশের শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নাই। আমি বলতে পারবো না যে, শিক্ষা হচ্ছে। কাজেই সরকারকে এটা বন্ধ করতেই হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কোনো সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন,‘এখন এটা হাস্যকর পর্যায়ে চলে গিয়েছে। জাতীয় সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে সাংসদরা বলেছেন যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এবং শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন পদত্যাগ করার জন্য। এটা এই পর্যায়ে গিয়েছে। স্বীকার করছেন না বললে এখন আর হবে না। অবশ্যই পদত্যাগ সমাধান না। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যাটাকে সিন্সিয়ারলি অ্যাড্রেস করাটা, এটা সমাধান। আমি তো প্রথম দিন থেকে বলে আসছি যে, আপনারা ঘোষণা দেন, যে যা হবার হয়েছে ভবিষ্যতে আর প্রশ্নফাঁস হবে না। কিন্তু উনারা সেই ঘোষণা দেন না। কারণ উনাদের সেই কনফিডেন্সটা নাই, বলবেন যে প্রশ্নফাঁস হবে না। আমি যদি ঘোষণা দেই যে, প্রশফাঁস হবে না তাহলে আমাকে কিন্তু যেভাবেই হোক প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে হবে।’

প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ উদঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে জানান মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রয়োজনে বিজি প্রেসে প্রশ্ন না ছাপিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন ছাপানোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘যখন নাকি ছাপানো হবে প্রশ্নটাকে তখনই এটা সেলফ সিকিউরড থাকতে হবে। যেন কোনোভাবে কারো হাতে না যেতে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ করে এটা বন্ধ করা যাবে না। প্রশ্ন ফাঁসটা বন্ধ করতে হবে। প্রব্লেমটাকে অ্যাড্রেস করতে হইলে প্রথমত প্রব্লেমটাকে বুঝতে হবে। এ থেকে জেড পর্যন্ত প্রতিটা স্টেপ আমাকে জানতে হবে। ঠিক করে জানতে হবে, কোথায় এটা ফাঁস হয়েছে, কেন হয়েছে। তাঁর চেয়ে বড় কথা যারা এটা করছে তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে।’

এর আগেও প্রশ্নফাঁসের কথা বললেও কেউ স্বীকার করেননি বলে জানান মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমি বহুদিন আগে এই প্রশ্নফাস নিয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত বসে ছিলাম, বৃষ্টির ভেতরে। কেউ আমার কথা শুনে নাই। অলরাইট? শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনো স্বীকার করে নাই যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এখন এটা শুরু হয়েছে, ফর দ্যা ফার্স্ট টাইম ওরা বলছে, যে হ্যা প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করছেন, এটা বন্ধ করছেন, সেটা বন্ধ করছেন। মানে চেষ্টা করতেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় যে, এটা প্রশ্নটাকে ঠিকভাবে এপ্রোচ করা হয় নাই। উনাদের এপ্রোচটা হচ্ছে যে, প্রশ্নফাঁস হবেই, আমরা শুধুমাত্র যেন ডিস্ট্রিবিউশনটা না করতে পারি সেটা দেখাইতে হবে। বুঝেছেন তো, ডিস্ট্রিবিউশনটা যাতে না করতে পারে। প্রশ্নফাঁস হবেই উনারা ধরে নিয়েছেন। কেন প্রশ্নফাস হবে, এটা আমি মানতে রাজি না।’

লেখক আরো বলেন, ‘আমি কালকে একটা ই-মেইল পেয়েছি, যেখানে একজন বলেছে, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে সারাদিন ধরে বোর্ড অফিসে থেকেছে, সেখান থেকে প্রশ্ন বের করে নিয়ে আসছে। আমি সত্য মিথ্যা জানি না। কিন্তু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে আমি যদি বোর্ডে বসে থাকি সারাদিন ঐখান থেকে একটা প্রশ্নপত্র কেউ না কেউ আমাকে দিয়ে দেবে। আসলেই এটা হয়েছে কিনা জানি না। কিন্তু মানুষজন কেন এটা চিন্তা করবে বোর্ডে গেলে একটা প্রশ্নপত্র পেয়ে যাব?’

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রুল স্থগিত চেয়ে উপাচার্যের আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ . . . বিস্তারিত

সরকারি হলো ৪৪ বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নতুন করে আরও ৪৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com