ছাত্ররা তার কাছে কতটা প্রিয়- ১২০ চিঠিতে তা জানালেন শিক্ষক পলিন

১৭ অক্টোবর,২০১৭

লোগান পলিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: লেখা তার দৃঢ় প্রত্যয় নয়, তার ব্যক্তিত্ব, তার হাতে লেখা চিঠি এবং হাতে হাতে তা বিতরণ করা অবশ্যই ‘বে-ওয়াভেলল্যান্ড মিডল’ স্কুলের সিনিয়ন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিশেষ কিছু। তিনি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ‘বে-ওয়াভেলল্যান্ড মিডল’ স্কুলের শিক্ষক লোগান পলিন।

ডেলি বেল নামে স্কুলটির সিনিয়র একজন ছাত্র বলেন, ‘আমি তাকে ক্লাসের বিরতিতে দেখি এবং তার হাতে বড় একটি বাক্স দেখি; যাতে শুধু চিঠি ছিল এবং তিনি আমাকে বললেন, ‘ডেলি বেল, এটি তোমার জন্য এবং আমি এটি পড়ার পর খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই।’

২০১২ সালে পলিন শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৮ সালের গ্রাজুয়েট ক্লাসের ১২০ জন সিনিয়র ছাত্র-ছাত্রীকে চিঠি লেখার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নতুন স্তরে সংযুক্ত হয়েছেন। এরা সবাই ছিল স্কুলে তার যোগদানের পর তার ক্লাসের প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী।

পলিন বলেন, ‘এই শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা সত্যিই আমার স্তরকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যায়; এটা আমি দাবি করতেই পারি এবং সপ্তম-গ্রেডারদের বাইরে আমি এটা আশা করতে পারি।’

‘এরা নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। ক্লাসের সমস্থ ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় ‘এ’ ক্লাস পেয়েছিল। ক্লাসে আমরা এমন বিষয়ে আলোচনা করতাম যা আপনি আগে জানতেন না। আমরা এমন কিছু বিষয়ে কথা বলতাম যা আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল না। আমাদের বিষয় ছিল বিশ্ব ইতিহাস, তাই অল্পবয়সী এসব ছেলে-মেয়েদের কৃতিত্ব মোটেই খাট ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘এই গ্রেডের ছেলে-মেয়েরা শ্রেণিকক্ষের প্রতিটি দিকের সঙ্গে জড়িত ছিল।’

পলিন জানান, তিনি গত বছর থেকে চিঠিগুলো লিখতে শুরু করেন এবং প্রতিটি চিঠির পিছনে ৫ থেকে ১০ মিনিটি ব্যয় করতেন। তার অনুপ্রেরণা ছিল তার স্ত্রী অ্যাশলি। অ্যাশলি ‘বিডব্লিউএমএস’ স্কুলের ষষ্ঠ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের সামাজিক গবেষণা বিষয়ের একজন শিক্ষক।

চিঠিতে ছাত্রদের সিনিয়র ইয়ারের জন্য উইশ করা হতো এবং তাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য অন্যান্য আরো কিছু শব্দ ব্যবহার করা হতো। কিছু চিঠিতে পাঁচ বছর আগে ক্লাসরুমের মজার মুহূর্তগুলো স্মরণ করা হয়েছিল।

পলিন বলেন, ‘কিছু চিঠির ভেতরে মজার কৌতুক ছিল। সেখানে একজন খুবই মেধাবি ছাত্র ছিল; যে খুব সংগ্রাম করছিল। আমি জানি না তার সমস্যা কি ছিল, কিন্তু প্রতিবারই সে আমার ক্লাসে এসে একটি পেন্সিল ধারালো করার চেষ্টা করত। তার এই পেনসিল ধারালো করা নিয়েও মজার কৌতুক ছিল।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি চিঠি বিতরণ শুরু করেন এবং পরবর্তী কয়েকদিনের জন্য সকালে ক্লাসের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াতেন কিংবা মধ্যাহ্ন বিরতির সময় ছাত্রদের খোঁজ করতেন। চিঠিতে নীল ও হলুদ রঙের সীলমোহর করা হয়েছিল। তার প্রথম দিনে তিনি কেবল ২০টি চিঠি বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছিলন।

শেষ দিন বিকালে ছাত্রদের ছুটির সময় পলিনকে অফিসে ডাকা হয়।

তিনি বলেন, ‘ছুটির সময় অফিসে আমার ডাক পড়ায় আমি কিছুটা অবাক হয়ে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি দরজায় তিন থেকে চারজন সিনিয়র ছাত্র দাঁড়িয়ে আছে। তারা বলল, আমরা কিছু চিঠি সম্পর্কে শুনেছি।’

ওই শিক্ষার্থীরা পলিনকে বলেছিল তারা তাদের চিঠি চায়।

তিনি বলেন, ‘আমি হাসতে লাগলাম এবং তাদের বলেছিলাম, আমি সোমবার ফিরে আসব। মনে করো না আমি তোমাদের সম্পর্কে ভুলে গেছি।’

সূত্র: ট্রিবিউন নিউজ সার্ভিস

মন্তব্য

মতামত দিন

প্রধান খবর পাতার আরো খবর

মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার সবচেয়ে বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ১০ বিভাগের মধ্যে এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পাস . . . বিস্তারিত

শিক্ষকদের আমরণ অনশনে ১০৯ জন অসুস্থ, হাসপাতালে ১০

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: রাজধানীতে এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ১০৯ জন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com