ইসলামফোবিয়া মোকাবেলায়

মুসলিম-অমুসলিম নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মরক্ষায় অনন্য উদ্যোগ ধর্মান্তরিত খাদিজার

১০ ফেব্রুয়ারি,২০১৯

মুসলিম-অমুসলিম নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মরক্ষায় অনন্য উদ্যোগ ধর্মান্তরিত খাদিজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া ভিত্তিক ঘৃণামূলক অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত সমাজে হিজাব পরিধানকারী চার সন্তানের জননী এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন যাতে করে একই সাথে মুসলিম এবং অমুসলিম নারীদের ক্ষমতায়ন করা যায় এবং তাদের আত্মরক্ষায় কৌশল শেখানো যায়।

যুক্তরাজ্যের মিল্টন কেইনেস শহরের বাসিন্দা খাদিজা সাফারি ২০০৯ সালে তার ২৭ বছর বয়সের সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি থাই মার্শাল আর্ট যা মুউয়ায়ে নামে পরিচিত, তা অর্জন করার জন্য নিজের গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাকরি পরিত্যাগ করেন এবং থাই মুউয়ায়েতে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন।

বার্তা সংস্থা মেইল অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতে তিনি প্রথাগতভাবেই ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। তথাপি কয়েক বছর পরে তিনি তার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে পবিত্র কুরআনের একটি কপি হাতে পান। তার ভাষায়- ‘সে সময় থেকে সবকিছু একদম যথাযথভাবে একসাথে জোড়া লাগতে শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমসমূহে ইসলাম এবং নারীদের সম্পর্কে অনেক বেশি নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো হয়। গণমাধ্যমসমূহ এই বার্তা দেয় যে, মুসলিম নারীরা বৈষম্যের শিকার। এসকল বার্তার অনেকগুলো এমন সংস্কৃতি থেকে আসে যেখানকার বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম কিন্তু তারা ইসলামের চর্চা থেকে সরে গিয়েছে।’

বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী এই নারী তার স্বামীর সাথে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং তারা পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদা আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী হাতে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এর পূর্বে আমরা সমন্বিত শ্রেণিতে প্রশিক্ষণ দিতাম এবং তা নিয়ে আমি এখন আর স্বস্তিবোধ করি না। আর পরবর্তীতে আমি হিজাব পরিধান করার সিদ্ধান্ত নিই এবং আমি এটি পরিধান করে প্রশিক্ষণ দিতে অপারগ হয়ে পড়ি। সুতরাং আমাদের এখন দরকার পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদা আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। যদিও এটি অনেকটা ঝুঁকির বিষয় কারণ আমার স্বামীর এমন নারী মক্কেল রয়েছেন যারা খুব উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে বদ্ধপরিকর। আর এভাবেই আমরা আমাদের আবেগের মূল্য দিয়ে প্রশিক্ষণের প্রথম পর্ব সফলতার সাথে শেষ করেছি।’

পুরুষ এবং নারীদের পৃথকীকরণের মাধ্যমে মুসলিম নারীরা অমুসলিম নারীদের সাথে অনেক বেশি মেশার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

খাদিজা সাফারি বলেন, ‘আমি কিছুই পৃথক করিনি বরং আমি নারীদের কে এমন একটি সমাজে সংযুক্ত করেছি যেখানে তারা অমুসলিম এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসা নারীদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পান। আমার দিক থেকে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতাম তখন আমি হিজাব পরিধান করে এমন কোনো নারীর সাথে বন্ধুত্ব করিনি কারণ আমি ভাবতাম তারা একেবারেই ভিন্ন সংস্কৃতির কেউ। আর এখন নারীরা এটা শিখতে পারছে যে, আমরা সবাই আসলে একই।’

খাদিজা সাফারি বলেন, আত্মরক্ষা নারীদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে শক্তি যোগায়। তার ভাষায়- ‘আমি যা চিন্তা করতাম এটি এখন তার চাইতেইও বেশি কিছুতে রূপান্তরিত হয়েছে। যখন কোনো নারী এখানে আসে এবং বলে আমাদের প্রশিক্ষণ তাকে রক্ষা করেছে, এই প্রশিক্ষণ আমার জন্য থেরাপির মত, এই প্রশিক্ষণ আমার কঠিন সময়ের সঙ্গী, তখন আমার দায়িত্ব হয়ে পড়ে এই প্রশিক্ষণকে যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দেয়া যাতে করে আরো অনেক বেশি নারী তাদের জীবনে এর সুযোগ পেতে পারেন।’

সূত্র: সিয়াসাত ডট কম।

মন্তব্য

মতামত দিন

মূল প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

সাংবাদিকতাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে: গোঁড়া খ্রিস্টান থেকে ধর্মান্তরিত সারাহ

সারা প্রাইস: ইসলামিস্ট, জিহাদিস্ট, আই.এস.আই.এস, সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা, বোরকা, ৯/১১... ইত্যাদি তকমা... . . . বিস্তারিত

ফ্যাশন শিল্পে হিজাবের প্রাধান্য বেড়েই চলছে, আকার ৪৮৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকায়রো: বাংলাদেশি নাজমা খান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১১ বছর বয়সে। তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com