ইসলামে শালীনতা: আল্লাহর আইন নারী-পুরুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, তবে পন্থা ভিন্ন

১৭ জানুয়ারি,২০১৯

ইসলামে শালীনতা: সৃষ্টিকর্তার আইন নারী-পুরুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, তবে ভিন্ন পন্থায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
সাউলাত পারভেজ: ইসলাম ধর্মে নারী-পুরুষ উভয়েই শালীনতা বজায় রাখার জন্য সমানভাবে দায়িত্বশীল এবং তাদের অনৈতিক কামনা বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সচেষ্ট হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কেউ একজন শালীন পোশাক পরিধান করবে কি করবে না তা লিঙ্গ অনুসারে প্রত্যেকের নিজস্ব পবিত্রতার বিষয়।

অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করেন যে, শুধুমাত্র নারীদের জন্যই শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

কিন্তু পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুবই পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [ সুরা নুর ২৪:৩০ ]

আবার কিছু মানুষ মনে করেন, নারীরা হিজাব পরিধান করেন পুরুষদের অনৈতিক কামনা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য, এটিও সত্য নয়। কারণ একজন পুরুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব একজন নারীর নয়।

প্রত্যেক পুরুষ তার নিজের আচরণের জন্য নিজেই দায়ী। পুরুষদেরকেও তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখতে হবে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রেই শালীন আচরণ করতে হবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। [ সুরা হুজুরাত ৪৯:১৩ ]

ইসলাম পরিষ্কার ভাবেই ঘোষণা করেছে যে, নারী এবং পুরুষ উভয়েই আল্লাহ তায়ালার নিকট সমান। আল্লাহ তায়ালা নারী এবং পুরুষদের সৃষ্টি করেছেন আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়ে।

ইসলাম ধর্মে এই ভিন্নতার অর্থ হচ্ছে, পরিবারে এবং সমাজে প্রত্যেকে তাদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়ে অবদান রেখে যাবে।

তথাপি, সৃষ্টিকর্তার আইন উভয় লিঙ্গের প্রতিই সমানভাবে প্রযোজ্য তবে ভিন্ন পন্থায়। উদাহরণ স্বরূপ- একজন পুরুষকে শালীনতার জন্য যেভাবে পোশাক পরিধান করতে হয় একজন নারীকে ঠিক একই উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে পোশাক পরিধান করতে হয়।

পুরুষদেরকে রেশমি কাপড় এবং স্বর্ণ পরিধান করতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু নারীদের জন্য এসব বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এভাবেই সৃষ্টিকর্তা নারী এবং পুরুষদেরকে ভিন্নভাবে শালীনতা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন।

পরিশেষে, ইসলাম ধর্মে নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই শালীনতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি একটি স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মাণ করা।

সূত্রঃ mycentraljersey.com এ প্রকাশিত উত্তর আমেরিকা ভিত্তিক ‘Why Islam’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী সাউলাত পারভেজের কলাম থেকে।

মন্তব্য

মতামত দিন

মূল প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

ফ্যাশন শিল্পে হিজাবের প্রাধান্য বেড়েই চলছে, আকার ৪৮৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকায়রো: বাংলাদেশি নাজমা খান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১১ বছর বয়সে। তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যা . . . বিস্তারিত

ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তুর্কি যুবককে বিয়ে, অতঃপর জাপানি নারীর ইসলাম গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনটোকিও: জাপানের মুসলমান জনগোষ্ঠী এখনো অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এবং অধিকাংশ জাপানিই কেবল ইসলামের মৌলিক . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com