পিতার অবাধ্য হলেই কেন জেলখানায় ঠাঁই হয় সৌদি নারীদের?

০৮ জানুয়ারি,২০১৯

পিতার অবাধ্য হলেই কেন জেলখানায় ঠাঁই হয় সৌদি নারীদের?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
রিয়াদ: নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর গত বছর বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবের প্রশংসা করা হয়।

কিন্তু দেশটিতে নারীদের ওপর এখনও অনেক ধরনের বিধিনিষেধ চালু আছে। খবর বিবিসির।

এর অন্যতম হচ্ছে ‘পুরুষ অভিভাবকতন্ত্র’ যেখানে একজন নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তিনি নিজে নিতে পারেন না। তার পক্ষ হয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শুধুমাত্র তার বাবা, ভাই, স্বামী কিংবা ছেলে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা, যখন এক সৌদি তরুণী বাড়ি থেকে পালিয়ে ব্যাংককে গিয়ে সেখানকার বিমানবন্দরের এক হোটেলে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

তাকে যদি বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়, বলছেন তিনি, তাহলে তার জেল হতে পারে।

একজন সৌদি নারীকে তার পাসপোর্টে আবেদনের জন্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য, সরকারি বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়াশুনার জন্য, বিয়ে করার জন্য, এমনকি কারাগার ছেড়ে যাওয়ার জন্যও তার পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়।

‘এটা এমন একটা বিষয় যা প্রত্যেক সৌদি নারী এবং মেয়েকে জন্ম থেকে আমৃত্যু ভোগায়,’ বলছিলেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিক মোনা এলতাহাউই, ‘এর মাধ্যমে নারীকে মূলত একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে দেখা হয়।’

সৌদি আরব নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সনদে সই করেছে। সৌদি সরকার বলে থাকে শরিয়া আইনে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগরের এই রক্ষণশীল রাজতন্ত্র নারী ও মেয়ে শিশুদের খেলাধুলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল খেলা উপভোগেরও অনুমতি দিয়েছে।

তবে নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য রোধে কোন আইন না থাকায় এবং সৌদি সরকার বৈষম্যের কোন আইনগত সংজ্ঞা তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সৌদি পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থাকে সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । এই পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা কোরানের আয়াত থেকে চালু করা হয়েছে বলে বলা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৬ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে সৌদি আরবে স্পষ্ট এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিভাবকত্ব আইন প্রয়োগ করা হয়।’ এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য বেশ ক’জন নারীকে বিচার করা হয়েছে এবং জেলে পোরা হয়েছে।

সৌদি মানবাধিকার কর্মী সামার বাদাউই তার বাবার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং এক আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেন।

এরপর বাবার অভিভাবকত্ব বাতিলের জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার বাবাও মেয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে বলে সামার বাবার অবাধ্য মেয়ে।

এক সৌদি আদালত ২০১০ সালে সামার বাদাউইকে কারাদণ্ড দেয় এবং তিনি সাত মাস আটক ছিলেন। সৌদি মানবাধিকার কর্মীরা বিষয়টিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

পিতার অবাধ্যতার অভিযোগে মারিয়াম আল ওতাইবি নামে আরেক সৌদি নারীকেও ২০১৭ সালে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সৌদি নারী অধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা বাতিল করার আবেদন জানিয়ে আসছিলেন।

‘সৌদি নারীরা পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা চায় না’ বলে টুইটারে বড় ধরনের এক আন্দোলন শুরু হয়।

এই প্রথা বাতিলের দাবি করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি বাদশাহর দরবারে ১৪,০০০ স্বাক্ষরসহ এক আবেদন পেশ করা হয়।

কিন্তু সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুলআজিজ আল শেখ ঐ আবেদনপত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সৌদি সমাজ ব্যবস্থার ওপর মরণ আঘাত বলে বর্ণনা করেন।

তবে পাঁচ মাস পর সৌদি বাদশাহ এক আদেশ জারি করেন যেখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব প্রথার প্রয়োজন হবে না বলে ঘোষণা করেন।

কিন্তু ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি ড্রাইভিং-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সন্দেহজনক যোগাযোগসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়। বিচারে এদের দীর্ঘমেয়াদী সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সরকারপন্থী গণমাধ্যম এদের ইতোমধ্যেই বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বর্ণনা করতে শুরু করেছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

মূল প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

‘গীর্জায় গিয়ে প্রশ্নের উত্তর পাইনি, ইসলাম আমার সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে’

আনিতা: আমার নাম অনিতা। আমি একজন আমেরিকান নারী। আমি ২০১০ সালের নভেম্বরে ইসলামে ধর্মান্তরিত হই। আমার জন্ম এমন একটি পরিবারে . . . বিস্তারিত

এটা খুব সুন্দর, ইসলামে নারীরা অনেক বেশি সম্মানিত: ধর্মান্তরিত মার্কিন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: ইসলাম সম্পর্কে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন আমেরিকান এক খ্রিস্টান নারী। ২০১৬ সালে এই ই . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com