কানাডার হিজাবী নারীদের গল্প-২

‘আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, পর্দা অনুসরণ করেও একজন নারী পুলিশ অফিসার হতে পারেন’

১৮ ডিসেম্বর,২০১৮

সোন্দোস লামরহারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
কুইবেক: কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং কুইবেক প্রদেশের বৃহত্তম শহর মন্ট্রিয়ালের মুসলিম নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকেন। তাদের কেউ শিক্ষিকা,সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ,সমাজ কর্মী অথবা পুলিশ অফিসার হয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের সকলের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সাধারণ তা হচ্ছে তারা সকলেই তাদের হিজাব নিয়ে গর্ববোধ করেন। তাদের সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা হয়ে থাকে কিন্তু সাধারণত কোনো আলোচনায় তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না।

আরটিএনএনের পাঠকদের জন্য তেমনই এক নারী সোন্দোস লামরহারির গল্প তুলে ধরা হল।

সোন্দোস লামরহারি নামের ১৮ বছর বয়সী ‘Collège Ahuntsic’ এর শিক্ষার্থী যিনি একজন পুলিশ অফিসার হওয়ার জন্য এখান থেকে তার প্রথম বছরের শিক্ষা শেষ করেছেন:-

কুইবেকের কিছু গণমাধ্যমে এই হিজাবী নারীর পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্নের কথা প্রকাশিত হলে সেখানকার রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যম আলোচকেরা তার প্রতি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল:

সোন্দোস লামরহারি বলেন, ‘আমি জানতাম এর মাধ্যমে আমাকে কিছু নিশ্চিত প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। আমি মনে করি সকলেরই নিজস্ব মতামত রয়েছে যা আমার পক্ষে যেতে পারে এমনকি আমার বিপক্ষেও। এসব কিছুকে নেতিবাচক হিসেবে নেয়া আমার চরিত্রের মধ্যে পড়ে না।

আমার হিজাব নিয়ে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল এবং আমি এর সবগুলো পড়েছিলাম। এগুলোর অনেকগুলো ছিল একেবারেই অসম্মান জনক এবং অনেক গুলোতে আমার সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু এতে করে আমি ভেঙ্গে পড়ি নি। আমি নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলেছি যার ফলে আমি মনে করি সকলেরই মতামত জানানোর অধিকার থাকা উচিত এমনকি তাদের মতামতগুলো সঠিক নাও হতে পারে।’

নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ফলে তিনি কি তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন:
‘অবশ্যই না। একজন পর্দনশীল নারী থাকার পাশাপাশি আমি একজন পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিছুই পরিবর্তন হয় নি। আমি জানি যে, ভবিষ্যতেও এর কিছুই পরিবর্তিত হবে না।’- সোন্দোস লামরহারি এমনটি জানান।

হিজাব পরিধান করার কারণে কি তা ভবিষ্যতে একজন পুলিশ অফিসার হওয়ার পথে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে:

‘সৎভাবে বলতে গেলে,আমি অনেক সময় বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। আমি ‘ট্রাক এন্ড ফ্লিল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কানাডার শ্রেষ্ঠ বিজয়ী হয়েছি এবং সত্যিকার অর্থে আমার হিজাব আমার দক্ষতায় কোনো কমতি এনে দেয় নি।

যখন একজন নারী আত্মবিশ্বাসের সাথে তার পোশাক পরিধান করেন তখন এটি তার সাথে প্রতারণা করে না। আমি কখনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি।’

কিভাবে তিনি তার পড়াশোনার ক্ষেত্রে তার হিজাব কে মানান সই করেছেন:

‘আমি আমার কাঁধ পর্যন্ত হিজাব পরিধান করে থাকি যা আপনারা সবসময় দেখে থাকেন। যখন আমি পুলিশ হওয়ার জন্য অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম,আমি জানতাম এটি পরিধান করতে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। আর আমি এতে মানিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

সুতরাং আমি পাগড়ির মত করে হিজাব পরিধান করাতে অভ্যস্ত হলাম। এর ভেতরে এটি বার্তা রয়েছে। আমাকে যারা দেখছে তাদের প্রতি একটি বার্তা যে, আমি যে কোনো কিছুতেই মানান সই। আমি এ বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছি যে, পর্দা অনুসরণ করেও একজন নারী পুলিশ অফিসার হতে পারেন।’

সূত্রঃ মন্ট্রিয়ালগেজেট ডট কম।

মন্তব্য

মতামত দিন

মূল প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

ফ্যাশন শিল্পে হিজাবের প্রাধান্য বেড়েই চলছে, আকার ৪৮৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকায়রো: বাংলাদেশি নাজমা খান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১১ বছর বয়সে। তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যা . . . বিস্তারিত

ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তুর্কি যুবককে বিয়ে, অতঃপর জাপানি নারীর ইসলাম গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনটোকিও: জাপানের মুসলমান জনগোষ্ঠী এখনো অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এবং অধিকাংশ জাপানিই কেবল ইসলামের মৌলিক . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com