ভিন্ন ধর্মবিশ্বাস-সংস্কৃতির সাথে ইসলামে ধর্মান্তরিত নারীর খাপ খাইয়ে চলার গল্প

০৭ ডিসেম্বর,২০১৮

ভিন্ন ধর্মবিশ্বাস-সংস্কৃতির সাথে ইসলামে ধর্মান্তরিত নারীর খাপ খাইয়ে চলার গল্প

ভিন্ন ধর্মবিশ্বাস-সংস্কৃতির সাথে ইসলামে ধর্মান্তরিত নারীর খাপ খাইয়ে চলার গল্প
লরেন বুথ: আমার প্লেটে সহজেই টার্কির ‘non-Zabiha’ (এমন পশুর মাংস যা আল্লাহর নামে জবাই করা হয় নি) খাদ্য এসে গেল। শুধুমাত্র একটি টুকরো নয় বরং অনেক গুলো।

আমার জীবনে এমনটি চ্যালেঞ্জ প্রথম বারের মত ঘটেছিল যখন আমি থ্যাংকস গিভিং ডে তে আয়ারল্যান্ডে সফর করছিলাম। আমাকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রোস্ট্রেভর শহরের ‘An Cuan’ নামে খ্রিস্টানদের একটি অনুষ্ঠানে রাতের খাবারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

অন্তত একশো জনের একটি দলের সাথে প্রার্থনা মূলক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পরে আমি বাফেট টেবিলের সামনে বসেছিলাম। সেখানকার একমাত্র মুসলিম হিসেবে আমি টেবিলে সাজানো শূকরের মাংসের রোস্টগুলো যত সম্ভব দূরে ঠেলে রেখেছিলাম।

আমি ঘরে রান্না করা শাক সবজির টেবিলের দিকে নিজেকে ঘুরিয়ে নিলাম যেখানে মিষ্টি আলুসহ আরো অনেক কিছু ছিল। একই সাথে আমি সকলের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখছিলাম এবং আমার ধর্ম বিশ্বাসকে যতটা সম্ভব ভদ্রোচিতভাবে উপস্থাপন করেছিলাম।

আমি নিজেকে বোঝালাম যে, আয়ারল্যান্ড খ্রিস্টান অধ্যুষিত একটি দেশ আর টার্কির মাংস গুলো এখান থেকেই এসেছে এবং তা কিতাবিদের দ্বারাই জবাই করা কোনো টার্কির মাংস হবে। আমি ‘non-Zabiha’ মাংস না খাওয়ার সংকল্প ত্যাগ করে টার্কির মাংসের থালার দিকে নিজেকে নিয়ে গেলাম।

আর এভাবেই আমি আমার আত্মার সাথে বোঝাপড়ার একটি ছুটি কাটিয়েছিলাম। একই সাথে আমি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এই শিক্ষা দিতে চাই যে, যাদেরকে প্রতিনিয়ত উত্তর-আমেরিকা বা ইউরোপে ভ্রমণ করতে হয় তারা যাতে এসব কিছু দেখে হইচই ফেলে না দেয় এবং যাতে করে ধর্মকে কঠিন করে না ফেলে।

আয়ারল্যান্ডে গিয়ে আমি সেখানকার আইরিশ পরিবারসমূহ এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের সাথে তাদের উৎসব উদযাপন করেছি এবং আমি এটি অনুভব করেছি যে, আমিই ছিলাম সেখানকার একমাত্র নারী যিনি তার মাথার চুল ঢেকে রেখেছেন।

খাবার টেবিলে বসে আমি এও বুঝতে পেরেছি যে, আমিই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যিনি এ্যালকোহল পান করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন।

সেখানকার সবখানেই এ্যালকোহলের ছড়াছড়ি। আধুনিক কোনো খ্রিস্টান এ্যালকোহল পান করেন না এমনটির অর্থ হচ্ছে তিনি সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে রয়েছেন।

মনে মনে আমি ‘ইস্তেগফার’ পড়ছিলাম এবং লক্ষ্য করেছিলাম যে, সেখানে উপস্থিত সকলেরই যেন সময় জ্ঞান হারিয়ে গেছে। লাল মদের বোতলের গায়ে লিখা ছিল ‘Casillero Del Diablo’ যার অর্থ করলে দাঁড়ায়- শয়তানের প্রাসাদ।

সূত্রঃ এবাউটইসলাম ডট নেটে প্রকাশিত ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত যুক্তরাজ্যের নাগরিক লরেন বুথের কলাম থেকে। লউরেন বুথ একজন টেলিভিশন এবং রেডিও উপস্থাপক, তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধর্ম, বিশ্বাস, রাজনীতি নিয়ে লেকচার প্রদান করে থাকেন। তার লিখা প্রথম বই ‘Finding Peace in the Holy Land – A British Muslim Memoir’ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

মূল প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

সাংবাদিকতাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে: গোঁড়া খ্রিস্টান থেকে ধর্মান্তরিত সারাহ

সারা প্রাইস: ইসলামিস্ট, জিহাদিস্ট, আই.এস.আই.এস, সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা, বোরকা, ৯/১১... ইত্যাদি তকমা... . . . বিস্তারিত

ফ্যাশন শিল্পে হিজাবের প্রাধান্য বেড়েই চলছে, আকার ৪৮৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকায়রো: বাংলাদেশি নাজমা খান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১১ বছর বয়সে। তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com