ধূমপান শরীরের সব অংশের ক্ষতি করে

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৮

ধূমপান শরীরের সব অংশের ক্ষতি করে

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: ধূমপান একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ও বিপদজনক অভ্যাস। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ সম্পর্কে জানে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ সিগারেটের প্যাকেটের গায়েই লেখা থাকে ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ধূমপানের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতি হয়’, ‘ধূমপান মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়’, ‘ধূমপান হৃদরোগের কারণ’, ‘ধূমপান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়’, এসব সতর্কতা সত্ত্বেও ধূমপানের হার বেড়েই চলেছে।

ধূমপান হল নিজেই নিজেকে ধীরে ধীরে অপমৃত্যুর দিকে এগিয়ে নেবার অপর নাম। আসুন জেনে নেই ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো হলো-

১. সিগারেটের কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়।

২. হার্ট এটাক ও স্ট্রোক ঘটায়।

৩. ধমনীতে (করনারি আর্টারি) ব্লকেজ তৈরি করে। তখন এনজিওপ্লাস্টি করে আর্টারিতে রিং পরাতে হয়, এই রিং ১০ বছরের মতন থাকে। এরপর অবস্থার উন্নতি না হলে বাইপাস সার্জারি (ওপেন হার্ট) করানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

৪.দিনে ২০ টা সিগারেট খাওয়া স্মোকার প্রতি বছর প্রায় ১ কাপ পরিমান টার(আলকাতরা) ধোঁয়ার সাথে ভেতরে নেয়। এই টার ফুসফুসে ঝুল সৃষ্টি করে আবৃত করে রাখে।

৫. কার্বন মনোক্সাইড আমাদের পেশি, টিস্যু ও ব্রেনের অক্সিজেনকে নিঃশেষ করে দেয়। ফলে হার্টকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় এসব টিস্যুকে অক্সিজেনেটেড রাখতে। ফলে একসময় দেহের বায়ু প্রবেশপথ ফুলে ওঠে ও শেষে দেখা যায় ফুসফুসে কম বাতাস প্রবেশ করে।

৬. সিগারেট ফুসফুসে ‘এমফাইসেমা’ সৃষ্টি করে। ‘এমফাইসেমা’ হলে ধীরে ধীরে ফুসফুস পঁচে যায়। ‘এমফাইসেমা’ রোগীর যখন তখন ব্রংকাইটিস হয়ে থাকে। যেকোনো সময় হার্ট কিংবা ফুসফুসের স্পন্দন বন্ধ করে দিতে পারে।

৭. গর্ভাবস্থায় স্মোকিং করলে ঘনঘন গর্ভপাত, জন্মের আগেই বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে, আর বাচ্চার যদি জন্ম হয়ও দেখা যায় সেই বাচ্চা কম ওজন নিয়ে বা অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহন করে।

৮. এছাড়া সিগারেট মুখে বাজে গন্ধ সৃষ্টি করে। দাঁতের ও মাড়ির ক্ষয় ঘটায়।

৯.সিগারেটের কারণে স্কিনে অক্সিজেন কম আসে, ফলে অল্প বয়সে বৃদ্ধদের মত রুক্ষ্ম ত্বকের সৃষ্টি হয়। এমনকি কম অক্সিজেনের কারণে অঙ্গে পঁচন দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত তা কেটে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না।

১০. হাড়ের ক্ষয় ঘটায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি আরো মারাত্মক। কেননা মেয়েরা এমনিতেই অস্টিওপরেসিসে ভোগে বেশি, তার উপর ধুমপায়ী মেয়েরা ১০-১৫% বেশি এ রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে পড়ে।

১১. পাকস্থলীর ক্যান্সার বা আলসার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ব্লাডারের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং দেখা যায়, স্মোকিং হল নিজেই নিজেকে ধীরে ধীরে অপমৃত্যুর দিকে এগিয়ে নেবার অপর নাম।

মন্তব্য

মতামত দিন

জীবন পাতার আরো খবর

ধর্মান্তর যাত্রায় কাতিয়া কোতোভার এক কঠিন সংগ্রামের গল্প

ধর্মান্তর যাত্রায় কাতিয়া কোতোভার এক কঠিন সংগ্রামের গল্পআন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনমস্কো: রুশ তরুণী কাতিয়া কোতোভা এক কঠিন . . . বিস্তারিত

জলবায়ু পরিবর্তনে যেভাবে ভূমিকা রাখছে সিমেন্ট

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: মানুষের তৈরি যেসব সামগ্রী সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তার একটি সিমেন্ট। পানির পরেই এই জিনিসটি ব্যবহ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com