প্রাণঘাতী হৃদরোগের জন্য দায়ী ‘জিন’ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

১৫ এপ্রিল,২০১৮

বিজ্ঞানীরা

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
লন্ডন: খুবই প্রাণঘাতী এক হৃদরোগের জন্য দায়ী কিছু জিন বিজ্ঞানীরা চিহ্ণিত করতে পেরেছেন যে ধরণের হৃদরোগে হদযন্ত্র বা ফুসফুস প্রতিস্থাপনই একমাত্র চিকিৎসা।

‘পালমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশন’ নামে পরিচিত এই হৃদরোগে আক্রান্তদের শতকরা পঞ্চাশ ভাগই সাধারণত পাঁচ বছরের মধ্যেই মারা যান। কিন্তু কেন কিছু মানুষ এই রোগটিতে আক্রান্ত হন সে সম্পর্কে এতদিন খুব কমই জানা গেছে। খবর বিবিসি

কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, তারা এই হৃদরোগের জন্য দায় পাঁচটি জিন চিহ্ণিত করতে পেরেছেন।

এর ফলে এ ধরণের রোগ এখন অনেক আগে সনাক্ত করা যাবে এবং এর চিকিৎসাও সম্ভব হবে বলে আশা করছেন চিকিৎকরা।

ব্রিটেনে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ পালমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশনে (পিএএইচ) আক্রান্ত। যারা এই রোগে আক্রান্ত হন তাদের হৃদযন্ত্র থেকে যে ধমনী বা রক্তনালী দিয়ে রক্ত ফুসফুসে যায়, সেই ধমনী মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশংকা থাকে।

সাধারণত যাদের হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসে অন্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রেই এই রোগটা বেশি দেখা যায়। তবে যে কোন লোকেরই এই রোগ হতে পারে এবং তা কোন সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই।

এ ধরণের রোগে আক্রান্তদের একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা। কিন্তু ব্রিটেনের মতো দেশে হৃদযন্ত্র বা ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, কারণ প্রতিস্থাপন করার মতো অঙ্গের সংকট আছে। আর অনেক সময়েই প্রতিস্থাপন করা হৃদযন্ত্র বা ফুসফুস কারও শরীর প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

এই গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের একজন এবং ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক নিক মোরেল বলেন, এই জিনগুলোর বৈশিষ্ট্য চিহ্ণিত করার মাধ্যমে তারা এখন বুঝতে পারেন কিভাবে এই রোগটি হয়।

‘এর ফলে এখন আমরা এই রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসায় নতুন উপায় খুঁজে পাব বলে আশা করি।’

যে শহরে নিঃসঙ্গ মানুষদের সঙ্গ দেবার আয়োজন হয়েছে

নিঃসঙ্গ জীবন অনেকের কাছে একটি বড় ব্যাধির মতো। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এ সমস্যা অনেক প্রকট। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে নিঃসঙ্গতা মানুষকে চূড়ান্ত অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।

অ্যালকোহল, সিগারেট এবং মোটা হয়ে যাবার মতোই নিঃসঙ্গতাও খারাপ বিষয়। এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য ব্রিটেনের একটি শহরে অভিনব এক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নিঃসঙ্গ বৃদ্ধদের সঙ্গ দেয়া এর মূল উদ্দেশ্য। ইংল্যান্ডের পশ্চিমে ফ্রোম নামের ছোট এক শহরে এটি চালু হয়েছে। বৃদ্ধা সু তার বাড়িতে একা থাকেন এবং তিনি ঘরের বাইরে যেতে পারেন না।

এ শহরের একজন বৃদ্ধ বলেন, আমাকে নানা ধরনের মানুষ দেখতে আসে। এটাই আমার দরকার। এটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়। আমি তখন ভাবতে পারি যে পৃথিবীতে ভালো কিছু আছে।

তিনি বলেন, বৃদ্ধ হওয়ার সাথে-সাথে মানুষের জীবনও বদলে যায়। ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে চলে যায়।

সু বলেন, নিঃসঙ্গ জীবন কেমন সেটা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

একা থাকতে-থাকতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একজন ডাক্তার এ কাজ শুরু করেন। সেখানে মানুষের নিঃসঙ্গতা যেভাবে বেড়ে যাচ্ছিল তাতে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

চিকিৎসক হেলেন কিংস্টন বলেন, আপনি যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং কারো সাথে আপনার যোগাযোগ না থাকে তখন আপনি নিজেকেও ঠিক রাখতে পারবেন না।

২০১৩ সালে চিকিৎসক হেলেন চিন্তা করেন কীভাবে বৃদ্ধ মানুষদের নিঃসঙ্গতা দূর করা যায়। নিঃসঙ্গ মানুষদের চাহিদা নিরূপণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হতো। হেলথ সেন্টারে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধদের জন্য একটি কক্ষ রাখা হয়েছে।

সেখানে সবাইকে একত্রিত করে প্রতিদিন নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করানো হয়। এতে তাদের সময় কাটে এবং পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বাড়ে।

শুধু তাই নয়। চিকিৎসক হেলেন বলছেন তারা একটি একটি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন যেখানে প্রায় ৫০০ মানুষ আছে যারা বৃদ্ধদের সময় দেন। প্রত্যেকে প্রতি বছর ২০ জন বৃদ্ধের সাথে কথা বলেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০ হাজার বৃদ্ধকে পুরো বছরে সময় দেয়া যায়।

বৃদ্ধা সু বলছেন, একদিন আমকে ফোন করে বলা হলো একজন আমাকে দেখতে আসবে। আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল বলে বোঝাতে পারবো না।

এর পর থেকে কেউ না কেউ নিয়মিত বৃদ্ধা সু’র বাসায় আসতে থাকে এবং তার খোঁজ-খবর নেয়। তখন থেকে সু শারীরিকভাবেও সুস্থ হয়ে উঠেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

জীবন পাতার আরো খবর

চীনের নাস্তিক কমিউনিস্ট পার্টি যেভাবে ইসলাম নির্মূলের চেষ্টা করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবেইজিং: চীনের লিনজিয়া শহরের সবুজ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি এখনো চীনের আকাশচুম্বী ‘লিটল মক্কা . . . বিস্তারিত

ভিডিও গেমে আসক্তি বাংলাদেশের চিত্র কী?

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা আকলিমা মতিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার দুই সন্তান ছুটির দিনের অবসরে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com