‘সরকার বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করে না, প্রমাণিত হয়েছে’

১২ মার্চ,২০১৮

‘সরকার বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করে না, প্রমাণিত হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন আদেশের প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন। সরকার বিচার কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করে না তা এই আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া কবে ছাড়া পাবেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি জেলখানায় যাওয়ার পরই কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পাবেন। তবে দেখার বিষয় আদালতের আদেশটি ছোট না বড়?’

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত এক মাসের অধিকসময় তিনে জেলে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট

ঢাকা: বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে কারা অভ্যন্তরে থাকা খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। সোমবার দুপুর আড়াইটায় হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আজ সোমবার দুপুরে এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল।

সোমবার আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে তাকে চার মাসের জামিন দেন।

অবশ্য গতকাল রোববারই এই আবেদনের আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে না পৌঁছায় আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন। পরে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নিম্ন আদালত থেকে রায়ের নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর পরই গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। সেইসঙ্গে স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার মামলার নথি নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে এসে পৌঁছানোর পরই আদেশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এ মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তার মধ্যে তিনজন পলাতক। এই তিনজন হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

গ্রীসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চরমে, সাইপ্রাসে আরো সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এরেদাগানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনআঙ্কারা: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তুর্কিস সাইপ্রাসে (সাইপ্রাসের উত্ত . . . বিস্তারিত

ইউরোপ-আমেরিকায় নারীদের জন্য আলাদা মসজিদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকোপেহেগেন: মসজিদের নিচের তলায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ, ইমামদের দ্বারা চুপচাপ থাকার নির্দেশ এবং মূল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com