বিপ্লব নয়, সামাজিক পরিবর্তনের পদধ্বনি

১৩ আগস্ট,২০১৭

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই হাজারো সমস্যা। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে সমস্যা নেই কেউ দাবি করতে পারবেন। এতে প্রতিনিয়ত হাবুডুবু খাচ্ছে নাগরিক জীবন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় সমস্যাগুলো এখন এতটাই প্রকট আকার যে, নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে, এমন কী স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার গ্যারান্টিও নেই। ফলে বলা যায়, নাগরিকজীবনের এসব সমস্যা সমাধানে রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ। এমন কী তাদের ভুমিকা সম্পর্কেও জনমনে এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।
 
এমতাবস্থায় সমাজের এই সমস্যাগুলোকে জয় করার জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন থেকেই অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণে এক ধরনের দায়বদ্ধতাও অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সেটা তেমন একটা জোরালোভাবে অগ্রসর হতে পারছে না।

এদিকে সমস্যায় যখন জনগণই আক্রান্ত হয়েছে তখন সমাধানও তাদেরকেই বের করতে হবে এমন কথা দেশি-বিদেশি মহলের কাছ থেকে বারবার উচ্চারিত হয়ে আসছে। আর বাস্তবতার নিরিখেই সব চাইতে সম্ভাব্য এবং যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান হচ্ছে- একটি সামাজিক পরিবর্তন বা সামাজিক বিপ্লব।

আমরা যদি সামাজিক পরিস্থিতি আর পিপলস্ সেন্টিমেন্টের দিকে একটু খেয়াল করি তবে দেখতে পাই- সামাজিক সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক সমস্যা এবং অপরাধ প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, সেই সাথে প্রতিবাদের মাত্রাও বাড়ছে। আগের মতো আর মানুষ নীরবে সব কিছু সহ্য করছে না। ক্রমেই প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরাও আগের তুলনায় বেশ সাহসী হয়ে উঠছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এটা একটা শুভ লক্ষণ। 

আমরা দেখতে পাচ্ছি, সমাজে নানা রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও দলমত নির্বিশেষে বেশ কিছু ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ জনগণ সামাজিকভাবে প্রতিবাদ করছে। কখনও কখনও তা বিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখ করা যেতে পারে- নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌনহয়রানি, বিচারবর্হিভুত হত্যা তথা ক্রসফায়ার কিংবা বন্দুকযুদ্ধ, দুর্নীতি, সড়ক দুর্ঘটনা, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে মানুষ ক্রমেই প্রতিবাদমুখর হচ্ছে।

এক্ষেত্রে শুধু সাধারণ জনগণই নয়, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-শিক্ষক, নারী -শিশু, যুব-কিশোর, আইনজীবী, সাংবাদিক এমন কী কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদরাও একই সূরে কথা বলছেন। প্রতিবাদটা যেমন হচ্ছে প্রকাশ্যে,তেমনি ভার্চুয়াল জগতেও। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অন্যায়-অবিচার, সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদমুখ হয়ে উঠেছে তরুণ ও যুবসমাজ। 
   
অন্যদিকে বলা যায়, ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে গড়ে উঠা আন্দোলনের ব্যর্থতা আর বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিরোধী জোটের আন্দোলন-সংগ্রাম থমকে গেছে। বিরোধী জোট গেল সাড়ে তিন বছরে ইস্যুতেই হরতাল-ধর্মঘটের মতো কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়নি। এছাড়া দেশে বর্তমানে বড় ধরনের জুটঝামেলাও নেই। এতে রাজনীতি এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটা ভালো থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটা না হয়ে বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা অনেকটাই বেড়েছে। সরকার যাই বলুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের চলমান পরিস্থিতি যে ক্রমেই জটিল হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই ।

সরকারের মধ্যে এই অস্থিরতার পেছনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অপকর্ম, নারী কেলেঙ্কারি-ধর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আইসিটি অ্যাক্ট ধারা ৫৭ নিয়ে সমালোচনার ঝড়, সর্বশেষ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়- সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে সার্বিকভাবে আলামত খুব একটা ভাল নয়। এসব ইস্যুতে প্রায় সবাই একই বাক্যে কথা বলতে শুরু করেছেন।

মাঠে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং নারী নির্যাতন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য শাসক দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করে তথ্য দিয়েছে। এদিকে ক্রসফায়ারে নিহত ও বিচারবর্হিভুত হত্যা বিষয়েও প্রকাশ্যে ভিন্নমত পোষণ করে বক্তব্য দিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের অনেকেই। সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগের পাশাপাশি গণতন্ত্রের প্রশ্নে দেশে-বিদেশে জোরালো সমালোচনা হচ্ছে।

বিশেষ করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে সরকারে চরম অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের বক্তব্যে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করেছে। এ নিয়ে সবমহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত। সরকার ও বিরোধী পক্ষে তুমুল বাকযুদ্ধ। অস্বস্তি আর ভেতরে-বাইরে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে সরকারে। সরকার পক্ষ এ রায়ের প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করলেও বিরোধী পক্ষ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যায়িত করে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারপক্ষ পদত্যাগের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। তবে এ নিয়ে সরকার যে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে তা মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্যেই দৃশ্যত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আবার আমরা দুঃসময়ে পতিত হয়েছি, চক্রান্তের মুখে পতিত হয়েছি, আবারো ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনকে নস্যাত করার জন্য এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেতাকর্মীদেরকে মানসিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

ফলে বলা যায়- বেশ কিছু ইস্যুতে প্রায় সবমহল একই সূরে কথা বলছে এবং প্রতিবাদ করছে। এমন কী কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি জোটের ও বিরোধী নেতারা একই ধরনের কথা বলছেন। সবমিলেই দেশে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও সামাজিকভাবে যেভাবে জনগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাতে অনেকেই বলছেন, এটা একটা বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় একটা সামাজিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস, আবার অনেকে সামাজিক বিপ্লবের পদধ্বনি হিসেবে মনে করছেন।
 
যে যাই বলুক না কেন, বিষয়টা একেবারেই উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। আমরা যদি নিকট অতীতে মিশর, তিউসিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের দিকে তাকাই সেখানে কিন্তু এভাবেই মানুষ সামাজিক ইস্যুতে একত্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তা রাজনীতিকেও ধাক্কা দেয়।
 
এখন আমরা দেখি- যে সামাজিক পরিবর্তন বা বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে সেটা আসলে কী এবং আমাদের দেশে সে ধরনের কোনো পরিবর্তন সম্ভব কী না।

প্রথমেই আসি সামজিক বিপ্লব বলতে কি বোঝায়? আমরা জানি, বিপ্লব অর্থ আমুল পরিবর্তন; যে জিনিসটি যেভাবে যে অবস্থায় ছিল, সে জিনিসটিকে সে অবস্থায় না রেখে, সে অবস্থায় থাকতে না দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নতরভাবে ও ভিন্নতর অবস্থায় গড়ে তোলা। আর ‘সামাজিক বিপ্লব’ বলতে বোঝায়, মানুষের সমাজবদ্ধতাকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেয়া। যে চিন্তা-বিশ্বাস ও আদর্শের ওপর একটি সমাজ চলে আসছে, তাকে সম্পূর্ণ পরিহার করে ভিন্নতর চিন্তা-বিশ্বাস ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজটিকে গড়ে তোলা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং যে সামষ্টিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ তাকে সম্পূর্ণ ভিন্নতরভাবে গঠন ও পরিচালন এবং ভিন্নতর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা।

বস্তুত সমাজ বলতে মানুষের সামষ্টিক জীবন বোঝায়। মানুষের জন্য সমাজ ও সামষ্টিক জীবন অপরিহার্য। এইজন্য সমাজতত্ত্ববিদগণ মানুষকে সামাজিক জীব বলে অভিহিত করে আসছেন চিরকাল ধরেই। একটি আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠা পরিবারসমহের সমন্বয়েই গঠিত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ। এই পূর্ণাঙ্গতা সে লাভ করে তার জন্য অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে। অর্থাৎ সমাজকে সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করা এবং ক্রমশ বিকাশের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য একান্তই অপরিহার্য হচ্ছে রাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সরকার ।

এই রাষ্ট্রকেই সমাজের লোকদের জীবন-মান-সম্মান-সম্ভ্রম ও ধন-মালের নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়। পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদের সুষ্ঠু মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের জন্য প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা গঠন করতে হয়। জনগণের বৈষয়িক জীবনের সুষ্ঠুতার জন্য এমন একটি অর্থ ব্যবস্থা চালু করতে হয়, যদ্দারা প্রতিটি নাগরিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভ করবে এবং জীবিকা উপার্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে পারবে সকল প্রবঞ্চনা ও শোষণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে। সমাজের লোকদের প্রতিভা স্ফূরণ ও বিকাশ সাধনের জন্য ভদ্র, শিষ্ট, মানবিক জীবন-যাপনের যোগ্য বানানোর জন্য এবং ভবিষ্যত বংশধরদের উন্নতমানে গড়ে তোলার জন্য একটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও চালু রাখতে হয়। এ সবই একটি সমাজের পূর্ণত্বের জন্য অপরিহার্য শাখা-প্রশাখা।

আর এক্ষেত্রে রাষ্ট্র তথা রাজনীতিবিদরা যথাযথ ভুমিকা পালনে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাজে জনমনে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর সেই ক্ষোভ থেকেই সমাজে এক ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এক সময় তা বিপ্লবে রূপ নিয়ে থাকে। যা পরবর্তীতে রাজনীতিতেও পরিবর্তন নিয়ে আসে। 

তবে আপাতত দেশে সে ধরনের কোনো সামাজিক বিপ্লব কিংবা সামাজিক সংস্কারের কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না। কেননা, সামাজিক বিপ্লব কিংবা সামাজিক সংস্কারের জন্য যে ধরনের আদর্শভিত্তিক চিন্তাবিদ নেতৃত্ব কিংবা সমাজ সংস্কারক থাকা প্রয়োজন সেটা এখানে অনুপস্থিত। যেমনটি বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে অত্যাচারিত নিপিড়ীত আর অধিকার বঞ্চিত মানুষদের জন্যে আমেরিকায় নাগরিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন বিখ্যাত আফ্রিকান-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং এবং ফরাসী বিপ্লবে জ্যাঁ জ্যাক রুশো সাম্য মৈত্রি ও স্বাধীনতার স্লোগানে সামাজিক বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন তার পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক বিপ্লবে রূপ নিয়েছিল। তার অন্যতম স্লোগান ছিল ‘সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা মূল্যহীন’।

রুশো ও ভলতেয়ারের সাম্য ও স্বাধীনতার বাণী জনগণকে যেমনটি প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল তা এখানে অনুপস্থিত। ফলে সহজেই বলা যায় আমাদের দেশে আপাতত কোনো বিপ্লব সংঘটিত হবার সম্ভাবনা নেই। তবে নাগরিকদের মধ্যে যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে এক ধরনের সামাজিক পরিবর্তন আসতে পারে।তবে সেটার জন্যও জনগণকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আরো জোরালো করতে হবে। সাধারণ জনগণও মনে করে একটা পরিবর্তন আসা উচিত। তবে সেটা একেবারে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে, এখানে সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে সামাজিক বিপ্লব হবে না। কেননা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বত:স্ফুর্ত প্রতিবাদ থেকেই জনক্ষোভ বিপ্লবে রূপ নেয়। তবে সেটা সময়ই বলে দিবে। 
 
প্রসঙ্গত, আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও মালেয়শিয়ার সমাজ ব্যবস্থা থেকে। ৫০’ দশকের পর কোরিয়া ছিল পৃথিবীর গরীব দেশগুলোর অন্যতম। কিন্তু আজ  তারা অনেক উন্নত। নিজস্ব কৌশল নির্ধারণ করার পর শুধু পরিশ্রম আর দেশপ্রেম দিয়েই তারা সমাজ ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। আর আমাদের দেশে সবাই নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক দাবি করি। কিন্তু আমরা কি সত্যিই দেশপ্রেমিক?

এক্ষেত্রে অন্যদের দিকে তাকিয়ে আজ  আমাদের লজ্জাবোধ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।কেননা,গত ৪৫ বছরে আমাদের অবস্থা কোথায় থাকা উচিৎ ছিলো কিন্তু আমরা কোথায় আছি?

নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা,গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সামান্যতম এখানে নেই। প্রতিটি পদে পদে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নেই, অপুষ্টিতে এখানো শিশুরা, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, বিচারবর্হিভুত হত্যা, রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে নাগরিক অধিকার আজ  ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। এ সকল সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য দরকার সংগ্রাম। সম্মিলিত ধারাবাহিক আন্দালন-সংগ্রাম আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই সমাজের ভেতরকার এ সমস্যাগুলোকে জয় করা সম্ভব।

বর্তমানে যে সঙ্কটের কথা বলা হচ্ছে তা প্রতিবেশী যেকোনো দেশের তুলনায় নগণ্য। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধান হচ্ছে না একমাত্র রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণেই।

তাই একজন নাগরিক হিসেবে সকল শ্রেণীপেশার মানুষদের কাছে আহ্বান রাখতে চাই,  আসুন আমরা ব্যক্তি স্বার্থকে পরিহার করে দেশের প্রয়োজনে নিজেদের মেধাযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আর আমাদের বসে থাকার সময় নেই। একটি নতুন, উন্নত বাংলাদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। এজন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। আসুন ‘ওদের’ রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নিজেরা বদলে যাই ও দেশকে বদলে দেই। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তবেই সম্ভব সবার বসবাস উপযোগী একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলা।

মন্তব্য

মতামত দিন

মতামত পাতার আরো খবর

আজো গণতন্ত্র ও মুক্তির অন্বেষায় মানুষ গাছে উঠে

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: লেখার শুরুতেই আজ মনে পড়ে গেল সেই জালাল উদ্দিন মজুমদারের কথা। এইতো বছর দুয়েক আগে জাতীয় প্রেসক্ . . . বিস্তারিত

ধর্মবিশ্বাস নয়, তাদের বিপদের মূল কারণ রাজনৈতিক: সুমাইয়া

সুমাইয়া ঘানুচি: আমি যতবার পেয়েছি মাত্র এক পেনি করে, আমাকে বলা হলো ‘যত গণ্ডগোলের গোড়া হচ্ছে ধর্ম। নয়তো এত দিনে একজন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com